রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

​হিমবাহ যুদ্ধের ৩৫ বছর

‘ পৃথিবীর বৃহত্তম নন- পোলার গ্লেসিয়ারসিয়াচেন ও আশপাশের হিমবাহগুলিতে ছড়িয়ে পড়া পৃথিবীর ইতিহাসে এযাবৎ দীর্ঘতম যুদ্ধ। পাগলের মতো ভারত ও পাকিস্তান এই অযৌক্তিক লড়াই লড়ছে।

---- প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার কথা লিখছেন বায়ুসেনার প্রাক্তন সৈনিক কথাসাহিত্যিক শ্যামল ভট্টাচার্য । 

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সারা পৃথিবী যখন প্রেম দিবস পালনে মত্ত, জম্মু ও কাশ্মীরেরপুলওয়ামায় ভূ-স্বর্গেরশান্তি শৃংখলা বজায় রাখার কাজে রওয়ানা হওয়া সিআরপিএফ কনভয়ে সন্ত্রাসবাদীদের আত্মঘাতী হামলায় শ্মশান নেমে আসে অসংখ্য জওয়ান পরিবারে। শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে সারা দেশ। আর তার কয়েকদিন পরই ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বালাকোটে সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ভোররাতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হানে। অতঃপর প্রবল পৌরুষে রোঁয়া ফুলিয়ে দুই বিকটাকার হুলো রাস্ট্র ফ্যাস ফোঁস শুরু করে। দুজনের ঘরেই মজুত পরমাণু বোমা নিয়েও দু দেশের সংবাদমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়। তুই বিড়াল না মুই বিড়াল! লোকসভা ভোট সামনে রেখে দেশের শাসক ও বিরোধীদের মধ্যেও তরজা চলতে থাকে। বালাকোটে জৈশ-ই –মহম্মদের শিবিরে বিমানহানায় জঙ্গি-মৃত্যু নিয়ে কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের প্রশ্ন নিয়ে বারবার কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী ও শাসক দলের অন্যান্য নেতারা।

আমরা স্নান খাওয়া ভুলে টিভিতে আর মোবাইলে দুই হুলো রাস্ট্রের ফোঁসফাঁস দেখি এবং ঘরে- বাইরে – কাজের জায়গায় লাথি খাওয়া জীবনে কিছুটা উত্তেজনা অনুভব করি। কিন্তু অনায়াসে ভুলে যাই অথবা অনেকে জানিই না যে এই ১৩ এপ্রিলে সিয়াচেন যুদ্ধের ৩৫ বছর পূর্ণ হল। কাশ্মীরের উত্তরভাগে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কুড়ি হাজার ফিটেরও বেশি উঁচু সিয়াচেন হিমবাহ ও আশপাশের এলাকায় দুই গরিব দেশের মধ্যে এই দীর্ঘকালীন অঘোষিত লড়াইয়ের একজন সৌভাগ্যক্রমে ফিরে আসা প্রাক্তন সৈনিক হিসেবে আমি এই যুদ্ধের অবসান চাই।

আজ সিয়াচেনে ভারত সারাবছর গড়ে প্রায় দশহাজার সেনা মোতায়েন রাখে। পাকিস্তানও কম যায় না। অথচ প্রবল গ্রীষ্মেও সেখানে ঋণাত্মক তাপমান থাকে, শীতকালে নামে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও নীচে। সাসে ( স্নো এন্ড অ্যাভলাঞ্চেস স্টাডি এস্টাব্লিশমেন্ট )–এর রেকর্ড অনুযায়ী সর্বনিম্নমাইনাস বাহাত্তর ডিগ্রি সেলসিয়াস। বরফের গুহা কিম্বা ইগলুতে বসবাস করতে হয়। অনেক ফরোয়ার্ড পোস্টেই অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে রাতে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে ঘুমাতে হয়।

পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকার হিসেব অনুযায়ী ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৯ এর মধ্যে ১৫ বছরে ১৩০০ র বেশি আর আনুমানিকভাবে গত ৩৫ বছরে প্রত্যেক চারদিনে গড়ে একজন পাকিস্তানি সৈন্য মারা গিয়েছে। আর ইন্ডিয়া টুডে-র হিসেব অনুযায়ী গত ৩৫ বছরে প্রত্যেক তিনদিনে গড়ে একজন করে ভারতীয় সৈন্য শহীদ হয়েছেন। দু’দেশের অধিকাংশ সৈনিকের মৃত্যু হয়েছে যখন তখন হুড়মুড় করে নেমে আসা তুষার ধস আর অমানবিক অতিপ্রাকৃতিক আবহাওয়ার কারণে।

