রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

খাঁচা

সুখী-হাওয়া গিঁট দিয়ে শেষ পর্যন্ত উঠোন থেকে বারান্দা আর বারান্দা থেকে উঠোন করতে-করতে পাখিটা শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে পড়ল। আমি দেখলাম।

একটা মুক্তি মানে আরও-একটা বন্দীর আয়োজন।

একটা মুক্তি মানে আসলে ভাঙা-মেলার পর মাঠের

যে -দশা হয়, সেই উজাড় করা নিঃস্বতা আর উদ্ভ্রান্তের মতো একটা চিত্রকল্প।

আমি দেখলাম, আমাকে পাখিটা দেখছে। ভীষণ দেখছে। খামচে ধরেছে জানালার কালচে শিক।

না-দেখায় নয়, রীতিমতো দেখায় আমরা দেখছি একে-অপরকে।

দেখা আর না-দেখার ভিতর একটা কাটা লেবুর

মধ্যবর্তী একটা রং থাকে। ছানা জলের মতো রং-ও বলা যেতেই পারে। অনেকটা সৎ আর অসৎ-এর মাঝামাঝি ঈষৎ 'অ'-এর মতো। পাখিটার হয়ে আমি সুখী-হাওয়ায় গিঁট দিতে চাইলাম। পারলাম না। অনেক চেষ্টা করেও হল না।

ওর জন্য কিছু করতে না-পারার তুমুল এক অপরাধবোধ থেকে আর তাকাতে পারি না ওর দিকে। মুখোমুখিও হই না। আর সুখী-হওয়ায় আর গিঁটের অধিকার নেই।

একদিন পাখির জানালার পাশ থেকে আড়াআড়ি চোখ রাখতেই চমকে উঠি সারাঘরে শুধু বীভৎস দাঁত আর নখ, সাথে দানবীয় হাসির উল্লাস...

পাখিটা ছিল না কোথাও