বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০

শাড়ি পরব অবশ্য-ই

বর্ণালী সেনগুপ্ত – গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে মাষ্টার বর্ণালী ঘর সংসার নিয়েই ব্যস্ত থাকলেন । যদিও বিয়ের আগে স্কুলে পড়াতেন । বর্ণালী ভালোবাসেন গান । অন্যদেশকে শাড়ি নিয়ে বর্ণালী বললেন , ‘শাড়ি আমার ভালোবাসা’।

গোটাদেশে এখন lockdown এবং কোরোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে ভয় ও দুশ্চিন্তা। মনে যতই শঙ্কা থাকুক পুজোর কয়েকটা দিন কি শাড়ি না পরলে কি চলে? যতইআমরা ওয়েস্টার্ন পোশাকে স্বাছন্দ্য অনুভব করি না কেনো পুজোতে শাড়িপরার আমেজই আলাদা।শাড়ি বাঙালি নারীর সর্বকালের প্রিয় পোশাক ।

5f9a452d89f01.jpg

খুবই সত্যি যে পুজোর ক’টাদিন শাড়ি বা যে কোনও সনাতন দেশি পোশাকেই বাঙালি মেয়েদের দেখতে সবচেয়ে ভালো লাগে।সারাবছর জিন্স, টপ, কুর্তি পরার পর পূজোতে চাই একদম অন্যরকম লুক। তাই শাড়ির থেকে ভালো অপশন আর কিছু হতে পারে না। পূজার সময় আমরা সবাই একটু ট্র্যাডিশনাল অথচ স্মার্ট লুকে থাকতে চাই। এক্ষেত্রে আটপৌরে খুব ভালো। মায়ের বোধন, বরণ থেকে শুরু করে অষ্টমীর অঞ্জলি, দশমীর সিঁদুর খেলার জন্য, আটপৌরের থেকে পোশাকি ধরণের শাড়ি পরে মণ্ডপে ঘোরা – সারা বছর এই দিনগুলির জন্য-ই অন্য বাঙালির মতো প্রতীক্ষায় থাকি ।

5f9a43efde71a.jpg

হাতে বোনা অসমের হ্যান্ডলুম মেখেলা চাদর


শাড়ি ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক । রং, প্রিন্টিং ও রেশম বয়নশিল্পের সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য তুলে ধরে। অঞ্চলভেদে এগুলোর একটি গভীর পরিচয়, নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী নকশা, মোটিফ ও রং রয়েছে। এমনকি অঞ্চল ভেদে শাড়ির বুননও আলাদা। প্রতিটি শাড়িরই সমাজ ও তার চারপাশের মানুষদের নিয়ে একটি গল্প রয়েছে। এটি একটি ইতিহাস বই, যা আপনাকে অঞ্চল, সম্প্রদায়, কারুশিল্পী ও স্থানের ভূগোল সম্পর্কে ধারণা দেয়।

কাঞ্জিভরম রেশম শাড়িগুলোর জন্ম তামিলনাড়ুর মন্দিরের শহর কাঞ্চিপুরে। বিশেষ বুনন কৌশল ব্যবহার করে তৈরি শাড়িগুলো প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে টিকে আছে। পশ্চিমবঙ্গের বালুচরি শাড়িগুলো ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারতের পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে নকশা করা হয়। বিহার রাজ্যের তুষার শাড়িগুলো অত্যন্ত নরম এবং সমৃদ্ধ গঠন ও প্রাকৃতিক গাঢ় সোনা রঙের জন্য বিখ্যাত।

5f9a4474e2640.jpg

বেঙ্গল হ্যান্ডলুম


মা ঠাকুমা দিদাদের দেখে দেখেই শাড়ি প্রতি আকর্ষন জাগে । শাড়ির সঙ্গে পরিচয় ঘটিয়েছেন মা ।

শাড়ি মা পরতেও জানেন । বিশাল ১২ হাতি কাপড়টি কী যে অবলীলায় ম্যানেজ করেন দেখে অবাক লাগে । তাঁত আর সিল্কে মা চিরকাল মা হয়ে আছেন ।

শাড়ির প্রতি মোহমায়া সব বঙ্গ নারীর মতো আমারও রয়েছে । সিল্ক তাঁত শিফন আমার পছন্দের শাড়ি ।

5f9a4498b6484.jpg ঢাকাই

ঢাকাই জামদানি


আমার পরা হলদে মেখেলা চাদরটা উজান অসমের ধেমাজি থেকে কেনা । হাতের তাঁতে বোনা । সম্পূর্ণ সুতির মেখেলা । স্থানীয়রা বলেন , বোয়া মেখেলা

সবুজ নীল হলদে সুতোর কাজ রয়েছে ঢাকাই জামদানিতে । জামদানির প্রতি একটু দুর্বলতা তো রয়েছেই ।

সাদা-কালোর কম্বিনেশনে আমার আরেকটি প্রিয় শাড়ি মুর্শিদাবাদী সিল্ক । কালো স্ত্রিপ্ট আঁচল পাড় । হাল্কা , খুব আরামদায়ক ।

5f9a44c4c0fc4.jpg

মুর্শিদাবাদী সিল্ক


Off white উপরে নীল ও কালো সুতির কাজ , বেঙ্গল হ্যান্ডলুম ।

হলদে রঙের শাড়িটা সেমি কাঞ্জিভরম । আঁচলে গাঢ় নীলের রঙের সঙ্গে গ্রে –এর মিশ্রণ । পুরো শাড়িটাতে temple work । জড়ির কাজ । দারুণ লাগে আমার ।

5f9a44ec2d97d.jpg

কাঞ্জিভরম


নীল মেখেলাটি অসমের পাট সিল্ক । সিল্কের উপরে সুতোর কাজ ।

5f9a4515b4e9f.jpg

অসম সিল্কের মেখেলা


পুজো আসে , পুজো যায় কিন্ত আমরা নারীরা শাড়ির বিষয়টি এলে চিরনবীন চির কাঁচা হয়ে উঠি । পৃথিবী করোনা মুক্ত হোক । নতুন নতুন শাড়িতে দোকান গুলো সেজে উঠুক । আমরা অপেক্ষায় আছি ।