লাদাখি ভাষায় সিয়াচেন শব্দের মানে হল ‘গোলাপের বাগান’ বা ‘বন্য গোলাপ’। কিন্তু হিমবাহ যুদ্ধে মোতায়েন যে কোনও সৈনিকের কাছে সিয়াচেন একটি জমে বরফ হয়ে থাকা হাবিয়া দোজখ। পূর্ব কারাকোরামে ৩৫.৫ডিগ্রি উত্তর ও ৭৬.৯ডিগ্রি পূর্ব ভৌগোলিক বিন্দুর কাছাকাছি সালতোরো পর্বতশ্রেণি ও মুখ্য কারাকোরামের মাঝে পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম এই হিমবাহের দৈর্ঘ্য ৭৩কিমি-র সামান্য বেশি ( ১৯৮৪তে ৭৮কিমি ছিল) আর গড় উচ্চতা প্রায় ১৭ হাজার ৭০০ ফুট বা পাঁচ হাজার চারশো মিটার। উত্তর মধ্য এশিয়ার খিরগিস্তান, পূর্বে চীন, উত্তর পশ্চিমে আফগানিস্তান, আর পশ্চিমে পাকিস্তান। সালতোরো পর্বতশ্রেণি শুরু হয় কারাকোরামের সিয়া কাঙ্গরির (২৪০০০ফুট)পাশ থেকে। সালতোরোর দুটি উল্লেখযোগ্য গিরিবর্ত্মের নাম সিয়া লা (২০০০০ ফুট) আর বিলা ফোন্ড লা (১৯০০০ ফুট)। সিয়াচেন হিমবাহের সর্বোচ্চ স্থানকে ভারতীয় সেনাবাহিনী নাম দিয়েছে ‘ইন্দিরা কোল’। সেখান থেকে প্রায় ৭৫ কিমি. দক্ষিণে, বর্তমান ভারতীয় সেনাবাহিনীর বেসক্যাম্পের কাছে নুব্রা নদীর উৎপত্তি। সিয়াচেনের বরফগলা জল ওই নুব্রা নদীতে প্রবাহিত হয়ে খালসারের কাছে তিরিত গ্রামে মধ্য কারাকোরাম থেকে আসা শিয়োক নদের সঙ্গে মিলিত হয়। ইন্দিরা রিডজ এর উত্তর-পূর্বে রয়েছে চীন ও পাক অধিকৃত শাক্সগাম উপত্যকা।

# সিয়াচেন যুদ্ধের প্রেক্ষিত

১৯৪৭-এ দেশভাগের পর নতুন জন্ম নেওয়া পাকিস্তান ও ভারত কাশ্মীরের দখল নিয়ে যুদ্ধ করে। ১৯৪৯-এর জুলাই মাসে সেই যুদ্ধের অবসানকল্পে করাচি চুক্তি হয়। করাচি চুক্তিতে খোর ( এনজি ৯৮৪২ ঃ ল্যাটিচিউড ৯৮ ডিগ্রি পূর্ব আর লঙ্গিচিউড ৪২ডিগ্রি উত্তর।)গ্রামের উত্তরের অঞ্চলটি যেহেতু দুর্গম, মনুষ্যবাসের অনুপযোগী এবং সেই সময় এই অঞ্চলের কোনও মানচিত্র আঁকা না থাকায় সেটিকে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ ঘোষণা করা হয়। ১৯৭২-এর সিমলা চুক্তিতেও এই ঘোষণাই বহাল রাখা হয়। যদিও তার আগে ১৯৭১এর যুদ্ধে খালসার থেকে গোর্খা রিডজ অবধি বিস্তৃত তুরতুক উপত্যকা দখল করে নিয়েছে লাদাখ স্কোয়াডের ভারতীয় সৈনিকরা।

