রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

​মার্ক্সবাদ – দ্বিতীয় পর্ব

বস্তুবাদ

বস্তুবাদের অর্থ ভোগবাদ নয়। বস্তুবাদের মূল অর্থ হলো এই জগতের সমস্ত কিছুই বস্তু দ্বারা সৃষ্ট। বস্তু ভিন্ন আর কিছুই নেই। আমাদের মন, চেতনা সমস্ত কিছু বস্তুর গুণাবলি অর্থাৎ মেনিফেস্টেশন। তবে যে প্রশ্নটি প্রথমেই মাথায় আসে তা হলো যে শক্তি তাহলে কি? কারণ আমরা তো দেখি বস্তু ছাড়া শক্তিও আছে। এখানে বৈজ্ঞানিক ভাবে বলা যেতে পারে যে আইনস্টাইন প্রমাণ করেছেন যে বস্তু ও শক্তি আসলে একই জিনিসের দুটো ভিন্ন রূপ। তাই আমরা বস্তু বলতে বস্তু ও শক্তি দুটোকেই বুঝতে পারি এতে কোন আপত্তি নেই। কারণ আইনস্টাইনের তত্ত্ব মতে শক্তি ও বস্তু দুটোই এক থেকে অন্যে রূপান্তর হতে পারে। পরমাণু শক্তিও আসলে বস্তুর শক্তিতে রূপান্তর। আবার এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে প্রাথমিক কালে শুধুমাত্র শক্তিই ছিল। রেডিয়েশন ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এই শক্তিই ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে বস্তুজগতের সৃষ্টি করেছে। যদি ভারতীয় পুরাণতত্ত্বের প্রসঙ্গে আসি তাহলে দেখা যাবে যে দেবী দুর্গাকে শক্তি থেকেই সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাই এখানে আমরা বস্তু বলতে বস্তু ও শক্তি দুটোকেই বুঝতে পারি।

আমরা যদি সপ্তদশ শতাব্দীর ফরাসী দার্শনিক রেনে দেকার্তের সময় থেকে ইউরোপীয় দর্শনকে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাবো যে আধুনিক ইউরোপীয় দর্শনের মূল বিবাদটা ছিল জ্ঞানতত্ত্ব অথবা epistemology নিয়ে। সমস্ত শাখার ইউরোপীয় দর্শনে এপিস্টেমলজি স্থির করার পরই এর ভিত্তিতে অন্য সব কিছুকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা হয়েছে। বলতে গেলে ইউরোপীয় দর্শনের মূল বিবাদ হলো যে আমাদের জ্ঞানের উৎসটা কি? জ্ঞান কোথা থেকে আসে। আমরা যে বস্তুকে দেখতে পাই তার আসল অস্তিত্ব আছে কি না। এই বস্তুজগৎ কি আমাদের চেতনার উপর নির্ভরশীল। আমাদের চেতনাই কি বস্তুর অবয়ব তৈরি করে। এই জ্ঞানতত্ত্বের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরণের দর্শনের জন্ম নিয়েছিল। তবে এর মধ্যে যে দুটো ধারা মূল ধারা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে তা হলো যে ভাববাদ ও বস্তুবাদ। ভাববাদীরা বিশ্বাস করেন যে আমাদের চেতনাই সব কিছুর মূলে কাজ করে যেখানে বস্তুর কোন অস্তিত্বই আসলে নেই। কিন্তু বস্তুবাদীরা বিশ্বাস করেন যে আমাদের চেতনাও বস্তুরই এক ধরণের প্রকাশ। আমাদের মস্তিষ্কও আসলে একটি বস্তু এবং এর রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় চেতনাকে জন্ম দেয়। এই চেতনা দিয়েই আমরা বস্তুজগতকে জানতে পারি। ভাববাদীদের মস্তিষ্কের বাইরে মনের অবস্থান প্রসঙ্গে লেনিন বলেছেন মাইন্ড উইদাউট ব্রেইন ইজ এ ব্রেইনলেস ফিলোসফি।

