বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

​দিল্লি কার ? সি ভোটার সমীক্ষায় এগিয়ে মোদি !

দিল্লি কার ? সি ভোটার সমীক্ষায় এগিয়ে মোদি

বেজে উঠেছে ভোট যুদ্ধের রণদামামা । কে বসবে ১৯ এর দিল্লি কার ? এই নিয়ে দেশ বিদেশ স্বদেশের নজর এখন ভোট সমীক্ষায় । সকল দলের-ই ঈগল চোখ দিল্লির তখৎ । কিন্তু দিল্লি কাকে চায় ?

বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোট শুরু হচ্ছে দেশে। প্রচার চলছে পুরোদমে।

এই পরিস্থিতিতে সি-ভোটারের সর্বশেষ সমীক্ষার ফলে ভোটপ্রাপ্তির হার ও সম্ভাব্য আসন সংখ্যায় বাকিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ জোট।

মার্চের প্রথম দিন থেকে এপ্রিলের ৫ তারিখ পর্যন্ত ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মতামত যাচাই করে সি-ভোটার জানাচ্ছে, সরকার গড়ার খুব কাছাকাছি এসে পৌঁছচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী। দেশের মোট ৫৪৩টি আসনের মধ্যে সরকার গড়তে যেখানে ২৭২টি আসন দরকার, শরিকদের নিয়ে মোদীর জোট এনডিএ ২৬৭টি আসন পেতে পারে। মোট ভোটের ৪১.৩ শতাংশ ভোট পেতে পারে এই জোট।

কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ ৩০.৭ শতাংশ ভোট পেলেও সমীক্ষা অনুসারে বড় জোর ১৪২টি আসন পেতে পারে তারা। তৃণমূল, বাম, এসপি, বিএসপি বা আপ-এর মতো দুই জোটের বাইরের দলগুলি পেতে পারে ১৩৪টি আসন। মোট ভোটের ২৭.৪ শতাংশ ভোট পেতে পারে এই দলগুলি। ইতিবাস বলছে, এই সব সমীক্ষা অনেক সময়ে একেবারেই মেলে না। রাজনৈতিক দলগুলোও এই সমীক্ষাকে গুরুত্ব দেয় না। তবে এই সমীক্ষায় জনমতের একটা প্রতিফলন পড়ে বলে মনে করা হয়। সি-ভোটারের দাবি, এক মাসেরও বেশি সময়ে দেশের বিভিন্ন অংশের ৪৫,১৩৪ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে তারা এই সমীক্ষার ফলাফল তৈরি করেছে।

গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একাই পেয়েছিল ২৮২টি আসন। এ বার বিজেপি ৬০টি আসন খুইয়ে ২২২টি পেতে পারে বলে সমীক্ষায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শিবসেনা-সহ এনডিএ-র অন্য শরিকদলগুলি ৪৫টি আসন পেতে পারে বলে জানাচ্ছে সি-ভোটারের সমীক্ষা। অন্য দিকে ২০১৪-র নির্বাচনে কংগ্রেসের ৪৪টি আসন এ বার অনেকটা বাড়লেও রাহুল গাঁধী কংগ্রেস তিন অঙ্কে পৌঁছতে পারছে না বলে ধারণা করছে সমীক্ষাটি। ইউপিএ-র শরিক দলগুলি ৫১টি পেলেও কংগ্রেসের আসন ৯১টি-র বেশি বাড়ছে না বলে সি-ভোটারের পূর্বাভাস। তবে কংগ্রেস জোট ৩০.৭ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে জানিয়েছে সমীক্ষা।

দেশের সব চেয়ে বড় রাজ্য উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদব ও মায়াবতীর মহাজোটের কাছে বিজেপি বেশ কিছু আসন খোয়াতে পারে বলে সি-ভোটারের সমীক্ষায় উঠে এসেছে। গত নির্বাচনে এই রাজ্যে ৮০টির মধ্যে ৭৩টি-ই পেয়েছিল বিজেপি ও তাদের শরিকেরা। এ বার তা ৩২-এ দাঁড়াতে পারে। মহাজোট পেতে পারে ৪৪টি আসন। আলাদা লড়ে কংগ্রেস উত্তরপ্রদেশে ৪টি আসন পেতে পারে বলে সমীক্ষার ফলে উঠে এসেছে। আবার বিহারে রামবিলাস-নীতীশের সঙ্গে বিজেপির জোট ৪০টির মধ্যে ৩৪টি আসন পেতে পারে। লালু ও কংগ্রেস জোট পেতে পারে ৬টি। গুজরাতেও ২৬টির মধ্যে ২৪টি পেতে পারে বিজেপি। মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি হারলেও কয়েক মাসের মধ্যে লোকসভা নির্বাচনে ২৯টির মধ্যে ২৩টি আসন পেতে পারে এনডিএ। মহারাষ্ট্রেও ৪৮টির মধ্যে ৩৫টি পাওয়ার সম্ভাবনা এনডিএ-র। ইউপিএ এ রাজ্যে পেতে পারে ১৩টি আসন। দিল্লিতে আম আদমি পার্টি লোকসভায় কোনও আসন পাচ্ছে না বলেই এই সমীক্ষার অনুমান ।

সি ভোটারের এই সমীক্ষায় ইউপিএ-র পক্ষে পাঞ্জাব ও দক্ষিণের রাজ্যগুলির বিশাল জয়ের পূর্বাভাস করা হয়েছে। এই সমীক্ষায় ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের আঁচ পাওয়া যাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

সমীক্ষা অনুসারে ওড়িশা এবং হরিয়ানায় বেশ কিছু আসন পাবে এন ডি এ, এবং পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে তাদের জয় হবে ব্যাপক। দিল্লিতে গেরুয়াবাহিনী সমস্ত আসন পাবে বলেই সমীক্ষার পূর্বাভাস। এছাড়া সমীক্ষা অনুযায়ী রাজস্থান, হরিয়ানা এবং মধ্যপ্রদেশের তাদের শক্তি অক্ষুণ্ণ থাকবে।