শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

ভারতবর্ষ,-১

এক

সামুদ্রিকঝঞ্ঝাবাত

একটা টিলার মাথায় আছি। হতে পারে এটা একটা বালিযাডির মাথা। নীচে তাকালে যে মানচিত্র ফুটে ওঠে, বিশেষ করে সময়টা যদি সকালবেলা হয, হোটেলের ব্যালকনি থেকে তাকালেই দৃষ্টিকে আচ্ছন্ন করে স্বচ্ছ দিগন্তে ছডিযে থাকা সমুদ্র। তার সৈকতে স্নানার্থীরা। সমুদ্রটা মৃল ভারত মহাসাগর বা বঙ্গোসাগরের থেকে কেটে নেওয়া একটা হ্রদের মত অবস্থা। না, অন্য কেউ একে হ্রদ বলবে না যে তামিলনাড়ুর এই কোস্ট লাইন বরাবর পথ হাঁটে নি। এখানে সমুদ্র সৈকত অনেক জায়গাতেই ডাঙার ভেতরে ঢুকে সমুদ্রকে বারংবার টেনে এনেছেতটরেখারই ভেতরে।সৈকতেরওপরঅনবরতইবালুকাবেলাযছডিযেথাকাটুকরোটুকরোসমুদ্র।এগুলিইহ্রদহযেআছেকোথাওকোথাও। বালির আল দিযে এই জলাধার গুলি সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হযে আছে সমুদ্রের মূল আধারটির থেকে। ঢেউয়ের উথালপাথাল, ঝঞ্ঝা, সাইক্লোন, সুনামি এই সবকিছুরই হাত আছে প্রকৃতির এই সংরচনায।আমরাডাঙারমানুষেরাবড়োমাপেরজলাশয়কেবলিসায়র। তামিলনাডুর এই তটরেখায় এসে দেখছি ডোবা সমুদ্র, পুষ্করিণীসমুদ্র, ঝিলসমুদ্রও।সৈকতেরএইঝিলগুলিক্বচিত্মিষ্টিজলেরও হয। এই সব হ্রদ বা কাটাছেঁড়া সমুদ্রেরা সমুদ্রের সংস্পর্শে আছে বলেই যে হ্রদটির জলও নোনা হবে এরকম কোন কথা নেই। কোন হ্রদ সারা বছর বৃষ্টির জল কতখানি নিতে পায় তার ওপরে নির্ভর করে তার লবনাক্ততা। এদেরও জলের রং সমুদ্রের জলের মতই নীল। সমুদ্রেরহ্রদগুলিবেশিরভাগইনোনতা জলের। সঙ্গে জোড়া এই ছোট বড হ্রদগুলিতে জলে বিভিন্ন মাত্রার লবণ থাকার জন্য এগুলিতে জলের গুণাগুণ এ ফারাক থেকে যায়। এই হ্রদগুলি কযেকটা গাছপালায় ঘেরা। সমুদ্রর সমতটএর সঙ্গে মিশে আছে।এখানের লোণা হ্রদ গুলিতেও অতখানিইজৈববিবিধতা। পাখিদের আনাগোনা। সমুদ্রের পাখিদেরও দেখা যায়। তারা সিগাল,মাফিন, পেলিক্যান ।এরাছাডাওজলেরলবনধারণেরহেরফেরঅগ্রাহ্যকরেএখানেআসেজলঘেঁসানানানপাখি, মাছরাঙাপানকৌডি , বকেরা, হাঁসেরা,পরিযায়ীপাখিরা।জলজজীবদেরপ্রাচুর্যনাথাকলেজলাজমিতেপাখিদেরএতসমাগমহযনা।কিন্তুসৈকতঅধিকারকরেথাকাবাবালুবেলা যবিচ্ছিন্নএইসবছেঁডাকুড়োসমুদ্রদেরকথাবাদদিলেওপ্রকৃতিগতবিভাজনেও জাযগাটাএখানেঅনেকসমুদ্রেবিভক্ত।হযতস্থানীযনাবিকেরাজানেএইসবজলেরবংশপঞ্জী, সীমারেখা। এসব কথা মহাকাব্যের বিষয হয়ে আছে ভারতবর্ষে। রামেশ্বরম তীর্থ হয়ে আছে এই কাব্যের মহিমা নিযেই। মানচিত্রের সেতুবন্ধ রামেশ্বর অনেকখানিই উন্মুখ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে জুড়ে যাওয়ার জন্য। আড়াই হাজার বছর আগেরজাতকের গল্প তাতেও দেখি এই অঞ্চলের রহস্যময়তা। রামায়নের কাহিনীতে এই স্থানই নানা জাতির মিলনক্ষেত্র। তাদের নাম মনুষ্যেতর। কিন্তু আখ্যায়িকায তারা মানুষের মত দল বাঁধে। যুদ্ধ রচনায় নামে। মানুষের মতই অনেক স্তরে, অনেক মাত্রায় কথা বলে। সমুদ্র জয়ের সেতু নির্মাণ করে কাঠবেড়ালিদেরসহায়তায়। ভারতবর্ষের বহুজাতিক এই সাম্রাজ্যবিস্তারে প্রয়াসে কেউ কাঠবেড়ালি, কেউ বানর তো কেউ রাক্ষস। অযোধ্যা (আর্যাবর্ত) ও শ্রীলঙ্কা দু রাজ্যই একে অপরের প্রতি আকর্ষিত। পৃথিবীর দক্ষিণ মহাদেশ গুলিতে শ্রীলঙ্কারই মতো আরো কয়েকটাই এমনি দ্বীপ তাদের সকলেরইমূল ডাঙার সঙ্গে এমনিই দূরত্ব রাখা সম্পর্ক।