১৯৫৩-তে স্যর এডমুন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগের এভারেস্ট বিজয়ের পরের দশকে চো অয়ু, লোহৎসে, ধৌলাগিরি ও কাঞ্চনজঙ্ঘাসহ নেপাল ও ভারতে পূর্ব হিমালয়ের প্রায় সব উচ্চতম শৃঙ্গবিজয়ের পর পর্বতারোহীদের নজর যায় কারাকোরামের দিকে। কারাকোরামেই রয়েছে কে-টু বা গডউইন অস্টিনসহ বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ শৃঙ্গের মধ্যে চারটি। ১৯৫৪-তেই একটি ইতালিয়ান দল কে-টু জয় করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ তাঁরা কেউ জীবিত ফেরেনি। কিন্তু ১৯৬২-র চীন ভারত যুদ্ধ আর ১৯৬৫ ও ১৯৭১-এর ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ কারাকোরামের দরজা বন্ধ করে রাখে।

১৯৭৪-এ পাকিস্তানের পর্যটন মন্ত্রক অভিযাত্রীদের জন্যে কে-টু সন্নিহিত বালতোরো হিমবাহ এবং সিয়াচেনের কাছে নো-ম্যানস ল্যান্ডে যাওয়ার অনুমতি দেয়। ভারত এটা জানতো না!

১৯৭৪ থেকে ১৯৮১-র মধ্যে কমপক্ষে ১৬টি অভিযাত্রী দল এই অঞ্চলগুলিতে এবং আরও এগিয়ে সিয়াচেনে অভিযান সেরে ফিরে যায়। এদের মধ্যে ১১টি দল ছিল জাপানের, তিনটি অস্ট্রিয়ার, আর একটি করে ব্রিটেন ও আমেরিকার। এই অভিযাত্রীরা ফিরে গিয়ে যেসব রিপোর্ট লেখে, স্বাভাবিকভাবেই সেগুলিতে দেখানো হয় যে সিয়াচেন পাকিস্তানের দখলে রয়েছে। এর প্রভাবে পাকিস্তানও ভাবতে শুরু করে যে এই অঞ্চল তাদেরই। আজও তাঁরা মালিকানার প্রমাণ হিসেবে এই অভিযানগুলির রিপোর্ট পেশ করে।

ভারত প্রথম এই তথ্য জানতে পারে ১৯৭৮এ। ১৯৭৮-এ প্রথম কর্নেল নরেন্দ্র বুল কুমারের নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি অভিযাত্রী দলওই এলাকায় তেরাম কাঙ্গরিঅবধি অভিযান করে ফিরে আসে।

১৯৮১র গ্রীষ্মে ‘বুল’ কুমার ৭০জনের টিম নিয়ে সিয়াচেনের উৎস সন্ধানে অভিযানে যান। ৮ সপ্তাহ সময়ের মধ্যে তাঁরা ২৫,৪০০ফিট উঁচু সালতোরো কাঙ্গরি এবং ২৪,৩৫০ফিট উঁচু ইন্দিরা কোল-এ সিয়াচেন গ্লেসিয়ারের সর্বোচ্চ এলাকায় পৌঁছোন, স্কি করে বিলা ফোন্ডলা দিয়ে নেমে আসেন। তখন সেখানে কোনও জনপ্রাণীও ছিল না! কিন্তু তাঁরা পাকিস্তানি উপস্থিতির কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করে আনে। পাকিস্তানি কোম্পানির লেভেল লাগানো টিন ক্যান, সিগারেট প্যাকেট, জার্মান ও জাপানি বেশ কিছু যন্ত্রাংশ। এগুলিই প্রমাণ যে পাকিস্তান NJ9842 এর উত্তরে চুক্তিতে উল্লিখিত ‘থেন্স নর্থ টু দ্য গ্লেসিয়ার’ অঞ্চলে ভারতকে না জানিয়েই সৈন্য ও অভিযাত্রীদল পাঠাচ্ছে। কর্নেল বুলের রিপোর্ট অনুসারে জেনারেল ছিব্বার তখন ভারত সরকারের কাছে ওই অঞ্চলে মিলিটারি অপারেশনের অনুমতি চান। এই বিষয় নিয়ে প্রথম কলম ধরেন ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার সাংবাদিক জয়দীপ সরকার। তিনিই প্রথম তাঁর একটি প্রতিবেদনে ওই এলাকায় একটি যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। লেখাটি লন্ডনের ‘আল্পাইন জার্নাল’-এ ‘ওরোপলিটিক্স’ শিরোনামে পুনর্মুদ্রিত হয় ১৯৮৪তে।

