শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

হেমন্ত সরখেলের সাথে কিছুক্ষণ, ‘ উৎসে উৎসব’

-----

হেমন্ত সরখেলের সাথে কিছুক্ষণ , ‘ উৎসে উৎসব’


হেমন্ত সরখেল ,জন্ম - ১১ই নভেম্বর, ১৯৭১, কলকাতায়। পিতা - স্বর্গীয় অসীম কুমার সরখেল। মাতা - স্বর্গীয়া শুক্লা সরখেল।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার সাহিত্যের পীঠস্থান গোবরডাঙার উজ্জ্বল সংস্কৃতমনস্কতায় কেটেছে কবির শৈশব, কৈশোর। স্কুল-কলেজ, অসংখ্য ক্লাব ম্যাগাজিনে কলমের যাত্রাপথে কালক্রমে যুক্ত হয়েছেবাংলাদেশ থেকে সংকলন "ছয় কলমের ছোঁয়া ", রচনার জাদু ছড়িয়েছে - "গল্প বলি শোন", "অন্তমিল -২য় খন্ড" ও অসংখ্য স্বনামধন্য পত্র-পত্রিকায়। কবির একক কাব্যগ্রন্থ- "প্রভা"- পাঠক সমাদৃতা ইত্যোমধ্যেই। "মেঘমল্লারে" নিঃশেষিত দ্বিতীয় সংস্করণটি। এর বাছা চৌদ্দটি কবিতার ইংরেজি অনুবাদ " Seeking amour amid the clouds" প্রকাশ পেয়েছে। রয়েছে কাব্যগ্রন্থ "মধ্যজীবী"। দায়িত্বে রয়েছেন শিমুল পত্রিকার সম্পাদনায়। পৃষ্ঠপোষকতা বর্তমান বাংলা সাহিত্য অঙ্গনের বহুসংখ্যক লিটিল ম্যাগাজিনের সাথে। প্রকাশিতব্য বেশ কিছু কাব্যগ্রন্থ, গল্প সংকলন, উপন্যাস।

মসি, জীবনের বিভিন্ন আঙ্গিকের মূর্তপ্রতীক। প্রতিবাদ মুখর।কখনও প্রেম, কখনও বিরহ, কখনও সামাজিক সমস্যাকে মননে গেঁথে দিয়ে যান। পাঠককে দেন এক রসসমৃদ্ধ বোধসমুদ্র, তৃপ্ত অবগাহনের জন্য। দৃষ্টিভঙ্গিতে বাস্তবের নির্মম কষাঘাত ভেসে আসে উবাচ-এ--

"...যদি কবিতার প্রেমেই জীবন কাটাতে চাও, তবে জেনে রেখ, তোমার জীবনটা কখনোই কবিতার মতো সুন্দর হয়ে উঠবে না।"

এই হেন হেমন্ত সরখেলের সঙ্গে ‘উৎসব’ নিয়ে হয়ে গেন এক নিটোল আড্ডা ।

গোবিন্দ : উৎসব অর্থ কি শুধু আনন্দ? নাকি অন্য কিছুও ?উৎসব মানে কি শ্রদ্ধা, স্মরণ, শ্রাদ্ধও নয়? কিংবা দূঃখে কি স্মরণ উৎসব করা যায়?আপনার মতামত বলুন?

হেমন্ত: উৎসব চারণক্ষেত্র। মানবের একাত্মতার কেন্দ্র। সেটি সুখ-দুঃখ, হর্ষ-বেদন সবটিতেই হতে পারে। আনন্দকে ঘিরে যে উৎসব সেটি আনন্দোৎসব, শরত ঘিরে শারদোৎসব। ঘটনাটিকে কেন্দ্রে রেখে মানবের মিলনমেলাই উৎসব। কাজেই, মানব মনের আবেগানুভূতি, উদ্বেলতা উৎসবের রূপ নেবে। তবে, শোককে এর সাথে যুক্ত করতে প্রাণ সায় দেয় না। ওটি অবশ্যম্ভাবী এক মগ্ন পথ, যেখানে নীরবতাই শ্রেয়, মৌনমুখরিত এক পথ। যদিও, শোক প্রশমন কালে আমরা যখন তার অটল অস্তিত্বে ধাতস্থ হই, তখন সেটিকে স্মরণীয় রাখতেও উৎসবে অনাগ্রহী থাকি না। আসা এবং যাওয়া, ধ্রুব সত্য, পাশাপাশি জীবনের মূল উদ্দেশ্যই আনন্দ প্রাপ্তি।তাহলে, কার্যকারণ সূত্রানুযায়ী উৎসব সর্বত্রই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটিই সামাজিকতার মূল আধার, জনমানসের সমাবর্তনের, আত্তিকরণের চিরন্তনী রূপ।

গোবিন্দ :ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে উৎসবের আয়োজন করা কি খুব অসম্মান করা হয় শহীদদের?