এখানের ভৌগলিক বিস্তারেই তো নিহিত এমন অপরুপ পরাবাস্তবতার বিষ্ময়। কিন্তু তার সমস্তটাই কি উদ্ভট কল্পনা। লাফ মেরে মেরেই তো এলাম রামেশ্বরম। জমিটা তো যেন মূল ডাঙারথেকে শ্রীলঙ্কার দিকেই এগোচ্ছে। রামেশ্বরম নিজেই একটা জাযগা যেটি ডাঙা হত বিচ্ছিন্ন। রামেশ্বরম আর ধনুস্কোডি জুড়ে রেখেছে সরু, এক লাইনের একটা পথ, সেটা পাকদণ্ডি নয, মানচিত্রে আছে। এই সরলরেগাটাই এগিয়ে গেছে ধনুষ্কোডি ছাড়িয়েও আরো অনেকটাই দূর, সমুদ্রেরভেতরে। এই এক ফিতে রাস্তা, কিছু কম নয, 14 কিলোমিটার, সেটকে তো সাইক্লোন উডিয়ে নিয়ে যায় নি।এই এক রেখার রাস্তাই ধনুষ্কোডি পেরিয়ে আরো কযেক কিলোমীটার এগিয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার দিকে ঐ একটাই সরলরেখা ধরে। এমনি ভৌগলিক সংরচনা ছিল বলেই তো হনুমানের উল্লম্ফনে সমুদ্র পরাস্ত হয়েছিল, শ্রীলঙ্কা এসেছিল নাগালে। রাবন সমুদ্র পেরিয়ে হামেশাই চলে এসেছেন মূল ভূমি ভারতবর্ষে। মানচিত্রে এই জায়গাটা জম্বুদ্বীপের অন্তরীপ এলাকার থেকে যেন এক ঝটকায় শ্রীলঙ্কাকে দূরে সরিয়ে দিতে চাচ্ছে। বিশ্বচরাচরে অন্তরীপ হতে বিচ্ছিন্ন শ্রীলঙ্কার মতো আরো কয়েকটাই এমনি দ্বীপ তারা মূল ডাঙার সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। আফ্রিকার দক্ষিনপূর্বে ঠিক শ্রীলঙ্কারই মত অবস্থানে আছে ম্যাডাগাস্কার। এমনিই আছে অস্ট্রেলিয়ার তাসমেনিয়া, নিউজিল্যাণ্ড। মূল ডাঙার থেকে বিচ্ছিন্ন এদ্বীপগুলির নিজস্বতা ফুটে ওঠে গাছপালার বিবিধতায়, জীববৈচিত্রে যেটা প্রকট। এটা ম্যাডাগাসকারে দেখা গেছে বিশেষভাবে, তাসমেনিয়া, নিউজিল্যাণ্ডও অস্ট্রেলিয়া। আফ্রিকার জীবজগতম্যাডাগাসকারের জীবজগত থেকে স্পষ্টতই আলাদা। ও আছে এমনি জীববৈচিত্র। কিউই, নামের এই পাখিটি সারা বিশ্বে আর কোথাও নেই


চলবে ...