ভাববাদী দর্শনকে বলা হয় সাবজেক্টিভ অর্থাৎ ব্যক্তিক। যেখানে সমগ্র বিশ্বজগত চেতনা সর্বস্ব। চেতনাই বস্তুর অবয়বকে সৃষ্টি করে। অন্য দিকে বস্তুবাদী দর্শনকে বলা হয় অবজেক্টিভ অথবা নৈর্বৈক্তিক। অর্থাৎ আমাদের চেতনার বাইরে যে বস্তুজগৎ বিদ্যমান তার বাস্তব অস্তিত্ব আছে এবং আমাদের মন এই বস্তুজগতকে অনুধাবন করতে পারে। তবে এই ক্ষেত্রে কার্ল মার্ক্স কিছুটা এগিয়ে গিয়ে বলেছেন যে আমাদের মন শুধুমাত্র যে বস্তুর অস্তিত্ব ও তার নিয়মকে অনুধাবন করতে পারে তাই নয়, আমরা ইচ্ছে করলে এই নিয়মকে জেনে এটাকে নিজেদের ইচ্ছেমত কাজেও লাগাতে পারি। মার্ক্সের এই দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত মার্ক্সবাদকে অ্যাকশনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সেই সঙ্গে ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ স্লোগানেরও জন্ম দিয়েছে। এর আগে পর্যন্ত কোন দর্শনই মানুষকে কোন ধরণের অ্যাকশনের দিকে ঠেলে দেয় নি। এই মর্মে মার্ক্স নিজেই বলেছেন যে এযাবৎ দার্শনিকরা শুধুমাত্র বিশ্বকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। তবে সময় এসেছে দর্শনের আলোকে বিশ্বকে পরিবর্তন করার। এর থেকেই মার্ক্সবাদীদের জন্ম নিয়েছে এবং তারা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয় হয়েছেন।

এরপর প্রশ্ন আসে স্পেস ও সময় তাহলে কি? এটাও কি বস্তু দ্বারাই সৃষ্ট। ভাববাদীদের মতে সময়ের আসলে কোন অস্তিত্ব নেই। দুটো ঘটনার মধ্যে অন্তর্বর্তী একটা কিছু আমাদের চেতনায় সময়ের ধারণা দেয়। কোন ঘটনা না ঘটলে সময়ের অস্তিত্ব থাকে না। সময় হলো আমাদের মনের তৈরি এক ধরণের ধারণা মাত্র। ইউরোপীয় দর্শনে মোট চার ধরণের সময়ের কথা বলা হয়েছে যেমন কন্সেপচুয়েল টাইম, পারপচুয়েল টাইম, রিয়েল টাইম ইত্যাদি। কিন্তু মার্ক্সীয় বস্তুবাদী দর্শনের মতে সময়ের বাস্তব অস্তিত্ব আছে এবং এটা শুধুমাত্র আমাদের মনের কোন ধারণা নয়। তাই একদিকে ভাববাদী দর্শন যেমন সময়ের বাস্তব অস্তিত্বকে অস্বীকার বিবর্তনের ধারণাকে খারিজ করে দিয়েছে আবার বস্তুবাদী দর্শন সময়ের বাস্তব অস্তিত্বকে স্বীকার করে বিবর্তনের ধারণাকে পুষ্ট করেছে। কারণ বিবর্তনবাদ সময়ের বাস্তব অস্তিত্ত্বকে স্বীকার করেই সৃষ্টি করা হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো যে তাহলে সোভিয়েত রাশিয়াতে ডারউইনের বিবর্তনবাদকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল কেন। কারণ কার্ল মার্ক্স বলেছিলেন মানুষ কোন ধরণের গুণ নিয়ে জন্মায় না এবং তার সমস্ত গুণাবলী তৈরি হয় তার পরিবেশ থেকে।