হেমন্ত : মত অংশ (১)-এ প্রতিপাদিত সূত্রের খেই ধরেই বলি, শহীদেরা আত্মোৎসর্গে বিশ্বাস রেখেছিলেন বলেই তারা 'জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য চিত্ত ভাবনাহীন' ভাবতে পেরেছিলেন এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য প্রাপ্তির জন্য আনন্দের সঙ্গে বলিদান দিয়েছেন। তাদেরও চরম(পড়ুন-মূল) উদ্দেশ্য আনন্দ প্রাপ্তিই ছিল। এমতাবস্থায়, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে, যদি তাদের সে মনোভাবের সঙ্গে একাত্মই না হতে পারা যায়, তবে তাদের বলিদানকে আমরা ব্যর্থ করে দেব। তাঁদের অকুতোভয় মানসিকতা আমাদের দৃঢ়চেতা করবে, করবে উজ্জীবিত, আমরা সাহসী হবো, বলিয়ান হবো তাদের মতাদর্শের উন্মাদনায়। আনন্দে ভরে উঠবে অন্তঃকরণ, তবেই তাদের বলিদান সার্থক হবে।

এর বিপরিতে, অন্ধকার, নৈরাশ্য, হতাশা, প্রতিহিংসা, ক্রুরতা। এগুলি তাঁদের কাছেও অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল, আমাদের সুস্থ চেতনায়ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

কাজেই, শহীদ স্মরণ কখনই আনন্দোৎসববিহীন হতে পারে না। কারণ তাঁরা বীর, দেশমাতৃকার অমর সন্তান, ফাঁসিকাঠেও যাঁরা আনন্দ(পড়ুন-হাসি)কে পাথেয় করেছেন।

গোবিন্দ :তাহলে বলা যায় পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত শ্রাদ্ধানুষ্ঠান আসলে উৎসবই?

হেমন্ত : বলা চলে। তবে, বর্তমান পরিবেশে এটির গুরুত্ত্ব হ্রাসমান। যেখানে আমরা সোমালিয়ার নিরন্নতা দেখি, দেখি অর্ধাহারে অনাহারে প্রাণত্যাগের, আত্মহত্যার মতো ঘৃণ্য পরিস্থিতি, সেখানে দাঁড়িয়ে এ উৎসব মানসিকভাবে পালিত হোক, এটিই কামনা করি। আর্থিকভাবে এ উৎসব পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়।

গোবিন্দ:শোক জ্ঞাপন কি উৎসবের ভেতর দিয়ে করা যায় না?

হেমন্ত:মানব মন বিচিত্র। বিচিত্র তার অনুভূতি। তাকে ষট্ চক্র এবং বেদান্তের শিক্ষায়ও শিক্ষিত করা হয়েছে প্রাচীনকাল হতে। তবু সে তার আবেগকে সম্পূর্ণরূপে আয়ত্বাধীন করতে পারেনি। যে যেমনভাবে শোককে দেখবে, সে তেমনভাবে তার উদ্দেশ্যে জ্ঞাপনার্থ ক্রিয়া করবে। মত (২) এবং মত(৩) - এ এটি বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

শোকের প্রকার যদ্যপি তার ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তথাপি প্রশমিত হওয়ার পর তার উদ্দেশ্যে প্রয়াসী ক্রিয়া শেষ পর্যন্ত্য মানবের মিলনেরই ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। যেটি শোককেও বহুলাংশে হ্রাস করে এবং আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়ক হয়ে ওঠে।

গোবিন্দ :আপনার কথার মধ্যে মতের মধ্যে দ্বৈত ভাবনার প্রকাশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমার প্রশ্নের মাঝে জানার আগ্রহ উৎসবে কি শোক প্রকাশ করা যায়।

হেমন্ত:আমার মতে, যায়। তবে, তার বিস্তার যেন মানবের মূল আকাঙ্খিত আনন্দকে ম্রিয়মান না করে তোলে। এখানেও আমাদের সমভাব বজায় রাখতে হবে। তাহলে, শোক প্রকাশের পরিবেশটি, আনন্দের পরিবেশকে ব্যাহত করতে পারবে না। আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে স্বর্গগতদের প্রতি শোকজ্ঞাপন করে অনুষ্ঠান শুরু করি, যেটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

গোবিন্দ :উৎসব মানে আভিধানিক অর্থগুলো বিশদে বলুন?

