শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

ভারতবর্ষ,পর্ব -৮

এই স্থাপত্য শিল্প এখানে দেখতে পাওয়া যায় রিক্ত রাজমহল থেকে নিযে এখানের নিজস্ব স্থাপত্যে গড়া মন্দির গুলিতেও। মন্দির গুলির মধ্যে ব্যতিক্রম তিরুবন্তপুরমের পদ্মঁনাভ মন্দির।

এই একটি মন্দিরই এখানে পাথরে তৈরি আর বিশাল। বাকী যে সব বিখ্যাত মন্দির সেগুলি উঁচু নয। তাদের টালির চাল, ইঁটের দেওয়াল। বাকী সবকিছুতেই তাদের মন্দির সুলভ মর্যাদা। পদ্মনাভপুরম মন্দিরের তোষাখানায এখনো সুরক্ষিত রয়েছে ত্রিবাঙ্কুর রাজ্যের অতুল সোনাদানা। সাত রাজার ধনরত্ন বললেও অত্যুক্তি হয না।

এখান থেকে কোভলম তেমন বেশি দূর নয তাই তাডা ছিল না। নাহলে দুর্যোগ তো পিছু ছাড়ে নি। অন্ধকার মেঘে ছেয়ে আছে দিন। প্রতিটি মুহূর্তই সন্ধ্যে নামার মত।

এখান থেকে আবার হাইওয়ে। এই রাস্তা আমি চিনি। ত্রিভান্দ্রাম থেকে এটা তিনটে হযে যায়। তিনটেই কেরলের দক্ষিন থেকে উত্তরে যায়। পুরো কেরল রাজ্যটাকেই এইভাবে ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলা যায় এই তিনটে রাস্তা ধরে, কেরল যেন জিগশ ধাঁধার একটা গুটি যেটার সম্পূর্ণ পশ্চিম দিক জুডে আছে একটা অতীব সুন্দর কোস্ট লাইন পূর্বে অঙ্গাঙ্গী জুড়ে আছে তামিলনাড়ু। এই সৈকত রেখাই ইতিহাস-ভূগোলের বইতে পড়া কোঙ্কণ ও মালাবার উপকূল। আমরা এখান থেকে উলটে দেখছি তাই মালাবার আসে আগে, কোঙ্কণ পরে। সৈকত ধরে ধরে এই কোস্টাল হাইওযে যাবে ক্যুইলন বা কোল্লম, এই অপর নামটাই এখন বেশি চলে। কোল্লম পেরিযে অ্যালেপ্পি, তার উত্তরে পর পর কোচিন, ডাঙার একটু ভেতরে ঢুকে ত্রিশূর বা ত্রিচূর, ঐভাবেই আরো এগোলে কালিকট যার নতুন নাম কোঝিকোড়, কিন্নুর পেরিয়ে কেসরগোড় এলে ততক্ষণে রাজ্যটা কর্ণাটক।

ত্রিশূরের দিকে না গিয়েও সৈকতরেখা ধরে ধরে আরো খানিকটা এগোন যায়। সে রাস্তায় গুরুওয়াযুরের বিখ্যাত কৃষ্ণ মন্দির। কেরলে ট্যুরিস্ট দের আকর্ষন করার জন্য একটা পাঞ্চলাইন খোলা আছে সর্বত্র "ওযেলকাম টু গডস্ ঔন কান্ট্রি।" গডস্ ঔন কান্ট্রি কথাটা যেন শিবঠাকুরের আপন দেশে। এখানেরও একুশে আইন সেটা সর্বনেশে না হলেও, বুঝতে হয়। এত বিবিধতাময় প্রাকৃতিক সম্ভারে ভরা দেশ কেরল সেটা সহজেই দেবতার দেশ হয়ে যায়।

