মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরে ভোটের ময়দানে এগিয়ে তৃণমূল

বিজেপি, কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টের চেয়ে কৌশলগত এবং রাজনৈতিকভাব এগিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

গত রোববার (১১ মার্চ) ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরা ১৭তম জাতীয় নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেন। ঠিক এর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যের ৪২ আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে সব রাজনৈতিক দলের চেয়ে এগিয়ে গিয়েছিল তৃণমূল।

দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে প্রচারণার ক্লাস শেষ করে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই যার যার এলাকায় প্রচারণার শুরু করে দিয়েছেন মমতার সৈনিকরা।

বুধবার বিকেলে কলকাতার কালীঘাটের নিজের বাড়িতে প্রায় দেড় ঘণ্টার ক্লাস শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ৪২ আসনেই আমরা জয় পাবো। বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে। দেশের মানুষ এর জবাব দেবে। বাংলার মানুষও বিজেপিকে উত্তর দেবে ভোটের মাধ্যমে।

মমতার নির্দেশ পাওয়ার পর প্রার্থীরা বৃহস্পতিবার যে যার কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলার বসিরহাট কেন্দ্রে পৌঁছেছেন অভিনেত্রী নুসরাত জাহান। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগে তিনি মধ্যমগ্রাম এলাকায় দলটির জেলা অফিসের সাংবাদিক বৈঠকে মিলিত হন।

নুসরাত বলেন, অভিনেত্রী এবং নেত্রীর মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। আমি যখন অভিনেত্রী হতে পেরেছি মানুষের ভালোবাসায় অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আশীর্বাদে, আবার মানুষের ভালোবাসায় নেত্রীও হতে পারবো।

সিনেমায় যখন এসেছিলেন, অভিজ্ঞতা ছিল না কিন্তু সিনেমাতে তিনি সফল। এখন রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতা নেই সেখানেও মানুষ তাকে সফল করবেন বলে মনে করেন নুসরাত জাহান।

একইভাবে কলকাতা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের জেলা বীরভূমের তারাপীঠ কেন্দ্রের প্রার্থী আরেক অভিনেত্রী শতাব্দী রায়। বৃহস্পতিবার তারাপীঠ মন্দিরে পূজা দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। এর আগে টেলিফোনে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, দুই বার মানুষ আমাকে জয়ী করে তাদের এমপি করেছিলেন। এবারও আমার বিশ্বাস আগের যেকোনো বারের তুলনায় বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবো। বিজেপি, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস কোনও রাজনৈতিক দলই তেমন সক্রিয় নয় এবং তাদের সংগঠনের ভিত্তিও দুর্বল। তাই বিরোধীদের নিয়ে শতাব্দী রায় তেমন চিন্তিত নয়, যোগ করেন এই অভিনেত্রী।

অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী লড়ছেন কলকাতার যাদবপুর কেন্দ্রে থেকে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় কাউন্সিলারকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন তিনি। যাদবপুর কেন্দ্র প্রচারের আগে টেলিফোনে কথা হয় ওই অভিনেত্রীর সঙ্গেও। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন জয়ী হয়ে দেখা করতে। আমার বিশ্বাস রাজ্যের মানুষ মমতা ব্যানার্জিকে যেভাবে ভালোবাসেন সেই ভালোবাসায় আমিও জয়ী হবো।

তৃণমূল কংগ্রেসের ৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে এবার ১৪ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে নবাগত তিন জনের দুজনই অভিনেত্রী। বাকি একজন রুপালি বিশ্বাস। তিনি কৃষ্ণনগর এলাকার স্থানীয় বিধায়কের স্ত্রী। সম্প্রতি ওই বিধায়ককে দৃস্কৃতীরা খুন করে। এবার লোকসভা নির্বাচন মমতা ব্যানার্জি ওই বিধায়কের স্ত্রীকে প্রার্থী করেছেন। বৃহস্পতিবার তিনিও নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের ৪২ আসনের কোনও আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিজেপি। বামফ্রন্ট মাত্র দুটো আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাম-কংগ্রেস জোট নিয়ে জটিলতা আছে। তাদের কোনও প্রচারণা শুরু হয়নি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য জুড়ে দেওয়াল লিখন, জনসংযোগ থেকে মিছিল ও পথসভা, সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়েছে।