শুক্রবার, নভেম্বর ২২, ২০১৯

‘জওহরলাল নেহরুর জায়গায় মহম্মদ আলি জিন্নাহ প্রধানমন্ত্রী হলে দেশভাগ হত না’

লোকসভা নির্বাচন চলাকালীনই মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতার বিতর্কিত মন্তব্যে আবার অস্বস্তি বাড়ল বিজেপি শিবিরে। শনিবার, ১১ মে, ২০১৯, মধ্যপ্রদেশের একটি নির্বাচনী জনসভায় রতলাম কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গুমান সিংহ দামোর বলেন, ‘জওহরলাল নেহরুর জায়গায় মহম্মদ আলি জিন্নাহ প্রধানমন্ত্রী হলে দেশভাগ হত না’।

লোকসভা নির্বাচনের বেশ কিছু দিন আগে থেকেই দেশ জুড়ে পাকিস্তান বিরোধী হাওয়া জোরাল করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল বিজেপি শিবির। রাজনৈতিক ভাবে বিরোধীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্যের অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। এই রকম একটা পরিস্থিতিতেই বেফাঁস মন্তব্য করলেন খোদ বিজেপি প্রার্থীই। বিজেপির হয়ে ভোট চাইতে গিয়ে গুমান সিংহ দামোর বললেন, ‘‘স্বাধীনতার সময় প্রধানমন্ত্রিত্বের জন্য নেহরু না দৌড়লে দেশভাগ হতো না। কারণ, মহম্মদ আলি জিন্না ছিলেন এক জন আইনজীবী এবং শিক্ষিত ব্যক্তি।’’ এখানেই না থেমে গুমান সিংহ বলেন, ‘‘নেহরুর জায়গায় জিন্না প্রধানমন্ত্রী হলে দেশভাগ হতো না। কংগ্রেসের জন্যই দেশ ভাগ হয়েছে।’’

মুসলিম লিগের প্রাণপুরুষ এবং উপমহাদেশে দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা মহম্মদ আলি জিন্নার সম্পর্কে বিজেপি নেতার এই মন্তব্যে স্বাভাবিক ভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলে। দেশ ভাগের জন্য অনেকাংশে দায়ী জিন্না, এমনটা মনে করেন ঐতিহাসিকদের একাংশও। তাই ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে জিন্নাকে জড়িয়ে দেওয়ার পিছনে কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। কেউ কেউ আবার মনে করছেন, অন্ধ নেহরু বিরোধিতা করতে গিয়েই জিন্নার সমর্থনে কথা বলে ফেলেছেন গুমান সিংহ।

কিছুদিন আগেই পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ‘নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি খুশি হবেন’ মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়েছিল বিজেপি। বিজেপি শিবিরের বিরুদ্ধে পাক আঁতাতের অভিযোগ এনেছিল কংগ্রেস। গুমান সিংহের এই মন্তব্য নিশ্চিত ভাবেই নতুন অস্ত্র তুলে দিল বিরোধীদের হাতে।

ছবি ও খবর: আনন্দবাজার