মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

ভারতের বিশ্বকাপ দল ঘোষনা ১৫ তারিখ

মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে সোমবার খেলতে নামবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। কাগজ–কলমে সেটাই হয়ে যেতে পারে দলটির মৌসুম নির্ধারণী ম্যাচ। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে অবশ্য ফ্র্যাঞ্চাইজি দল নয়, জাতীয় দল নিয়েই বেশি চিন্তা করতে হবে বিরাট কোহলিকে। সেদিন যে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। আর দল ঘোষণার সে মিটিংয়ে অধিনায়ক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা কোহলির। অধিনায়ককে সাক্ষী রেখেই তাঁর বাকি ১৪ সঙ্গীর কথা জানাবে বোর্ড।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে চূড়ান্ত দল ঘোষণার শেষ সময় ২৩ এপ্রিল। তবে নিউজিল্যান্ড দল মাসের শুরুতেই দল জানিয়ে দিয়েছে। অত তাড়াহুড়ো না করলেও ভারত দলও ১৫ তারিখের মধ্যে ১৫ জনের নাম ঘোষণা করে দিতে চায়। নির্বাচকদের আশা, এতে করে দলে থাকা খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপের আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়াটা সহজ হবে। ২০১৫ বিশ্বকাপে খুইয়ে আসা শিরোপাটা পুনরুদ্ধার করতে চায় ভারত।

ভারতের নির্বাচক কমিটির প্রধান এম এস কে প্রসাদ গত ফেব্রুয়ারিতেই অবশ্য বলে দিয়েছেন দল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে। ২০ জনের দলকে শুধু ১৫-তে নামিয়ে আনার কাজ করতে হবে তাঁদের, ‘হয়তো শেষ মুহূর্তে গিয়ে একটি স্থান নিয়েই আলোচনা হবে। বাদবাকিদের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।’ এ ব্যাপারে আইপিএলের পারফরম্যান্স যে কোনো ভূমিকা রাখবে না, সেটাও তখন নিশ্চিত করেছেন প্রসাদ, ‘আমরা এর মধ্যেই মনস্থির করে ফেলেছি। আমরা শুধু ওই খেলোয়াড়দের দিকেই নজর দেব, যাদের স্কোয়াডে থাকা উচিত বা স্ট্যান্ডবাই হিসেবে থাকতে পারে। আমরা ২০ জন খেলোয়াড়কে জোগাড় করে নিয়েছি। আমরা তাদের খেলাই অনুসরণ করব।’

অস্ট্রেলিয়ার কাছে সিরিজ হারের পরও কোহলি বলেছিলেন, দলে কোনো পরিবর্তন আসবে না, ‘একটা দল হিসেবে এটাই আমাদের নিশ্চিত সমন্বয়। সর্বোচ্চ একটি পরিবর্তন আসবে, সেটাও কন্ডিশনের কথা বিবেচনা করে। এ ছাড়া কোন একাদশকে মাঠে নামানো হবে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত।’

নির্বাচক ও অধিনায়ক যে একটি স্থান নিয়ে চিন্তিত, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সেটাকে চিহ্নিত করেছে। সবাই ধারণা করছে ব্যাটিং লাইনআপে চারে কে নামবেন, এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে ভারত। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর থেকে এ পজিশনে ১১ জন ব্যাটসম্যানকে খেলানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে আম্বাতি রাইড়ুকে। তবে রাইড়ুর বাজে ফর্মের কারণে বিশ্বকাপ দলে এ জায়গা উন্মুক্ত হয়ে গেছে। রাইড়ু ছাড়াও এ পজিশন নিয়ে লড়াইয়ে আছেন কে এল রাহুল, দিনেশ কার্তিক ও ঋষভ পন্ত। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে কম অভিজ্ঞ হয়েও দৌড়ে বেশ এগিয়ে পন্ত। তবে উইকেটরক্ষক পরিচয় ও দলে ধোনি ও কার্তিকের উপস্থিতি পন্তের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া দলের দ্বিতীয় অলরাউন্ডার নিয়েও একটু সন্দেহে থাকার কথা ভারতীয় নির্বাচকের। হার্দিক পান্ডিয়া অলরাউন্ডার হিসেবে একাদশে নিশ্চিত। কিন্তু তাঁর বদলি হিসেবে রবীন্দ্র জাদেজা যাবেন নাকি বিজয় শংকর যাবেন, এটা দেখার বিষয়। অতটা না হলেও পেস বোলিং আক্রমণ কিছুটা ভাবাচ্ছে ভারতকে। জসপ্রীত বুমরা, মোহাম্মদ শামি ও ভুবনেশ্বর কুমারের জায়গা প্রায় নিশ্চিত। হার্দিক পান্ডিয়া পেস বোলিং অলরাউন্ডার হওয়ায় দুশ্চিন্তা কম দলটির। কিন্তু চতুর্থ পেসার হিসেবে উমেশ যাদব নাকি নবদীপ সাইনিকে নেওয়া হবে, সেটা নিয়েই সন্দেহ।