বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯

পরাজিত হতে না চাওয়া রুমা মোদক


৭ মে নাট্যজন,গল্পকার রুমা মোদকের জন্মদিন। অন্যদেশ পরিবার স্বজন রুমা মোদককে জানায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।



একাধারে সাহিত্যিক, অভিনেত্রী ও সংগঠক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন রুমা মোদক। যুক্ত আছেন হবিগঞ্জের জীবন সংকেত নাট্যদলের সঙ্গে। এ বছর থিয়েটার (নাটক সরণি) প্রবর্তিত মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতি পদক পেয়েছেন তিনি। ভোরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন রুমা মোদক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহনাজ জাহান

মেলা : থিয়েটার নিয়ে বর্তমান ব্যস্ততার কথা জানতে চাই?

রুমা মোদক : থিয়েটার তো নিজেই এক বিশাল ব্যস্ততা। নিয়ম করে ঘড়ি ধরে প্রতিদিন মহড়া। আপাতত ব্যস্ত আছি ভারত ভ্রমণের প্রস্তুতি নিয়ে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে টানা পাঁচটি শো। বহরমপুর ঋত্বিক আয়োজিত দেশ-বিদেশের নাট্যোৎসব, শান্তিপুর রঙ্গপীঠ আয়োজিত রঙ্গপীঠ রঙ্গমেলা, গোবরডাঙ্গা নকশা আয়োজিত পঞ্চম জাতীয় নাট্যোৎসব এবং শান্তিনিকেতনে দুটি শো করার জন্য টানা ১০ দিন ভারতে থাকব।

মেলা : মোহাম্মদ জাকারিয়া স্মৃতি পদক পেলেন। অনুভূতি কেমন?

রুমা মোদক : স্বীকৃতি সম্মান অবশ্যই আনন্দ দেয়, কাজে অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা যারা ঢাকার বাইরে কাজ করি, যখন জাতীয় মঞ্চে স্বীকৃতি পাই তখন তা অন্য মাত্রা পায়। মফস্বলে থিয়েটারের জন্য আমরা কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পাই না। আমাদের ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো এই থিয়েটার করাকে কেউ তেমন অভিনন্দিতও করেন না। আমরা প্রতিনিয়ত আত্মীয়-পরিজন-বন্ধু-বান্ধবদের জবাবদিহি করে চলি। থিয়েটার করে কী লাভ! এই সম্মান এই স্বীকৃতি তাদের জন্য যোগ্য উত্তর হিসেবে আমাদের মস্তিষ্ক গর্বে উঁচু করে দেয়।

মেলা : জীবন সংকেত নাট্যদলে কাজের অভিজ্ঞতা শুনতে চাই?

রুমা মোদক : জীবন সংকেত মঞ্চে কাজ করছে ত্রিশ বছর। আমি শুরু থেকে যুক্ত থাকলেও ওতপ্রোতভাবে কাজ করছি ২০ বছর। মূলত নাটক লেখার মধ্য দিয়ে জড়িয়ে পড়া। জীবন সংকেতের শিশু সংগঠন শিশু সংকেতের দায়িত্ব নিয়ে শিশুতোষ নাটক লিখেছি ও পরিচালনা করেছি। এখন তো জীবন সংকেত আমার দ্বিতীয় পরিবার।

মেলা : জেলা শহরে থিয়েটারচর্চার অভিজ্ঞতা বলুন?

রুমা মোদক : জেলা শহরের বাজে দিক হলো আমলা তোষণের সংস্কৃতি। আমাদের নাট্যদল সারা দেশে সুপরিচিত। দেশের বাইরে আমরা আমন্ত্রিত হই। কিন্তু জেলা শহরে আমাদের নিজস্ব কার্যালয় নেই, মহড়ার স্থান নেই। ভুঁইফোড় সংগঠনগুলো আমলা, প্রতিপত্তিশীল মানুষকে তোষণ করে বিশাল বিশাল কার্যালয় দখল করে বসে আড্ডা দেয়। আমরা তা পারি না বলে মাঠে ময়দানে মহড়া করি।

মেলা : নারী নাট্যকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়?

রুমা মোদক : নারী নাট্যকর্মী হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে আমি তেমন কোনো সমস্যার মুখোমুখি হইনি। জীবনসঙ্গী নিজেই নাট্যকর্মী, কাজেই কোনো বাধা নেই। তবে নারী নাট্যকর্মীদের নিয়ে আমার অভিজ্ঞতার যে ভাণ্ডার তাতে একটা মহাকাব্য হবে। মঞ্চের জন্য বিয়ে ভেঙে যাওয়া থেকে শুরু করে ক্রমাগত কয়েক মাস রিহার্সেল করে শো’র দিন আসতে না পারা, কী অভিজ্ঞতা নেই? নানা রকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়।

মেলা : গল্পকার, নাট্যকার, অভিনেত্রী, সংগঠক। সমন্বয় করেন কীভাবে?

রুমা মোদক : আমি কিন্তু মূলত লেখক। নাটক, গল্প লিখি। লেখার কাজটা এনজয় করি। ভালোবেসে করি। আর অভিনেত্রী সাংগঠনিক কাজটুকু সমন্বয় করে নেই নানাভাবে। সংসার আছে, জব আছে। সমন্বয় সব কিছুর মধ্যেই করতে হয়। নিজেকে বুঝাই যে ক্ষেত্রেই হেরে যাব, পরাজয়টা আমারই হবে। আর পরাজিতকে কেউ মনে রাখে না। কেন পরাজিত হলাম তাও বিবেচনা করবে না। জীবনে পরাজিত হতে চাই না। এটাই সমন্বয় করে চলার মূলমন্ত্র।

মেলা : ঢাকা টু হবিগঞ্জ, নাট্যচর্চাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

রুমা মোদক : ঢাকায় থাকলে দ্রুত লাইম লাইটে আসা যায়, মফস্বল থেকে হয় না। ঢাকায় নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়, ঢাকার বাইরে সেটা কঠিন। আমরা যারা ঢাকার বাইরে কাজ করি আমাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। তবে থিয়েটার চর্চার ক্ষেত্রে মনোযোগ এখন আর ঢাকাতে সীমাবদ্ধ নেই। আমরা সেই মনোযোগ বিকেন্দ্রীকরণ করতে পেরেছি। এটা কিন্তু বিশাল অর্জন।