মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কবলে অসম

নিজস্ব সংবাদদাতা , অন্যদেশ ডেক্স

অসমে বন্যা পরিস্থিতির ভয়ানক অবনতি হয়েছে । গত কয়েকদিন ধরে একটানা লাগাতা বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এদিকে বন্যায় প্রাণ হানি ঘটছে ১৫ জনের । ২৫ লাখ মানুষের উপরে বাজছে বিপদঘন্টা । ধেমাজি, লখিমপুর, তিনসুকিয়া. কোকরাঝাড়, গোয়ালপাড়া, মাজুলি, জোরহাট, ডিব্রুগড় , করিমগঞ্জের বিস্তৃণ অঞ্চল জলের তলায় ।

এ ছাড়াও বরপেটা,শোনিতপুর, দরাং, ধুবুরি নলবাড়িতেও বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বন্যার জলে তলিয়ে গেছে বহু সংখ্যক গ্রাম। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধেমাজি জেলা। খেত পাথার সব ডুবন্ত জলে ।ধেমাজির সংবাদ দাতা দিলীপ বরগোহাই জানালো ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির সংবাদ । নদী নালা খেত-পাথার সব সাগরময় । উদ্ধারে নেমেছে সেনাবাহিনী ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। গৌহাটি মহানগরে ব্রহ্মপুত্র বিপদ সীমার উপরে বইছে ।

বহু এলাকায় ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। জোরহাট, শোনিতপুর, গোয়ালপাড়া, গুয়াহাটি, ধুবড়িতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে ব্রহ্মপুত্র। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে ধানশিরি, কপিলি, কুশিয়ারাও ৷ অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতিও বিপজ্জনক৷ সরকারি হিসেবে ১৪০০টি গ্রাম জলমগ্ন৷ প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দা ঘরছাড়া৷ কয়েক হাজার একর জমির ফসল বরবাদ৷ রাস্তাঘাট, হাইওয়ে, সেতু বানভাসি৷ ১০টি জেলায় ১৬৬টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় দুই লক্ষ বন্যার্ত মানুষ৷ জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সেনা ও বিমানবাহিনীর সাহায্যে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে৷

অসমের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবচেয়ে তীব্র বন্যার কবলে পড়েছে বরপেটা জেলা ও ধেমাজি জেলা। সেখানকার ৮৫ হাজার মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে রয়েছে।এ সপ্তাহে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় শুক্রবার আসাম জুড়ে নৌ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পার্শ্ববর্তী অরুণাচল রাজ্যের চীন সীমান্তবর্তী টাওয়াং শহরে ভূমিধসের কবলে পড়ে নিহত হয়েছে দুই স্কুল শিক্ষার্থী। গত মঙ্গলবার থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে নতুন করে ভূমিধসের কবলে পড়তে থাকে নতুন নতুন এলাকা।

কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানে বন্যার জন্য তৈরি করা বিশেষ প্ল্যাটফরমে বানভাসিদের পোষা প্রাণীদের রাখার সুযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেন তিনি।


ছবি সুত্র - google