বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

‘মনে করো’ কচি রেজার জন্মদিন

৮ এপ্রিল, সদা হাস্য কবি কচি রেজার আজ জন্মদিন। অন্যদেশ পরিবারের পক্ষ থেকে কবিকে শুভেচ্ছা।


কচি রেজার কাব্যগ্রন্থ ‘মনে করো’। প্রকাশ করেছে ‘চৈতন্য।’ পাঠকদের জন্য পাঁচটি কবিতা প্রকাশ করা হলো।

এক
প্রার্থনার পর আমি অনুভব করি নিজের ভাঙা কণ্ঠস্বর। প্রার্থনা অনুমোদিত হয় ভেবে আবার হাঁটু ভেঙে বসি। মাঝে মাঝে স্ফিঙ্কসের মতো পাথর সময় আসে। এক ক্যারাভ্যান বালু দিয়ে কারা যেন বানায় আমাকে। এ বিষয়ে আমার হাসিই সবচেয়ে শুদ্ধ যন্ত্রণা।
দুই
বালিহাঁস নেমে আসছে, আমি ফুঁপিয়ে উঠে খানিকটা সন্ধ্যা ছিঁড়ে নিচ্ছি দাঁতদিয়ে! জলে হাঁস ছেড়ে ঘরে ফিরে গেছে মা! পার হয়ে শাপলা, পানিফল আর কাচের মাঞ্জা! সেই যে বাঁশি শুনে বেরিয়ে পড়েছিল নীরজা আর ফিরে যায়নি ভাঙা খিলানের নিচে দাঁড়ানো মেয়েটির কাছে! কত সূর্যাস্ত ঝরলো, গাল রাঙা লোক তো নীলকণ্ঠ ফুলের আভা! তারপর ,আজ বোধহয় মৃত্যুর পঞ্চম দিন! ফিরে আসি যদি তুমি এড়িয়ে যেয়ো এক অচেনা মানুষ ভেবে! সমস্ত সম্ভাবনা পালটে এই অসুখ-জন্মের উপর বিছিয়ে দিও একটি পাতা ঝরা পথ!
তিন
ব্যথার পরেই তো অর্থহীন সংলাপ, তাই না! যে আমি প্রতিদিন ভঙ্গিটাই বদলাতে চেয়ে হাঁটতে শুরু করি আর মোড়ের ওই ভিখিরিটার একইভাবে লেপটে বসা আমার দৃষ্টিতে যেন এক-ই প্রকার এবং একাকার! এই একাকারটিকে স্পর্শ করে অনন্য ভঙ্গি দিয়ে চলতে চলতে দেখি, অনুমানের উপর যে চলাটা আমি চলেছি সে সেই দেয়াল ঘেষেই! সুড়ঙ্গের কোথাও আলো নেই! কোথাও মহিমার যাত্রা নেই!
চার
বেদনার দিকে আমি উড়িয়েছি যত ঘুড়ি সব বিষণ্ন হয়ে ঝরে গেছে! এখন শীত আসে পাতার সওয়ারে, নীড়ের কথা ভেবে মুমূর্ষু হয় পাখি! কোথাও আগুনে ঝলসে গেছে দু'টি ক্যাঙ্গারু-শিশু! এইভাবে সর্বদা যেকোনো নিঃশ্চিহ্নতা মৃত্যুকেই প্রকাশমান করে! আমরা বেঁচে থাকি আর শিতে থরথর প্রতিবিম্বের দিকে চেয়ে!

পাঁচ

স্বীকার করি, সঙ্গীত শিখিনি! রোদন জমা করিনি! বোতাম ছিঁড়ে গেলে দারুচিনি গাছের কাছে শিখতে চেয়েছি নেশা! গাছেরও আছে ভ্রুভঙ্গি! বিবাহের রাতে আয়নায় এক তিলোত্তমাকে দেখি, পেশোয়াজ পরতে গিয়ে ভেঙে ফেলেছে বাঁকা নখ! তখন সমুদ্রে যাওয়ার ইচ্ছে হল আর যেহেতু জানলো না কেউ, কিভাবে এক পাথুরে অচেনা স্টেশনে হারিয়ে গেলাম আমি!