পূর্বোক্ত ইওরোপিয়ান অভিযাত্রীরা নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে অভিযানের বর্ণনা লিখে যেসব বই প্রকাশ করেন সেগুলিতেও সিয়াচেন সন্নিহিত অঞ্চল থেকে পূর্ব কারাকোরাম অবধি বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে পাকিস্তানের অংশ বলে দেখানো হয়। এই নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘে হৈ চৈ শুরু হয়। ইতিমধ্যে ১৯৮৪তেই পাকিস্তান সরকার একটি জাপানি অভিযাত্রী দলকে সিয়াচেনের পূর্বে অবস্থিত রিমো পর্বতশৃঙ্গ অভিযানের অনুমতি দিয়েছে। রিমো চীন অধিকৃত ভারতীয় ভূখন্ডের (আক্সাই চীন) কাছাকাছি।এই খবর পেয়ে ১৯৮৪-র ১৩ এপ্রিল মাঝরাতেভারত লাদাখ স্কাউটের দুটো প্ল্যাটুন সিয়াচেনে এয়ারড্রপ করে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন মেঘদূত’।

১৭ এপ্রিলে দুটো পাকিস্তানি হেলিকপ্টার সিয়াচেনে পরিদর্শন সমীক্ষায় আসে। ভারতীয়সৈন্যরা তাদের দেখতে পেয়ে গুলি ছোঁড়ে। সেটাই ছিল হিমবাহ যুদ্ধের প্রথম গুলী। ২০ এপ্রিলেই পাকিস্তানও ওই অঞ্চলে সেনা মোতায়েন করে। যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ব্রিগেডিয়ার মুহম্মদ বশির বাজ, একজন পাকিস্তানি হেলিকপ্টার পাইলট, তিনি ১৯৮৭-৮৯ ওই এলাকায় ডিউটি করেছেন। তাঁর মতে, শুরু থেকেই দুদিকের সৈনিকরা একের পর এক শৃঙ্গবিজয় করতে শুরু করে, পাকিস্তানিরা সালতোরোর যে যে শৃঙ্গ দখল করে, তার পাশের শৃঙ্গগুলিই ভারতীয়রা দখল করে।আর এমনভাবেই ক্রমে বাইশ হাজার ফিট উঁচু হিমবাহের পার্শ্ববর্তী সর্বশেষ শৃঙ্গ পর্যন্ত যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

জেনারেল ছিব্বারের কৌশলে ভারতীয় পোস্টগুলি এখন বেশি উঁচু জায়গায় রয়েছে। তিনি অনুভব করেন যে ওই পাসগুলিকে দখলে রাখতে হলে ভারতীয় সৈন্যদের শীতকালেও ওই উচ্চতায় থাকতে হবে! এভাবে জন্ম নিল একটি নতুন ধরণের যুদ্ধ। তিনি সৈনিকদের প্রতিকূলতা কম করার সবরকম চেষ্টা করেন;আকাশপথে একের পর এক আন্টার্কটিকা অভিযানের জন্য তৈরি রেডিমেড ফাইবারগ্লাসের ইগলু নিয়ে গিয়ে প্যারাড্রপ করাতে থাকেন, দলাই লামাকে অনুরোধ করে লাদাখি সৈনিকদের জন্য তাঁর আশীর্বাদধন্য রেশমের রাখি বিতরণ করেন। ১৯৮৫সালেই অবশ্য পাকিস্তানিরা বিলাফোণ্ডলা আক্রমণ করে, কিন্তু ভারতীয় সেনাকে সেখান থেকে হটাতে পারেনা! পরের বসন্ত পর্যন্ত তাঁরা অনড় থাকে। কিন্তু ইতিমধ্যেই অতিপ্রাকৃতিক পরিবেশে অপ্রতুল পোশাক আশাক, চিকিৎসার অভাব ও খাবারের অপ্রতুলতায় তাঁদের অনেকেই শহীদ হয়েছেন, আবার অনেকে নিখোঁজ। ইতিমধ্যেই পরবর্তী রেজিমেন্ট প্যারাড্রপ হয়। আর তারপর থেকেই শুরু হয়ে যায় এই হিমবাহ দখলের প্রতিযোগিতার যুদ্ধ। ধীরে ধীরে উভয় পক্ষই স্থলপথে সেনা পাঠাতে শুরু করে। কারগিল যুদ্ধের অনেক আগেই উভয় দেশ ওই অঞ্চলে প্রায় দশহাজার করে সেনা মোতায়েন করে।