কেরল রাজ্যটি এইটুকুই।

কোভলম তো এলাম। চেনা জাযগা এখন অচেনা হয়ে আছে। একটা জনমানুষ নেই সমস্ত বীচ এর কোথাও। অনেক কটি ঢাবা সৈকতের বালির ওপরেই আর বীচটা খুর লম্বা। সুন্দর তো বটেই। বিদেশী ধনী দেশের গরীবরা এখানে আসে নানা কারণে। অল্প কযেকজনই আসে প্রাকৃতিক পরিদৃশ্যের টানে তবে এতে কোন সন্দেহ নেই যে এরকম নিরিবিলি একটা স্পট এ এসে ওরা নিজের মত করে একটু যেনবা জুড়োয়। আন্তর্জাতিক বিধিবাঁধনের বোঝাগুলি, আপন আপন দেশে বেঁচে থাকার জটিলতা বা বৈপরীত্য সেসব ঝেড়ে বা ঘাড় থেকে নামিয়ে রেখে ওরা ভারতীয় জীবনের শান্ত নিস্তরঙ্গতাকে পেতে চায়। বেশির ভাগই আসে যৌনতার এডভেঞ্চার করতে। সস্তা হোটেল, সস্তা খাবার, আর আন্তর্জাতিক ভীড়। কোন দেশের মানুষ ভিড়ছে কোন দেশের ভীড়ে বোঝা ভার। ভাষাতেও বহুবিধ, গাযের রংএও। একজোড়া কালোসাদা কিশোর কিশোরীর সঙ্গে আলাপ করে জানলাম দুজনই ম্যাঁরিগ্যাঁন, একজন লস এঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া তো অন্যজন মিসিসিপি স্টেটের। লস এঞ্জেলেস সাদা আর মিসিসিপি কালো।

কখনো বা দেখি এই বহুদেশীয় বিদেশিরা একটাই তাঁবুর ভেতরে আড্ডা জমিয়েছে। তাঁবুটা বিয়েশাদীর আযোজনের মতোই, তার থেকে দামী কিছু নয। । একটা সস্তায়
পুষ্টিকর ব্যবস্থা। হোটেলের ভাড়া বাঁচে। নেশাটেশার বস্তু বাইরের থেকে এলেও ওদের স্বতস্ফূর্ত নেশা আপনাআপনিই উতসারিত হয়
পৃথিবীর এমন গহন এই কোনায়। ওরা নিজেদের ভেতরেই থাকে ও নারকোটিকস এর দিকটা সম্ভবত একটা বড়ো স্বস্তিকর অবস্থা এখানে ওদের জন্য। অল্পবযস্ক সরলমতি ধনী দেশের এই অল্পবিত্ত সন্তানদের জন্যকোভলম এইবারে গোপনীয় রহস্যময়তায় টানে, টেনে রাখে।

সমুদ্রের দিকে মুখ রেখে দাঁড়াতেই বাঁহাতি একটা পাহাড়ি টিলা, তার মাথায় একটা লালসাদা লাইট হাউস। ডানহাতের প্রসারিত বীচের ওপর সৈকতের ঢাবাগুলি। সমুদ্রের চেহারাও বিভিন্ন ।এই লাইট হাউসের ওপারে আমাদের হোটেল। নীচে একচিলতে সমুদ্র। খুব নিচে নয়, হেঁটে হেঁটে নামা যায়। নীচে বড়ো বড়ো পাথরের চাঁই গুলোর ওপর অনবরতই ঢেউ আছড়াচ্ছে। পাথরগুলো শ্যাওলায় পিছল।

এটা এখানে দেখতে পাওয়া যায় রিক্ত রাজমহল থেকে নিযে এখানের নিজস্ব স্থাপত্যে গড়া মন্দির গুলিতেও। মন্দির গুলির মধ্যে ব্যতিক্রম তিরুবন্তপুরমের পদ্মনাভ মন্দির। তার তোষাখানায এখনো সুরক্ষিত রয়েছে ত্রিবাঙ্কুর রাজ্যের অতুল সোনাদানা। সাত রাজার ধনরত্ন বললেও অত্যুক্তি হয না।