এই মর্মে কার্ল মার্ক্সের ‘ম্যান ইজ দ্য প্রডাক্ট অব হিজ এনভারনমেন্ট’ জাতীয় স্লোগান মার্ক্সবাদীরা প্রচার করতে থাকেন। গবেষণাবিহীন এই স্লোগান পরবর্তী কালে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যায়। বিশেষত জিনতত্ত্ব প্রমাণ করে যে মানুষ তার পূর্বপুরুষের কাছ থেকে কিছু গুণাবলী নিয়ে জন্মায়। তাই সোভিয়েত ইউনিয়নে জিনতত্ত্বের উপর গবেষণাকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। তাছাড়া ডারউইনের বিবর্তনবাদ প্রমাণিত হয়েছিল জিনতত্ত্বকে ভিত্তি করেই। প্রাণিজগৎ তার পূর্বপুরুষের গুণ নিয়ে জন্মায় এই তত্ত্বের উপর ভিত্তি করেই ডারউইনিজমের জন্ম হয়েছিল। তাই রাশিয়ায় এই তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা নিষিদ্ধ করে এটাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই শাস্তির মধ্যে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাবাসেরও ব্যবস্থা ছিল। প্রায় তিন হাজার জীববিজ্ঞানী এই শাস্তি ভোগ করেছেন। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে পাকিস্তানে এখনও যে ব্লাশফেমি আইন আছে সেখানে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বললে যাবজ্জীবন কারাবাস হয়। প্রায় দেড়শ জনের মতো মুক্তচিন্তক এখনও পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি হয়ে আছেন। ইরানে প্রায় তিন হাজার লেখক বুদ্ধিজীবী একই কারণে কারাগারে বন্দি জীবন যাপন করছেন। পাকিস্তানে এই আইনকে মাথায় রেখে অনেকেই অপবিজ্ঞান বিষয়ক বই লিখে এই বইয়ে মহম্মদের বাণী লিখে দেন। কারণ কেউ যদি এই বইকে নর্দমায় নিক্ষেপ করে ধরা পড়ে যায় তাহলে তার যাবজ্জীবন কারাবাস হয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু বইয়ে এই সাবধানবাণী প্রচ্ছদেই লেখা থাকে।

এখন প্রশ্ন হলো যে এই সময় ও স্পেসের বিষয়ে বিজ্ঞান কি বলে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব সময় ও স্পেসের বাস্তব অস্তিত্বকে গাণিতিক নিয়মে প্রমাণ করে বলতে গেলে মার্ক্সবাদের বস্তুবাদী দর্শনের উপর বিজ্ঞানের শিলমোহর লাগিয়ে এটাকে বিজ্ঞান সম্মত করে দিয়েছে। তাই ইউরোপে আইনস্টাইনের থিওরি প্রকাশিত হবার পর ভাববাদীরা ব্যাকফুটে চলে যান। বিশেষত ধ্রুপদী পদার্থ বিজ্ঞান মার্ক্সবাদের দার্শনিক জ্ঞানতত্ত্বকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রমাণ করে এই বস্তুবাদী দর্শনকে পরিপুষ্ট করেছিল। পরবর্তীকালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবির্ভাবের ফলে এই বস্তুবাদী দর্শন আবার প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে যায়। এই নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন হয়ত বা আছে। আমি এখানে এই নিয়ে আলোচনাকে সীমিত করব কারণ বর্তমান বিজ্ঞানে ক্লাসিক্যাল মেটার ও কোয়ান্টাম মেটারের ধারণা চলে এসেছে। তাই কোয়ান্টাম মেটার যদি বিজ্ঞানে স্বীকৃতি পেয়ে যায় তাহলে মার্ক্সবাদের বস্তুবাদী ধারণা আরো বেশি করে বিজ্ঞান সম্মত হিসেবে প্রমাণিত হবে। তবে কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের পর বারট্র্যান্ড রাসেল সহ অনেক বস্তুবাদী দার্শনিকরাই ভাববাদী বার্কলেপন্থী হয়ে যান। এই নিয়ে রাসেলের লেখাও আছে।

