মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে উত্তেজনা

শান্তিতে শেষ হল না অমিত শাহের রোড শো। শুরু হওয়ার আগে থেকেই টানাপড়েন চলছিল পুলিশ-বিজেপিতে। অমিত শাহ কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছতেই দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেল বিজেপি এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মধ্যে। ইট-বোতল-জুতো ছোড়াছুড়ি, বাইকে আগুন, বিদ্যাসাগর কলেজে ভাঙচুরের পাশাপাশি পুলিশের লাঠিচার্জ— বাকি থাকল না কিছুই। ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল চাপানউতোর। বিজেপি সভাপতি এবং তৃণমূল চেয়ারপার্সন তীব্র আক্রমণ করেছেন পরস্পরকে।

রাস্তা ৫ কিলোমিটারের সামান্য বেশি। সেইটুকু পথ পেরতে সময় লাগল পাক্কা আড়াই ঘণ্টা। অমিত শাহর রোড শো ঘিরে সমাগমটা ঠিক কী চেহারা নিয়েছিল মঙ্গলবার, তার খানিকটা আভাস সম্ভবত এই তথ্য থেকেই মেলে। কিন্তু বিজেপি সভাপতি রোড শো শুরু করার আগে থেকেই যে ভাবে ফুলের পাপড়িতে গেরুয়া গালিচা তৈরি হয়ে গেল রাস্তা জুড়ে, যে ভাবে যাত্রাপথের দু’ধার থেকে পুষ্পবৃষ্টি হল, শ’য়ে শ’য়ে ঢাক-ঢোল, ব্যান্ড পার্টি, লোকনৃত্য, আতসবাজি, কনফেটি, গেরুয়া বেলুন, আতসবাজিতে যে ভাবে রামধনু রং নিয়ে নিল শাহী রোড শো, তা না দেখলে বোঝা শক্ত যে, আবহটা কী ভাবে উৎসবের চেহারা নিয়েছিল।

কিন্তু শেষটা মোটেই সুখকর হল না। রোড শো বদলে গেল রাজনৈতিক সংঘর্ষে। বিজেপির সঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তুমুল সংঘর্ষে রক্তাক্ত হল বিধান সরণি। বিবেকানন্দের জন্মভিটেতে না ঢুকেই ঘটনাস্থল ছাড়তে হল অমিত শাহকে।

বিজেপি-টিএমসিপির সংঘর্ষে বিদ্যাসাগর কলেজে ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহকে ধিক্কার জানিয়েছেন তিনি। বিজেপি সভাপতিও তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বাংলায় সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে বলে অভিযোগ করে শেষ দফার ভোটগ্রহণে তৃণমূলকে ‘যোগ্য জবাব’ দেওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। বিজেপির বিরুদ্ধে অবিলম্বে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্য দিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে রাতেই দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরে যায় বিজেপি। অবিলম্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে, নির্বাচন কমিশনের কাছে এই আবেদন জানিয়েছে তারা। হিংসা ছড়ানোর অভিযোগেই এই দাবি তোলা হয়েছে বলে সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং বিজেপি নেত্রী নির্মলা সীতারামন।