এখান থেকে কোভলম তেমন বেশি দূর নয তাই তাডা ছিল না। নাহলে দুর্যোগ তো পিছু ছাড়ে নি। অন্ধকার মেঘে ছেয়ে আছে দিন। প্রতিটি মুহূর্তই সন্ধ্যে নামার মত।

এখান থেকে আবার হাইওয়ে। এই রাস্তা আমি চিনি। ত্রিভান্দ্রাম থেকে এটা তিনটে হযে যায়। তিনটেই কেরলের দক্ষিন থেকে উত্তরে যায় পুরো কেরল রাজ্যটাকেই এইভাবে ছুঁয়ে ছুঁয়ে চলা যায় এই তিনটে রাস্তা ধরে, কেরল যেন জিগশ ধাঁধার একটা গুটি যেটার আছে একটা অতীব সুন্দর কোস্ট লাইন। ইতিহাস-ভূগোলের বইতে পড়া কোঙ্কণ ও মালাবার উপকূল। আমরা এখান থেকে উলটে দেখছি তাই মালাবার আসে আগে, কোঙ্কণ পরে। সৈকত ধরে ধরে এই কোস্টাল হাইওযে যাবে ক্যুইলন বা কোল্লম, এই অপর নামটাই এখন বেশি চলে। কোল্লম পেরিযে অ্যালেপ্পি, তার উত্তরে পর পর কোচিন, ডাঙার একটু ভেতরে ঢুকে ত্রিশূর বা ত্রিচূর, ঐভাবেই আরো এগোলে কালিকট যার নতুন নাম কোঝিকোড়, কিন্নুর পেরিয়ে কেসরগোড় এলে ততক্ষণে রাজ্যটা কর্ণাটক। কেরলের পূর্বের রাজ্যটি তামিলনাড়ু। কেরলের সঙ্গে ঘনিষ্ট ভাবে জোড়া।

ত্রিশূরের দিকে না গিয়েও সৈকতরেখা ধরে ধরে আরো খানিকটা এগোন যায়। সে রাস্তায় গুরুওয়াযুরের বিখ্যাত কৃষ্ণ মন্দির। কেরলে ট্যুরিস্ট দের আকর্ষন করার জন্য একটা পাঞ্চলাইন খোলা আছে সর্বত্র "ওযেলকাম টু গডস্ ঔন কান্ট্রি।"

গডস্ ঔন কান্ট্রি কথাটা যেন শিবঠাকুরের আপন দেশে। এখানেরও একুশে আইন সেটা সর্বনেশে না হলেও, বুঝতে হয়। এত বিবিধতাময় প্রাকৃতিক সম্ভারে ভরা দেশ কেরল সেটা সহজেই দেবতার দেশ হয়ে যায়।

কোভলম তো এলাম। চেনা জাযগা এখন অচেনা হয়ে আছে। একটা জনমানুষ নেই সমস্ত বীচ এর কোথাও। অনেক কটি ঢাবা সৈকতের বালির ওপরেই আর বীচটা খুর লম্বা। সুন্দর তো বটেই। বিদেশী ধনী দেশের গরীবরা এখানে আসে নানা কারণে। অল্প কযেকজন ই আসে প্রাকৃতিক পরিদৃশ্যের টানে। বেশির ভাগই আসে যৌনতার এডভেঞ্চার করতে। সস্তা হোটেল, সস্তা খাবার, আর আন্তর্জাতিক ভীড়। কোন দেশের মানুষ ভিড়ছে কোন দেশের ভীড়ে বোঝা ভার। ভাষাতেও বহুবিধ, গাযের রংএও। একজোড়া কালোসাদা কিশোর কিশোরীর সঙ্গে আলাপ করে জানলাম দুজনই ম্যাঁরিগ্যাঁন, একজন লস এঞ্জেলেস, ক্যালিফোর্নিয়া তো অন্যজন মিসিসিপি স্টেটের।


চলবে ...