বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

কবি হেনরি স্বপনের মুক্তির দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশ

আজ ১৫ মে বিকাল ৪টায় শাহবাগে কবি হেনরী স্বপনকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবীতে প্রতিবাদ সমাবেশ এ মিলিত হবে লেখক শিল্পী সাংবাদিক সংস্কৃতিকর্মী ও ছাত্ররা।

হেনরী স্বপনকে ২৩ এপ্রিলের যে স্ট্যাটাসের কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে

‘রোম যখন পুড়ছে বিশপ সুব্রত তখন বাঁশি বাজাচ্ছে’

রোম যখন পুড়ছিল তখন সম্রাট নিরো নাকি বাঁশি বাজাচ্ছিল। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর গির্জায় আত্মঘাতী হামলায় শত শত মানুষ নিহতের অকস্মিকতায় যখন শোকস্তব্দ বিশ্ববাসী, তখন বরিশাল কাথলিক ডাইওসিসের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার চার্চ চত্বরে করছেন সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান। গতকাল, ২২ এপ্রিল, বরিশাল কাথলিক ডাইওসিসের বিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার বিভাগীয় শহর বরিশাল ধর্মপল্লির সকল পুরোহিত, সিস্টার, ব্রাদার এবং সাধারণ খ্রিষ্টভক্তদের নিয়ে ডাইওসিসের হলরুমে নাচ, গান এবং ব্যান্ড শো এর মাধ্যমে মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক আনুষ্ঠান করেন। শ্রীলঙ্কার খ্রিস্ট সমাজের এই সঙ্কটময় মুহূর্তে বরিশাল কাথলিক ডাইওসিসের এ রকম আয়োজনকে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ এবং জামে কসাই মসজিদের ইমাম ও বরিশালের সকল নেতৃবৃন্দ এটিকে দুঃখজনক ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন।’

সুধীজনেরা মনে করছেনঃ

দীর্ঘদিন ধরেই হেনরী স্বপন তাঁর লেখালেখির মাধ্যমে সমাজের নানান অসঙ্গতি, অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন তিনি। তার লেখনির সাহসিকতায় তিনি সম্প্রতি দেশব্যাপী বেশ আলোচনায় আসেন। এরপর থেকেই ঘনিষ্টজনদের একটি মহল বিরোধিতা করে আসছিল তার। এর আগে ১১ মে শনিবার রাতে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন দুর্বৃত্ত কবির বরিশালের বাসভবনে গিয়ে এ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় তারা কবিকে বরিশাল ত্যাগেরও হুমকি দিয়েছিল। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন তিনি। সংবাদ মাধ্যমগুলো তথ্যসূত্রে জানা যায়, শনিবার নগরীর নবগ্রাম রোডের খ্রিস্টান কলোনিতে অবস্থিত বাসার কক্ষে বসে লেখালেখি করছিলেন হেনরী। এ সময় আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে বাসার জানালায় দাড়িয়ে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দেয়। পাশাপাশি স্বগোত্রীয় (খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী) লোকদের বিরুদ্ধে লেখালেখি বন্ধের নির্দেশ দেয় তারা। এর ব্যতিক্রম ঘটলে তাকে হত্যা করা হবে- এমন হুমকির অভিযোগ করেছেন হেনরী। এ সময় কবি চিৎকার শুরু করলে ওই দুই দুর্বৃত্ত সেখান থেকে দ্রুতই পালিয়ে যায়। হেনরী স্বপন দীর্ঘদিন তার লেখনীর মাধ্যমে সমাজের নানা অসঙ্গতি, অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছেন। যেখানে বাদ পড়েনি স্বসম্প্রদায়, স্নেহভাজন, আস্থাভাজনসহ কেউই। তার এই সাহসিকতায় তিনি সম্প্রতি গোটা দেশব্যাপী বেশ আলোচনায় আসেন। এরপর থেকেই ঘনিষ্টজনদের একটি মহল তার বিরোধিতা করে আসছিল। বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছিল হেনরী।