মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

শ্রীলঙ্কার আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে উঠে এসেছে ন্যাশনাল ত্বহিদ জামাতের নাম

--- অন্যদেশ ডেক্স, ২২ এপ্রিল, সোমবার

শ্রীলঙ্কার আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে উঠে এসেছে ন্যাশনাল ত্বহিদ জামাতের নাম ।

বছর দুয়েক আগে বৌদ্ধ ধর্মের বিরুদ্ধে কুমন্তব্যের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল শ্রীলঙ্কা ত্বহিদ জামাত বা SNTJ-এর সম্পাদক আবদুল রেজ্জাককে। গত বছর বৌদ্ধ স্থাপত্যেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল এই সংগঠনের বিরুদ্ধে । তামিলনাড়ুতে জন্ম ত্বহিদ জামাতের। ভারত, শ্রীলঙ্কা সহ এখন সতেরোটি দেশে যার কাজ কারবার। গত বছর বৌদ্ধ স্থাপত্যেও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল এই সংগঠনের বিরুদ্ধে। লঙ্কায় সাত শতাংশের কিছু বেশি মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বসবাস। অধিকাংশই সুন্নি।

শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩ ভারতীয় ও এক বাংলাদেশের নাগরিকের । ভারতীয় তিনজনের নাম লক্ষ্মী ,নারায়ণ চন্দ্রশেখর ও রমেশ ।

রবিবার সকালে কলম্বো ও তার আশে পাশ অঞ্চলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ২০৭ জনের মৃত্যুর খবর রয়েছে । গুরুতর আহত ৫০০ কাছাকাছি । দুষ্কৃতীদের নাশকতার তালিকায় রয়েছে শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও! সতর্ক করল সে দেশের পুলিস। রবিবার সকাল থেকে পরপর ৮টি বিস্ফোরণ ঘটেছে। ২০০ ছাড়িয়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। আহত প্রায় ৫০০। তাদের মধ্যে বেশিরভাগের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। শ্রীলকা

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, গত ১১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার পুলিস চিফ পুজুত জয়সুন্দর বড়সড় নাশকতার আশঙ্কা করে চিঠি পাঠাছিল শীর্ষ অফিসারদের। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল তৌহিত জামাত (এনটিজে) নামে উগ্র ইসলামিক সংগঠন কলম্বোর বিভিন্ন গির্জায় নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে সতর্ক করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের দূতাবাসও। গত বছর, শ্রীলঙ্কার বুদ্ধমূর্তি ভাঙার ঘটনায় এনটিজে খবরের শিরোনামে আসে। তবে, এ দিনের বিস্ফোরণের তাদের হাত রয়েছে কিনা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য ,

কলম্বো সহ ৮টি স্থানে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় কেঁপে উঠেছে সারাবিশ্ব। । এ পর্যন্ত দুই শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে । ভারতীয় ও বাংলাদেশের মানুষও নিহত হয়েছেন । এমনকি বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকটতম আত্মীয় ও নিহত এই প্রাণঘাতী হামলায় । পুলিশ এই ঘটনায় সাতজনকে আটক করেছে ।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। আর আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রুয়ান জয়াবর্ধনা।

শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান বিজয়বর্ধন জানিয়েছেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন তদন্তকারীরা। ইতোমধ্যে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের বিশ্বাস দুর্ভাগ্যজনক এই সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত সব অপরাধীকে যত দ্রুত সম্ভব হেফাজতে নেওয়া হবে। তাদের শনাক্ত করা হয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনও গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

কালে যে তিনটি হোটেলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে তার মধ্যে একটি হলো হোটেল সাংরি-লা। প্রাথমিক তদন্ত থেকে জানা গেছে, ২০ এপ্রিল ওই হোটেলের ৬১৬ নাম্বার কক্ষে যে দুজন ছিলেন তারা ইসলামী চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত।

ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৬১৬ নাম্বার কক্ষে থাকা সন্দেহভাজন ওই দুই ব্যক্তি হোটেলের ক্যাফেটেরিয়া ও করিডরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটনার দিন ঘোরাঘুরি করছেন । এরপর আর তাদের হোটেলে দেখা যায়নি।

তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, সন্দেহভাজন ওই দুই ব্যক্তি ২৫ কেজি ওজনের সি-৪ ধরনের বিস্ফোরকের মাধ্যমে সাংরি-লা হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলা করেন।

সূত্রের বরাত দিয়ে ডেইলি মিরর বলছে, অভিযুক্ত দুই হামলাকারী হোটেলেরে যে কক্ষটিতে ছিলেন সেটি ভাঙার পর তদন্তকর্মকর্তারা সেখানে ইসলামী চরমপন্থীদের ব্যবহৃত কিছু উপাদান খুঁজে পেয়েছেন।

তবে এটা এখনো অস্পষ্ট যে বোমা হামলাকারীরা স্থানীয় নাকি ভ্রমণ ভিসা নিয়ে বিদেশি পর্যটক হিসেবে দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে রোববার সকালের দিকে রাজধানী কলম্বোর তিনটি বিলাসবহুল হোটেল ও তিনটি গীর্জায় মোট ছয়টি বিস্ফোরণ হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরো চার শতাধিক।

ইস্টার সানডের সকালে কলম্বোর বিলাসবহুল সিনামুন গ্রান্ড, শাঙ্গরি-লা ও কিনসবুরি হোটেল ও কলম্বোর সেন্ট অ্যান্থনি গীর্জা, নেগোমবোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান গীর্জা ও বাত্তিকালোয়ার জিওন গীর্জায় ওই হামলা হয়েছে। দেশটির পুলিশের প্রধান বলেছেন, তিনি এই হামলার ব্যাপারে ১০দিন আগেই সরকারকেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন।