রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

লজ্জা


আস্তিনের ভিতর থেকে খুব প্রকটভাবে বেরিয়ে আসছে ভোঁতা ছুঁড়ির মুখ ও রাজকীয় লাম্পট্য...

ঘৃণায় থরথর সভ্যতা।

সভ্যতার আঁচলে অচল শিক্ষা।

হামাগুড়ি দিতে-দিতে অবশেষে

রেখে যাওয়া কেবল রক্তদাগ...

হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ছে মানবিক মুখ

একটা বহুতল বিল্ডিং প্রকাণ্ড ভূমিকম্পে

ভেঙে পড়লে যেমন হয়, তেমনই তো...

তোমাদের মসনদ আছে। সুরক্ষা আছে।

ঠাণ্ডা ঘর আছে। আর যা-যা লাগে সব আছে।

অক্ষর-ফেরি করা শিক্ষক তোমার ভিতর তো কেবল

হাজারটা বর্ষাকাল। আমার ভিতরও বিদ্যুতের বিফল বিলাপ। এক-একটা বর্ষাকালের ভিতর বয়ে যাচ্ছে

কেবল রক্ত ও রাখালের সংলাপ...

অঙ্ক কষতে-কষতেই নয়, আপনারাও ফিরে তাকিয়ে দেখুন একবার ...

আপনারা দেখছেন স্বরবর্ণ-ব্যঞ্জনবর্ণ লাঠির আঘাতে-আঘাতে রাজপথে রেখে যাচ্ছে

দলাপাকানো রক্তরঙের তাজা ইতিহাস...

আগামী সেপ্টেম্বরের পাঁচ আমরা ঘটা করে শিক্ষক দিবস উদযাপন করব। নানারঙ ঝলমল করবে আলোচনার দেহ। আমরা হাততালি দেবো। লজেন্স-বিস্কিট খাবো। মোমবাতি জ্বলবে। শিক্ষকদের গুরুত্ব কত আবার সবাই জানবো নতুন করে। পাঠশালা থেকে পাঠাগার সমস্ত সভা, মিডিয়া থেকে মিনারেল ওয়াটার সেজে উঠবে... উপহারের দোকানগুলো ভিড় সামলাতে হিমসিম খাবে...

এরই মাঝে এখনও কেউ-কেউ বলবে, "মাস্টারমশাই, আপনি কিছু দেখেননি..."

মাস্টারমশাই -দিদিমণি কিছু দেখেননি। কিছু বলেননি।

শুধু রাজপথ রেখে দিয়েছেগণতন্ত্রের আসল চেহারা...

আমাদের পিঠে আঁচড়ের দাগ আর মৃত কালো রক্ত...