সেখানে কোনও ‘লাইন অফ কন্ট্রোল’ নেই। সেজন্যে সুযোগ পেলেই একে অন্যের পোস্ট দখল করার লড়াই চলছে অবিরাম। ওই বিশাল সেনাবাহিনীর জন্যে ভারত সরকারকে প্রতিবছর আকাশপথে প্রায় ৬০০০টনগোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র, খাবার ও ঔষধ পৌঁছুতে হয়, আর প্রায় সমপরিমাণ আকাশ থেকে প্যারাড্রপ করতে হয়।

বরফের উপর খাঁজকাটা পিএসপি শিট পেতে তৈরি হয় একেকটি হেলিপ্যাড। ফরোয়ার্ড বেসগুলিতে সারি দিয়ে বরফভরা কেরোসিনের খালি জেরিক্যান থাকে থাকে বসিয়ে মাঝে বরফ দিয়ে তার উপর পিএসপি শিট পেতে হেলিপ্যাড বানানো হয়। সেসব জায়গায় হেলিকপ্টার নামে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের জন্য। এর মধ্যেই মালপত্র নামানো আর কোনও মারাত্মক অসুস্থ সৈনিক থাকলে তাঁকে তাড়াতাড়ি হেলিকপ্টারে তুলে দিতে হয়। না হলে যেকোন মুহূর্তে শত্রুর গোলার নিশানা হয়ে পড়বে ওই হেলিকপ্টার।

তবে শত্রুর গোলার চাইতে অনেক বেশি মৃত্যুর কারণ হয় অতিপ্রাকৃতিক ও ভয়ংকর আবহাওয়ার জন্যে । ফ্রস্টবাইট, চিল্ড ব্লেইন ছাড়াও ফুসফুসে ফ্লুইড জমে হাই-অল্টিচিউড পাল্মোনারি ওডেমা বা হ্যাপো রোগে অনেকের মৃত্যু হয়। হাতের আঙ্গুল, পায়ের আঙ্গুল, গোড়ালি কিম্বা নাক কাটা যায়। অনেক সময় রোগেরা মিলেমিশে শিকড়বাকড় গজিয়ে মহীরুহ হয়ে পড়ে। তখন তিলে তিলে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে শেষ হয়ে যায় একেকটি যুবক।

অধিকাংশ সৈনিক মৃত্যুকে ভয় পায় না। তাঁরা ভয় পায় পঙ্গু হয়ে ফিরে আসাকে। এ যাবৎ এই যুদ্ধে দুই পক্ষেরই যত সৈনিক মারা গেছে তার কয়েকগুণ বেশি সৈনিক পঙ্গু হয়ে ফিরেছে। হাত-পা কিংবা নাক কাটার চাইতেও সৈনিকরা বেশি ভয় পায় অন্ধ, স্মৃতিভ্রষ্ট কিংবা নপুংসক হয়ে ফেরাকে। বরফে আলোর প্রতিফলন, অতিরিক্ত শৈত্য ও অক্সিজেন স্বল্পতা অনেক তাগড়া জোয়ানকে এহেন অসহায় পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেয়।

দীর্ঘদিন সৈনিকরা স্নান করতে পারে না। চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া স্নানের সুযোগ নেই। জল কই? খাওয়ার জল, রান্নার (টিনফুড গরম করে ফোটানো) জল, সবই তো তুষারপাতেজমা বরফ গলিয়ে তৈরি করতে হয়। একটি বড় বিস্কুটের টিনভরা বরফ গলালে মাত্র দুই থেকে সোয়া দুই লিটার জল পাওয়া যায়। গলানোর জন্য কয়েক ঘন্টা কেরোসিন স্টোভ জ্বালিয়ে রাখতে হয়। সেই কেরোসিনের ধোঁয়া ইগলু কিম্বা বরফের গুহার ভেতর সব কালো করে দেয়। থুতু ফেললেও কালি বেরোয়।

অক্সিজেন স্বল্পতার জন্যে কারও খুব একটা খিদে পায় না। খেলেও হজম হয় না। গ্যাস, অম্বল হয়। তার উপর সৈনিকরা এত ঠান্ডায় মলত্যাগ করার ভয়ে দিনের পর দিন ভারী খাবার না খেয়ে থাকে। কাজুবাদাম, কিসমিস, বাদাম, চীনাবাদাম, বিস্কুট, চকলেট,ও মিল্কমেড গুলে তৈরি দুধই মূল খাদ্য। সবাই সাত আট দিন পর মলত্যাগ করতে যায়। সেসময় যতটা ঠান্ডা লাগে তা অবর্ণনীয়। সে জন্যই এরকম পরিবেশে বেশিদিন থাকলে নপুংসক হয়ে যায়। এই কষ্টের মধ্যেই পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে একদল সৈনিক।

কেন?