এখন প্রশ্ন হলো যে কার্ল মার্ক্সের বস্তুবাদ সময়ের যে ধারণা দিয়েছে তা কি পুরোপুরি সত্যি। বলতে গেলে এটা হলো এক ধরণের অর্ধ সত্য কিন্তু পূর্ণ সত্য নয়। কারণ মার্ক্সবাদ বলছে সময় হলো এমন কিছু যার আদি কিংবা অন্ত নেই। অর্থাৎ সময় অনাদি ও অনন্ত। ফ্রেডরিক এঙ্গেলসের লেখা ‘অ্যান্টি ডুরিং’ বইতে ‘টাইম এন্ড স্পেস’ শীর্ষক যে চ্যাপ্টার আছে সেখানে এই ধারণাই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে স্টিফেন হকিং সহ অন্যান্য পদার্থ বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন যে আজ থেকে প্রায় ১৩৭০ কোটি বছর আগে সময়ের জন্ম হয়েছিল। অর্থাৎ সময় অনাদি নয়। আবার বিগ ক্র্যাঞ্চের মধ্য দিয়ে যদি এই ব্রহ্মাণ্ডের অবসান ঘটে তাহলে সময়েরও অবসান ঘটে যাবে। এই ধারণা মার্ক্সবাদের পরিপন্থী। আসলে যে জিনিসের আদি অন্ত নেই সেই জিনিসের অস্তিত্ব থাকে কি করে? অস্তিত্ব মানেই যার আদি আছে এবং সসীম। অস্তিত্ব কখনও অনাদি কিংবা অসীম হতে পারে না। এটা নিশ্চয়ই একটি দার্শনিক প্রশ্ন যার সঠিক উত্তর মার্ক্সবাদে আছে বলে আমার জানা নেই। তবে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব এটাও প্রমাণ করেছে যে সময় ও স্পেস আসলে বস্তু দ্বারাই সৃষ্ট। এই ব্রহ্মাণ্ড থেকে যদি সমস্ত বস্তুকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে না থাকবে স্পেস না থাকবে টাইম। বলতে গেলে স্পেস ও টাইম বস্তুরই এক প্রকারের মেনিফেস্টেশন। অথবা এক্সটেনশন বলা যেতে পারে। এই ধরণের বৈজ্ঞানিক ধ্যান ধারণা অবশ্যই বস্তুবাদের দর্শনকে পরিপুষ্ট করেছে। তাই এক সময়ে ইউরোপের ভাববাদীরা আইনস্টাইনকে বলেছিলেন কম্যুনিস্ট।

যাই হোক সময়ের ধারায় বিজ্ঞানের অনেক আবিষ্কার হবে যেখানে সব ধরণের প্রাচীন ধ্যানধারণা বিজ্ঞানের আলোকে যাচাই করা হবে। আবার বিজ্ঞানও কোন স্থির বিষয় নয়। সেখানেও নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে পুরনো ধারণার অন্ত হয়ে যায়। যেমন আইনস্টাইনের আবিষ্কার নিউটনীয় স্পেস টাইমের ধারণাকে খারিজ করে দিয়েছিল। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দর্শনের মধ্যেও পরিবর্তন আসাটা বাঞ্ছনীয়। কার্ল মার্ক্স নিজেও এই ধরণের অনুসন্ধিৎসা ও সময়ের ধারায় পরিবর্তনে বিশ্বাস করতেন। নিজের জীবদ্দশায় তিনি সব সময়ই নিজেরই মতবাদকে সংশোধনের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। মার্ক্সের প্রথম যে প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছিল তা রাশিয়াতে শ্রমিক আন্দোলনকে সমালোচনা করে লেখা। পরবর্তীকালে তিনি নিজের এই প্রবন্ধকে সমালোচনা করে এটাকে খারিজ করে দিয়েছিলেন। এখানে একটি মজার বিষয় না লিখে পারছি না যে কার্ল মার্ক্স তাঁর জীবনে প্রথম যে লেখাটি সম্পাদকের কাছে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছিলেন তা ছিল একটি প্রেমের কবিতা। কিন্তু সম্পাদক এই কবিতাটি প্রকাশ করেন নি। অর্থাৎ বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক লেখকের প্রথম পাঠানো লেখাই সম্পাদক ছাপার যোগ্য মনে করেন নি। এই দুনিয়ায় কত কিছুই না হয়।

১৮৮৩ সালে কার্ল মার্ক্সের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি বিশেষত ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস ও মার্ক্সের অনুগামীরা মার্ক্সকে প্রায় এক পয়গম্বর বানিয়ে তাঁর দর্শনকে প্রশ্নাতীত বাণীরূপে প্রচার করতে থাকেন। আখেরে এর ফল শুভদায়ক হয় নি।


-- লেখক পরিচিতি

রজতকান্তি দাস একাধারে প্রাবন্ধিক , তত্ত্বানুসন্ধানী লেখক ও ঔপন্যাসিক । বিজ্ঞান অর্থনীতি রাজনীতির ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর একাধিক বিশ্লেণাত্বক প্রবন্ধ রয়েছে।‘Beyond the Boundaries’তাঁর লেখা ইংরেজি উপন্যাস দেশ বিদেশ সমাদৃত ।

(চলবে)