মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

'বাজেট উন্নয়নমুখী, নাগরিকবান্ধব ও আগামীর দিশারি', বললেন প্রধানমন্ত্রী

'বাজেট উন্নয়নমুখী, নাগরিকবান্ধব ও আগামীর দিশারি'। টুইট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

বাজেটের পর প্রথা মেনে প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বলেন,'নতুন ভারত নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বাজেট। আশা, আকাঙক্ষা ও বিশ্বাস পূরণ করবে। স্বাধীনতার ৭৫ বছরে দেশে সংকল্প পূরণের পথ দেখাবে বাজেট'।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়,'বাজেট উন্নয়নমুখী, নাগরিকবান্ধব ও ভবিষ্যত দিশারি। দেশকে সমৃদ্ধশালী ও সাধারণ মানুষের শক্তি বৃদ্ধি করবে। সুনিশ্চিত হবে গরিবদের ক্ষমতায়ন। যুবকের আগামীর দিশা দেখাবে। মধ্যবিত্তকে প্রগতি পথে নিয়ে যাবে বাজেট। গতি পাবে উন্নয়ন। পরিকাঠামো আধুনিকীকরণেও জোর দেওয়া হয়েছে। লাভবান হবেন ব্যবসায়ীরা। শিক্ষার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে'।

শিক্ষা

বাজেটে 'স্টাডি ইন ইন্ডিয়া' নামে একটি নতুন প্রকল্প চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। এই প্রকল্পের লক্ষ্যই হল বিদেশি ছাত্রছাত্রীদের ভারতে এসে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার প্রতি জোর দেওয়া। এজন্য দেশে আরও বেশি করে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দরকার। সেই লক্ষ্যে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের জন্য বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে ৪০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া দেশের পড়াশোনার ধরনে বদলে আনা, শিক্ষায় গবেষণা ও আবিষ্কারে বেশি জোর দেওয়াকে সামনে রেখে চালু হচ্ছে নিউ ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি।

ভারতে প্রথাগত শিক্ষার পাশাপাশি ভোকেশনাল ট্রেনিং বা বৃত্তিমূলক শিক্ষা বন্দোবস্তকেও বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে মোদী সরকার। বিদেশে গিয়েও যাতে ভারতীয় যুবক যুবতীরা কাজ করতে পারেন সেজন্যও তাঁদের নানা ভাষা শিক্ষা, রোবোটিক্স, থ্রিডি প্রিন্টিং সহ নানা প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় ব্যাঙ্ক থেকে ব্যবসার জন্য প্রয়োজন ভিত্তিক ঋণের সুবিধা থেকে যাচ্ছে।

ক্রীড়াক্ষেত্রে এখন ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে ভাল ফল করছে। শুধু ক্রিকেট বলেই নয় অন্যান্য খেলাতেও ভাল ফল করছে ভারত। বাজেটে এবার ক্রীড়া ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে। খেলো ইন্ডিয়া স্কিম-এর আওতায় ভারতীয় ক্রীড়ার উন্নতিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া একজন ক্রীড়াবিদকে আর সম্পূর্ণ করে তৈরি করতে ন্যাশনাল স্পোর্টস এডুকেশন বোর্ড তৈরি করা হচ্ছে। জোর দেওয়া হচ্ছে দেশের নতুন প্রজন্মকে খেলায় উত্‍সাহ দেওয়াতেও।সংসদে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেন, 'ভারতে উচ্চশিক্ষার হাব গড়ে তোলা হবে। বিদেশী শিক্ষার্থীদের এখানে নিয়ে আসা হবে। এছাড়াও ১ কোটি ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিনামূল্যে সরকারীভাবে কারিগরি শিক্ষা দেওয়া হবে।'

মহিলা

দেশের সব নারীদের নিজের পরিচয় স্থাপন করতে ও স্বনির্ভর করে তুলতে উদ্যোগী কেন্দ্র সরকার। আজ, দেশের বাজেট পেশের অধিবেশনে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের বিশেষ ভাবে প্রয়োজন। স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও মুদ্রা প্রকল্পে নারীদের এগিয়ে আনা হচ্ছে। মুদ্রা স্কিমে নারীরা ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবে এবং ৫ হাজার টাকার ওভারড্রাফট পাবে। এরফলে গ্ৰামীন মহিলারা খুবেই উপকৃত হবেন, মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রেল

ভাড়া না বাড়ালেও খরচ তুলতে পিপিপি মডেলের ওপর জোর দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন রেলের হিসেবনিকেশ নিয়ে জানান, খুব শীঘ্রই ভারতের রেলযাত্রীরা বিশ্বমানের প্রযুক্তিতে নির্মিত বেসরকারি কোচে যাত্রা করতে পারবেন। শহরতলির রেল নেটওয়ার্কে জোর দেওয়া হবে।

এবারও নতুন কোনও ট্রেনরুট বা ট্রেনের প্রবর্তন করেননি অর্থমন্ত্রী। ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের জন্য আরও দ্রুততার সঙ্গে ট্রেন চলবে ভারতে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ লক্ষ কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ৬৫৭ কিলোমিটার মেট্রো রেলপথ নির্মাণের আশ্বাসও দিয়েছেন মন্ত্রী।

নির্মলা সীতারমন জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলি নতুন করে ঢেলে সাজাতে বড়সড় লগ্নি করতে চলেছে ফ্রান্স।তাঁরা পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৭ লক্ষ ইউরো বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভারতীয় রেল ইতিমধ্যেই শহরতলি এলাকার পরিবহনের উন্নতিতে র‌্যাপিড রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের ওপর জোর দিতে চলেছে। এরজন্য বেসরকারি বিনিয়োগে পিপিপি মডেলে কাজ করবে রেল।

মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পের আওতায় তৈরি দেশের প্রথম সেমি হাইস্পিড ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো আরও ট্রেন সেট তৈরির ওপর জোর দিয়েছে রেলমন্ত্রক। রেল ইঞ্জিন তৈরির ক্ষেত্রেও এবার বেসরকারি বিনিয়োগের আহ্বান করেছেন অর্থমন্ত্রী।

গৃহঋণ

গৃহঋণ সংক্রান্ত বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। গৃহ ঋণ সংক্রান্ত ঘোষণা সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্তের একটি বড় প্রাপ্তি লাভ হয়েছে। গৃহঋণে সুদের ছাড় ২ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩.৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। অর্থাত্‍ গৃহঋণে সুদের ছাড়ে ৩.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে। মধ্যবিত্তের জন্য ৫ লক্ষ টাকার কম আয়ে কর দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ৪৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত গৃহঋণে ১.৫ লক্ষ টাকা ছাড়ের ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২০ সাল এর ৩১ মার্চের মধ্যে গৃহঋণ নিলে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

২০২০ সালে ভারতকে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছনোর লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। ৪৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়ি কেনার উপর ৩.৫ লক্ষ টাকা ঋণের সুদের উপর কর ছাড় দেওয়া হবে। আয়কর আদায়ে আর প্যান কার্ড বাধ্যতামূলক রইল না। অর্থাত্‍ প্যান কার্ড ছাড়াও শুধুমাত্র আধার কার্ড দিয়েও দেওয়া যাবে আয়কর। যাদের প্যান কার্ড নেই তারা আধার নম্বর ব্যবহার করেও দিতে পারবেন আয়কর। সুদে ছাড়ের পাশাপাশি প্রায় ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়করের সুবিধা পাবেন ক্রেতারা।

অপরিবর্তিত মধ্যবিত্তের কর কাঠামোয়।

অর্থমন্ত্রী এ দিন ঘোষণা করেন, ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে আয়ের উপর পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়কর ছাড় পাওয়া যাবে। দু'টি আর্থিক বছরের জন্য এই ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা প্রযোজ্য। লোকসভা ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে তত্‍কালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত এই ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই নিয়মই অপরিবর্তিত রইল।

তবে উচ্চবিত্তের একক ভাবে আয়ে কর কিছুটা বেড়েছে। বার্ষিক ২-৭ কোটি আয়ে বাড়তি ৩ শতাংশ সারচার্জ। একই সঙ্গে ৭ কোটি টাকার আয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি ৭ শতাংশ সারচার্জ লাগবে। অর্থমন্ত্রী এ দিন বলেন, 'বেশি আয়ের নাগরিকদের দেশের জন্য বেশি অবদান রাখা উচিত'। যে কারণে এই অতিরিক্ত সারচার্জ বহাল হল।

এ দিন অর্থমন্ত্রী বলেন, যাঁদের প্যান কার্ড নেই, তাঁরা আধার কার্ডের মাধ্যমেই আয়কর দাখিল করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আধার নম্বরের মাধ্যমেই আয়কর দাখিল করা সম্ভব।

source ; daily hunt , ANN