হেমন্ত :১)আনন্দপূর্ণ বা জাঁকজমকপূর্ণ সামাজিক বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ২)যা সুখ প্রসব করে, আনন্দজনক ব্যাপার,৩) ইচ্ছার উৎপত্তি, ইচ্ছাপ্রসব, ৪) হর্ষণ, উদ্গম।

গোবিন্দ :তাহলে তো শহীদ স্মরণ উৎসব হয় না?

হেমন্ত :যদি আপনি মত (২) এর সঙ্গে সহমত হন এবং যদি মত ৬-২( যা সুখ প্রসব করে)কে তার সাথে দেখেন,তবে দেখবেন শহীদ স্মরণ অবশ্যই উৎসব। আমরা তাঁদের গৌরবোজ্জ্বল আত্মত্যাগের সাথে তাঁদের স্মরণ করি। সেটি কী আমাদের সুখী করে না?

গোবিন্দ :আমাদের ত্রিপুরায় একসময় ভোট হলে প্রচুর মানুষকে রাজনৈতিক হিংসার বলি হতে হতো।এমন এক সময় রাজ্যে বামপন্থী সরকারের শিক্ষামন্ত্রী কবি অনিল সরকার ভোটকে প্রথম বললেন "ভোটউৎসব"। আমরাও ধীরে ধীরে এই শব্দের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাবোধে জারিত হতে থাকলাম।আমাদের রাজ্যে তারপর ধীরে ধীরে ভোটের সময় আর রাজনৈতিক বলি হতো না।চেতনায় উৎসবের গভীর দায়িত্বশীল দিক গেঁথে গেলো।তাহলে আপনিও কি মনে করেন আমাদের ভোট উৎসবের মেজাজে হওয়া উচিত?

হেমন্ত : যখন দায়িত্ব আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন তা পালনে আমাদের মন প্রফুল্লিত থাকে। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের ভোট প্রদানও একটি দায়িত্ব। সেটি পালনে উৎসবের মেজাজ খুবই ভালো পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

গোবিন্দ :লৌকিক উৎসব ও সামাজিক উৎসবের মাঝে পার্থক্য কোথায়?

হেমন্ত : দুটিতে পার্থক্য তাদের আয়োজনের চরিত্রে। লৌকিক উৎসব আয়তনে সুবৃহৎ হবে। তার চারিত্রিক বিস্তার লোকায়তন বিনির্দিষ্ট করবে। এক বিশাল লোক অঞ্চলে ব্যাপ্ত চিন্তন, মনন, যাপন হবে লৌকিক উৎসবের আধার।

বিপরীতে, সামাজিক উৎসব ছোট থেকে বড়ো একটি অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র পরিসরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত উৎসব হিসেবে গণ্য। যেটি বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রূপ পরিগ্রহ করতে পারে।

গোবিন্দ:আপনার লেখালেখিতে উৎসবের প্রভাব আলোচনা করেন?

হেমন্ত :আমি মূলতঃ লেখার বিষয়বস্তু হিসেবে বেছে নিয়েছি আপামরের যাপন। লৌকিকতাকেন্দ্রিক যাপন তো উৎসবেরই রূপ। আপনার প্রশ্নের উত্তরটা সেভাবেই দিতে চাই।

মানবের প্রাত্যহিক যাপনে উঠে আসা সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সামাজিক সচেতনতাবোধের অভাব যা ব্যাহত করে আনন্দের(পড়ুন- উৎসবের)আমেজ, তেমন প্রসঙ্গগুলিই আমার রচনার প্রিয়তর রসদ। গল্প ষষ্টী-র উল্লেখ করব, বানের জলে পর্যুদস্ত একটি পরিবারের কর্তা শুধুমাত্র উৎসবের লৌকিকতাকে ধরে রাখতে দিনের পর দিন অর্ধাহারে থেকেও সমস্ত পরিবারের জন্য পুজোর বস্ত্রাদি কেনে নিজের রক্তের দামে। কিংবা ধরুন গল্প 'অষ্টমী' - নিঃসন্তান দম্পতি কুমারী পুজোয় বাগদী পাড়ার মেয়েদের নিয়ে পালন করেন উৎসব। ধরতে পারেন ২১শে'র ভাষা আন্দোলন নিয়ে লেখা গল্প- যোদ্ধা। যেখানে পিতার আবেগকে শেষ পর্যন্ত্য প্রাধান্য দিয়ে একটি দিনকে উৎসবে পরিণত করে তোলা।