# বর্তমান পরিস্থিতি

এখন সিয়াচেন যুদ্ধে মোতায়েন হলে সৈনিকরা আগের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি অ্যালাউন্স পাওয়া যায়। জামাকাপড় আর জুতোও আগের থেকে অনেক উন্নত। সেজন্য ক্যাজুয়াল্টিও আগের তুলনায় অনেক কম। হিমবাহগুলি গলতে গলতে ক্রমে পিছিয়ে পড়ছে। সিয়াচেন গ্লেসিয়ারের কঠিন বরফে এত বেশি কার্বন ও কাঁকড় যে সেগুলি গলিয়ে জল খাওয়া বিপজ্জনক। একজন আভাওয়াবিদের কাছে শুনেছি, এগুলি নাকি হিরোশিমা –নাগাসাকির আণবিক বিস্ফোরণের ছাই। এই বক্তব্যের সমর্থনে কোনও প্রমাণ এখনও আমার হাতে আসেনি। তবে সাসের বৈজ্ঞানিকদের কাছে শুনেছি যে এই হিমবাহের জলে তীব্র তেজস্ক্রিয় উপাদান পাওয়া গেছে।

এখন নাকি প্রত্যেক সৈনিককে ১৪ জোড়া মোজা দেওয়া হয় ( আমাদের সময়ে ৬ জোড়া দেওয়া হতো) যাতে তিন্মাসের মধ্যে ধোয়ার কষ্ট না করতে হয়। ফেরার সময় এখন সবাইকে তিরিতের কাছে পানামিকের উষ্ণ প্রস্রবণে নিজের সমস্ত পোশাক ধুয়ে জমা করে আসতে হয়। সে জন্যে পানামিক এখন পৃথিবীর উচ্চতম ও বৃহত্তম ধোবিঘাঁটি।

এখন একটি চারইঞ্চি মোটা কালো প্লাস্টিকের পাইপ-এর মাধ্যমে বেসক্যাম্প থেকে পাম্প করে প্রয়োজনীয় কেরোসিন তেল পাঠানো হয়। ফলে এখন আর বিমান থেকে তেলের ড্রাম কিম্বা জেরিক্যান ড্রপ করতে হয় না!কিন্তু এখন প্রতিমাসে গড়ে দু’বার কোথাও না কোথাও এই পাইপ ফাটে, আর কয়েকঘণ্টার মধ্যেই তৎপরতার সঙ্গে সারানো হয়। কিন্তু তাঁর মাঝে প্রত্যেকবারে গড়ে প্রায় সাতহাজার লিটার কেরোসিন তেল হিমবাহে এবং বরফের ফাটলগুলিতে বয়ে যায়। এই তেল এবং যুদ্ধবর্জ্যের নানারকম জৈব – অজৈব ও রাসায়নিক দূষণ একদিন নুব্রার জলে মিশে শিয়োকে প্রবাহিত হবে, শিয়োক থেকে সিন্ধুনদ হয়ে ভারত ও পাকিস্তানের নানা জনপদকে কলুষিত করতে করতে, অনেক জীববৈচিত্র ধ্বংস করতে করতে আরবসাগরের জলে মিশে ধ্বংস করবে অনেক সামুদ্রিক প্রাণী ও উদ্ভিদ। মানবসভ্যতার কথা ভাবলে এই যুদ্ধক্ষেত্র এমনই কত যে ধ্বংস ও অপচয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও দূষিত পৃথিবী গড়ে তুলছে তার ইয়ত্তা নেই।

এখন পাকিস্তানিরা তাঁদের সমস্ত ফরোয়ার্ড বেস এবং অনেক ফরোয়ার্ড পোস্টে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করে ফেলেছে বলে তারা খাবারদাবার অস্ত্রশস্ত্র সবকিছু সড়ক পথেই পৌঁছে দিতে পারে। ভারতীয় সৈনিকদের জন্য খরদুংলা পাস – তিরিত – পানামিক- সাসোমা – বেসক্যাম্প হয়ে টেরাং টকপো রোড ধরে দ্বিতীয় বেসক্যাম্প অবধি এখন সড়কপথেই যাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু এখনও অনেক জরুরি মাল পরিবহনের দায়িত্ব নিতে হয় বিমানবাহিনীকে। কেননা ভারতের দিকে এই পথ ছয়মাস বরফে ঢাকা, যানবাহন চলাচলের অযোগ্য থাকে।

