মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

সান্ধ্য আইন কবলিত হাইলাকান্দিতে ফিরে আসেনি এখনো স্বাভাবিক পরিবেশ

অন্যদেশ ডেক্স , ১২ মে রবিবার

অশান্ত হাইলাকান্দিতে এখনও বিরাজ করছে উত্তেজনা । রাজপথে শুধু টহল দারী পুলিশের ভারীবুটের শব্দ । বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট সেবা । জিলাটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয় প্রশাসন । পরিমল শুক্লবৈদের পৌরহিত্যে একটি সর্ব দলীয় বৈঠকের আয়োজন করে হয় । কিন্তু দুই সম্প্রদায়ের নেতা উপনেতাদের প্রবল বাকবিন্তন্ডায় ভেস্তে যায় সভার উদ্দেশ্য ।

সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের জেরে শুক্রবার দক্ষিণ অসমের হালিয়াকান্দি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ৩ জন পুলিশ কনস্টেবল সহ প্রায় ১৫ জন এই ঘটনায় আহত হয়েছেন। আশেপাশের কিছু দোকানপাট, মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, কিছু লোক এসএস রোডের মারবাড়ি পট্টিতে নামাজ পড়ার জন্য জড়ো হলে আরেক দলের লোক তাদের উপর পাথর ছোড়া শুরু করে। বুধবার মসজিদের সামনে দার করানো বাইক ভাঙা থেকে এই ঘটনার সূচনা। মসজিদ থেকে বেরিয়ে তারা থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করে। এবংদোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায় তারা। তারা এও বলে যে দোষীদের শাস্তি না দেওয়া হলে তারা রাস্তায় জুম্মা নামাজ পড়বে। সমস্যা তখন বাড়ে যখন তারা সত্যিই শুক্রবার রাস্তায় নামাজের জন্য জড়ো হয়। তখন আরেক দলও ঝাঁপিয়ে পড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে কারফিউ ঘোষণা করা হয়। দেশের লোকসভা নির্বাচনের মধ্যেই উত্তর পূর্বের অসমের হাইলাকান্দিতে জ্বলে উঠল সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুন। অসমের হাইলাকাণ্ডিতে দুটি সম্প্রদায়ের সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫ জনের আহত হওয়ার খবর এসেছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১২ টি দোকান, আগুন জ্বলেছে ১৫টির মতো গাড়িতে।

খবর অনুযায়ী , পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনার সাহায্য চেয়েছে অসম প্রশাসন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, একাধিক নিষেধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে।

এলাকার বেশ কিছু জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, শিলচর, করিমগঞ্জের মতো একাধিক এলাকায়। ঘটনা ঘিরে প্রশাসন সতর্কতা অবলম্বন করেছে বলে খবর।

কী হয়েছিল ?

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের সময় এ ঘটনা ঘটে। এর পরই ওই এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ওই মসজিদের বাইরে নামাজ পড়ছিলেন মুসল্লিরা। এ সময় কিছু লোকজন তাঁদের ওপরে পাথর ছুড়লে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। এর পরই ওই এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়। তবে গত বুধবারের একটি ঘটনা নিয়ে এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত। ওইদিন মসজিদের ভেতরে নামাজ পড়ছিলেন মুসল্লিরা। ওই সময় মসজিদের বাইরে রাখা তাঁদের মোটরসাইকেলে ভাঙচুর চালায় কিছু লোকজন। এর পরই এ ঘটনার বিচার চাইতে স্থানীয় থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করেন তাঁরা। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে মসজিদের বাইরের রাস্তায় নামাজ পড়ার কথাও জানান তাঁরা। পরে শুক্রবার তাঁরা কথামতো মসজিদের বাইরের রাস্তাতেই নামাজ পড়া শুরু করেন। এ সময় তাঁদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করা হয়। আর এরপরই শুরু হয় সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি করে। হাইলাকান্দির ডেপুটি কমিশনার কীর্তি জালি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলেও জানান তিনি। এদিকে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন আসামের আবগারিমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য। তিনি বলেন, ‘যেকোনো সহিংসতা ছাড়াই এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’ এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে পুলিশ ও প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি। পরে সন্ধ্যায় ১২ মে পর্যন্ত পুরো জেলাতে ওই কারফিউ সম্প্রসারিত করা হয়। হাইলাকান্দির ডেপুটি কমিশনার কীর্তি জাল্লি বলেন, বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে ভিন্ন সম্পর্কের কারণে তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে সঙ্ঘাতে লিপ্ত হচ্ছে, যেটা সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূফ নিতে পারে.. সে কারণেই কারফিউ দেয়া হয়েছে”। জেলা প্রশাসন বলেছে, আসাম রাইফেলস ও সিআরপিএফসহ কেন্দ্রীয় বাহিনীগুলোকে মোতায়েন করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনাবাহিনীকেও তলব করেছে। হাইলাকান্দির মারওয়ারিপট্টি এলাকায় রমজানের প্রথম শুক্রবার জুমান নামাজের পর ঘটনার সূত্রপাত। মুসল্লিরা এ সময় মসজিদের রাস্তার পাশে নামাজ পড়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়। পুলিশ সুপার মোহনিশ মিশ্র এ তথ্য জানিয়েছেন।



সূত্র – P.T.I , TIMES OF INDIA