এছাড়া, আপনারা যারা আমায় পড়ছেন, তারা দেখবেন, জানেনও, উৎসবহীনতা প্রতিরোধেই মানব মনের বিভিন্ন ভাবনাকে আমি লক্ষ্য বানিয়েছি। একটা প্রচেষ্টা করছি, যাতে ছোট ছোট দুঃখ, যন্ত্রনা,ঔদাসীন্যের কারণগুলোকে চিহ্নিত করা যায়। আমরা অসুখ নির্ধারণ না করতে পারলে তার চিকিৎসা করব কি করে? তাই সে অসুখের নিবারণই জীবনে সুস্থ, স্বাভাবিক যাপন এনে দেবে। লৌকিক ব্যবস্থা হবে বহুজন হিতায় - বহুজন সুখায়। আসবে উৎসব প্রাত্যহিক জীবনে সবল আনন্দের হাত ধরে।

গোবিন্দ :আপনাকে যদি বলা হয় উৎসব নিয়ে আপনার নিজস্ব প্রতিক্রিয়া বলুন?

হেমন্ত:আগের প্রশ্নাবলী এবং তার উত্তরেই আমার উৎসব সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া সন্নিহিত রয়েছে। আমার ভাবনা কতকটা এইরকম:-

প্রতিটা জীবনই উদযাপিত হয়। তা সে স্থান-কাল-পাত্রে যতই বিভিন্নতা আনুক না কেন। এখানে খোঁজ শুধু আনন্দের। অসহায়ত্ব, যন্ত্রনা, ক্ষোভ আজকের আর্থসামাজিক পরিবেশে মানবের নিত্যসঙ্গী। অসন্তুষ্টি ব্যাপ্ত চারিধারে। এর হাত থেকে বেরোতে চাওয়া- প্রতিমূহুর্তের সংগ্রাম। একটু আনন্দ বদলে দেয় এই ঘনান্ধকারের ছবি। সে প্রাপ্তির মূহুর্তটিই উৎসব, তার উদযাপন। মানবের প্রতিকুলতা, নিজের সাথেই যুদ্ধের অবিশ্রান্ত ঢেউ, তা দূরীভূত করতে পারে একমাত্র আদিতত্ত্ব, তার নশ্বরতার জ্ঞান। তুমি পরমাত্মার অংশ, সচ্চিদানন্দ পুরুষ। শোক,তাপ,দুঃখ বিবর্জিত। তুমি কিছুই নিয়ে যেতে পারবেনা, নিয়েও আসোনি। এই বোধ না জন্মানো পর্যন্ত্য এবং সর্বক্ষণ এতে অধিষ্ঠিত না থাকতে পারায় আত্মার গভীরে লুক্কায়িত আনন্দস্রোত প্রতিক্ষণ অনুভূত হয় না। সে অব্দি পৌঁছে যাওয়ার আগমূহুর্ত পর্যন্ত্য আমাদের মধ্যে পরিব্যাপ্ত থাকে রিপুদের অহমিকা, তাই প্রয়োজন হয়ে পড়ে বাহ্যিক রূপে আনন্দে(পড়ুন-উৎসবে)বাঁচার প্রচেষ্টা। আমরা সে পথের দূরতিক্রম্য বাধা অপসারণেরই প্রয়াস করে চলি মাত্র- ধর্মীয় উৎসব, লোকউৎসব, সামাজিক উৎসব-এর মাধ্যমে। নিরলস এক আনন্দযজ্ঞে তৃপ্ত হওয়ার খোঁজ।

গোবিন্দ:বাংলাসাহিত্যে উৎসব এক চিরায়ত আচার অনুষ্ঠানই।উৎসব বাংলাসাহিত্যকে কোন পালা বদল ঘটিয়েছে?

হেমন্ত:বাংলা সাহিত্যে উৎসবের অবদান আলোচনা করা বিশেষজ্ঞদের পক্ষেই সম্ভব। এটি এতো বিশাল যে সেটি পি.এইচ.ডি.-র বিষয় হতে পারে। তবে, উৎসবাভিমুখে সাহিত্যের যাত্রা নিরলস চলছে, চলবে। যতদিন আপনাদের মতো শব্দশ্রমিকের স্বেদবিন্দু প্রিয় বাংলা ভাষার জন্য ক্ষরিত হবে, ততদিন এ ভাষায় রচিত সাহিত্যেরা 'অমৃতকুম্ভের সন্ধানে' উৎসব উদযাপন করবে। করবে মানবমনে প্রতিনিয়ত শুভবোধী উৎসবের সৃজণ। সমৃদ্ধ হবে সমাজ, কৃষ্টি। অন্য উচ্চতায় আমরা নিজেদের পাবো। শেষ করব কবির ভাষায়-

"যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে

উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে

দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়

অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়"...