দু’দেশের আর্মির ডাক্তাররা এখন আগের থেকে অনেক সফলভাবে হাই অল্টিচিউড ওষুধপত্র ও চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যবহার শিখেছেন।

দু’দেশের ফরোয়ার্ড বেসগুলিতে এবং অনেক ফরোয়ার্ড পোস্টে সৌরশক্তির ব্যবহার বেড়েছে। পুলে সিস্টেমের মাধ্যমে বেস ক্যাম্প থেকে ফরোয়ার্ড বেসগুলিতে সাপ্লাই পাঠানোর ব্যবস্থা, বায়োডাইজেস্টারের মাধ্যমে মলমূত্র ও অন্যান্য বর্জ্যপদার্থের সুব্যবহার ইত্যাদি রপ্ত করে দু-পক্ষই এখন পৃথিবীর সেরা হাই অল্টিচিউড যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা রাখে। এই চরম অমানবিক পরিবেশকে এই দুই দেশের সেনাবাহিনী আজ কিছুটা হলেও বাসযোগ্য করে তুলেছে।

এখন সিয়াচেন হিমবাহের দুই-তৃতীয়াংশ ও পশ্চিমে সালতোরোর অধিকাংশ অবজারভেশন পোস্ট ভারতীয় সৈনিকদের দখলে। তবে গিয়োঙ লা আর কে-টু (গডউইন অস্টিন) –এর মধ্যবর্তী শাক্সগাম উপত্যকার পূর্বভাগ চীনা সেনাবাহিনীর দখলে। এখনও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাহায্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অভিযাত্রী দল কে-টু পর্বতাভিযান করছে। এখন পরিস্থিতি এমন যে পাকিস্তানিরা আর কোনও ভারতীয় পোস্ট দখল করতে পারবে না, আমাদের সেনাও আর পশ্চিমে যেতে পারবে না।

# সমাধানের পথ, চেষ্টা ও ফলাফল

দুর্ভাগ্যজনকভাবেইসিয়াচেন আজ দুই দেশের হাই অল্টিচিউড যুদ্ধ কৌশলের প্রয়োগ ক্ষেত্র এবং তার থেকেও বেশি করে উভয় দেশের কূটনীতির ফলিত গবেষণাক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধ থামানোর জন্য এখন পর্যন্ত দু’দেশের মধ্যে এগারোবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। দু- পক্ষই মেনে নিয়েছে যে এই যুদ্ধ অহেতুক, অযৌক্তিক এবং অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। কিন্তু প্রত্যেকবারই কেউ না কেউ পিছিয়ে গিয়েছে সামান্য অছিলায়, রাজনৈতিক চাপে কিম্বা অদৃশ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গুলিহেলনে।

বিশ্বের তাবড় তাবড় অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশগুলি থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে এই যুদ্ধের সরঞ্জাম কেনে ভারত ও পাকিস্তান। দু’দেশের গরিব মানুষের পয়সায় অস্ত্র কিনে পেটের দায়ে কিম্বা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া তাদেরই সন্তানরা ওইসব অস্ত্র প্রয়োগ করে একে অপরের প্রতি প্রবল আক্রোশে।

এই যুদ্ধ থেমে গেলে ওই দেশগুলির এই বিপুল বাণিজ্য থেমে যাবে যে! তাই চালিয়ে যেতে হবে। এই বাধ্যতার কথা সৈনিকরা জানবে না। দু-পক্ষই যে গর্বের লড়াই লড়ছে! শত্রুর বিরুদ্ধে জয়ের গর্ব এতটা না হলেও পরিস্থিতির বিরুদ্ধে জয়ের গর্ব অপরিসীম। এখন পৃথিবীর উচ্চতম যুদ্ধক্ষেত্রে আরও দীর্ঘকাল লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্যে দু- পক্ষই নাকি প্রস্তুত। অবশ্য এ ছাড়া ওদের আর কোনও উপায় আছেকি?

