বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

​কলিকাতার রাজপথে হাঁটছেন চিকিৎসকগণ, সঙ্গে হাঁটছে সর্ব সাধারণ

অজস্র পোষ্টার হাতে নিয়েরাস্তায় হাঁটছে মানুষ , জুনিয়র সিনিয়র ডাক্তার । পাশে হাঁটছেসাধারণ থেকে বিশিষ্ট জন । শিল্পী সাহিত্যিক গায়ক অভিনেতা , আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ ।

‘বাঁচার দাবি’তে রাজপথে নামলেন বাংলার চিকিত্‍সকরা। এন আরএস থেকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত মিছিল শুরু হয়েছে। চিকিত্‍সকদের মিছিল হলেও পথে নেমেছেন অভিনেত্রী অপর্ণ সেন থেকে শুরু করে সমাজের বিশিষ্টরা। আইনজীবীদের একাংশ পথে নেমেছেন। মিছিলের সামনে বড় লেখা লেখা 'বাঁচতে চাই, বাঁচাতে চাই।'নিরাপত্তার গাফিলতিকে ও পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তাঁরা। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে চিকিৎসকগণ সঠিক ভাবে সেবা করতে অপারক । ফলে দায়ভাগ পুরোটাই চিকিৎসকদের ঘাড়ে এসে পড়ে । সমস্যার সৃষ্টি সেখান থেকেই বলে অনেকের ধারণা ।

মিছিল থেকে বিচারের দাবি তোলেন চিকিত্‍সকরা । পর্যান্ত নিরাপত্তারও দাবি তোলেন তাঁরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও চিকিত্‍সকদের সুরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও দাবি করেন চিকিত্‍সকদের একাংশ।কর্মবিরতিতে অনড় জুনিয়র ডাক্তাররা। আজ সকাল থেকে এসএসকেএম হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চালু হলেও বন্ধ আউটডোর। এনআরএসেও একই পরিস্থিতি। এনআরএসের গেট আগলে রখেছেন আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তাররা। জানা গিয়েছে, আজ সকাল থেকেই আরজিকর হাসপাতালে বন্ধ আউটডোর । জেলা হাসপাতালগুলিতেও একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

অন্যদিকে, এনআরএস কাণ্ডের প্রতিবাদে চলছে ডাক্তারদের গণ ইস্তফার পর্ব। এনআরএস হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট ও ভাইস প্রিন্সিপাল সৌরভ চট্টোপাধ্যয় ও প্রিন্সিপাল শৈবাল মুখোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার রাতেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন স্বাস্থ্যভবনে। পদত্যাগপত্রে তাঁরা জানিয়েছে, সরকারের দেওয়া দায়িত্ব পালন করতে তাঁরা ব্যর্থ। তাই এই সিদ্ধান্ত।

গণ ইস্তাফায় রাজ্যের ৬০০ ডাক্তার স্বাক্ষর করে ফেলেছেন ইতিমধ্যে । ক্রমশ বাড়ছে জটিলতা । সরকার চেষ্টা করছে ডাক্তার ভারসাস রোগী পরিবারে বিষয়টি পর্যবসিত হোক ,- এমন মন্তব্যও শোনা গেছে কারো কারো মুখে । এক সময় যারা মমতার পার্শ্বচর ছিলেন এমন ব্যক্তিরাও আজকে সময়ের ডাকে রাস্তায় হাঁটছেন ডাক্তারদের পাশাপাশি । খোলা আহ্বান ছুঁড়ে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি , আসুন মহোদয়া জুনিয়র ডাক্তারদের নিরাপত্তা দিন । সমগ্র দেশজুড়ে আউটডোর পরিষেবা বন্ধ রেখেছে এইমস-সহ অন্যান্য হাসপাতাল। রাজ্যের হাসপাতালগুলিতেও গণইস্তফার ঢল নেমেছে। ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবার কাঠামো। এই পরিস্থিতিতে, আন্দোলনরত চিকিত্‍সকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করলেন অভিনেতা তথা সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)। সাধারণ মানুষের কথা ভেবে তাঁদের পুনরায় পরিষেবা স্বাভাবিক করার অনুরোধ করলেন তিনি। পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূলের মন্ত্রীপুত্র-কন্যারা । 'নিঃশর্ত ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী', গণইস্তফার এই দাবি অনড় বললেন মিছিলে হাঁটতে হাঁটতে আর জি করের সিনিয়র ডাক্তার । বললেন , রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আচরণ লজ্জাজনক’ ।