দু’দেশের কয়েকজন সেনানায়ক চেয়েছেন যাতে যুদ্ধ বন্ধ হয়। দ’দেশের সাংবাদিকরাও যুদ্ধ থামানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন বারবার। তাঁদের চাপে ২০০৫-এ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো গিয়োংলার ফরোয়ার্ড বেসে গিয়েছিলেন। তারপর ভারতের তৎকালীনপ্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ সিয়াচেনে যান। পরের বছর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডঃ এ পি জে আব্দুল কালামও সিয়াচেনে যান। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয় ‘সিজ ফায়ার’ ঘোষণায়। কিন্তু যুদ্ধ থামে না। দু’দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও যুদ্ধ থামে নি। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সিয়াচেনে গিয়ে সৈনিকদের সঙ্গে যোগাসন করে আসেন। পুলওয়ামা সন্ত্রাস এবং বালাকোটের বিমানহানার পর এই যুদ্ধ যে চলবে সে তো জানা কথাই।

এমনি চলতে থাকলে আমি নিশ্চিত যে কোনও দেশই ওই অঞ্চল থেকে সেনা সরাবে না। দু’দেশ যার যার দখল করা উচ্চতায় পর্যায়ক্রমে সৈনিক পাঠাতে থাকবে। না হলে যে কোনও দিন তথাকথিত ‘আজাদ কাশ্মীর’ এর ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’রা আবার অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারে, ‘ জৈশ-ই- মহম্মদ’ কিম্বা অন্য কোনও সন্ত্রাসবাদী তাঁদের দলে ভিড়ে যেতে পারে, ফলে মাতৃভূমি রক্ষায় ভারতীয় সৈনিক ও আধাসৈনিকদের ঝাপিয়ে পড়তেই হবে। আর এই বৈরী সম্পর্ক জিইয়ে রাখবে সিয়াচেনের যুদ্ধ ও বিদেশ থেকে প্রতিনিয়ত অস্ত্র ও অন্যান্য যুদ্ধ সরঞ্জামের জোগান।

এই যুদ্ধ থামানোর একমাত্র উপায় দু’দেশের জনগণের কাছে যেভাবেই হোক এর নৃশংসতা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও অন্যান্য কুফলগুলি তুলে ধরা, এর পেছনের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক ব্যবসাকে তুলে ধরা। গণচেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে জনপ্রতিনিধিদের উপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে উভয় সরকারকে নিঃশর্ত সেনা অপসারণে বাধ্য করা। ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটগুলিকেও আমরা কাজে লাগাতে পারি।

এমনিতেই বিশ্ব উষ্ণায়ণের ফলে সারা পৃথিবীর হিমবাহগুলি দ্রুত গলে শেষ হয়ে আসছে। তার উপর এহেন গোলাবারুদ আর নৈমিত্তিক প্রদুষণের মাধ্যমে নুব্রা, শিয়োক ও সিন্ধুর প্রদুষণও বছর দশেক আগেই বিপদসীমা অতিক্রম করে গেছে। হিমবাহগুলি দ্রুত গলছে। কাশ্মীর, লাদাখ ও হিমাচল প্রদেশে প্রতিবছর অভূতপূর্ব বন্যা ও ধস নামছে। সেজন্য দু’দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের এ নিয়ে সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

একই প্রয়োজনে সৈনিকদের যন্ত্রণা ও হিমবাহের বিপদ নিয়ে ১৯৯৪ সালে লেখা আমার প্রথম উপন্যাস ‘বুখারি’র হিন্দি অনুবাদ পড়ে প্রখ্যাত পরিবেশবিদ সুন্দরলাল বহুগুণা লিখেছেন, ‘ ... ধরিত্রী মা মানবজাতির লোভ –লিপ্সার শিকার হয়ে পড়েছে। মানুষ যেন তাঁর সন্তান নয়, কসাইয়ের মতন তাঁকে হত্যা করছে। আপনি প্লেসিয়ারের ব্যথা- যন্ত্রণার কথা লিখে মূক প্রকৃতিকে বাণী প্রদান করেছেন।...জীবনের জয় হোক। মৃত্যুর ক্ষয় হোক’। আমার সৌভাগ্য যে বইটি ২০১৫ সালে অমৃতা প্রীতম পুরস্কার পেয়েছে, আর ইতিমধ্যেই চারটি ভারতীয় ভাষা ও ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছে।