রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

কটন কলেজ,পর্ব -১৫

।।পনেরো।।

বাসটা ইতিমধ্যে চলতে শুরু করেছে।বাসের ভেতরে বসতে পারার মতো সিট আছে যদিও কেউ বসছে না।মাইক,চিৎকার,বিহুগীতের একটা ‘হিপ হিপ হুররে’পরিবেশ।

প্রতিটি হোস্টেলের পাশ দিয়ে বাসটা দুই তিনবার পাক মেরেছে।‘হ্যাণ্ডিক হোস্টেলের সামনে এসেই ছেলেরা নতুন প্রাণ পেয়ে আরও বেশি চেঁচামিচি করছে। দোতালা হোস্টেলের উপর তলার বারান্দায় মেয়েরা সমবেত হয়েছে।তারমধ্যে দুই একজন আমাদের বাস পার হয়ে যাবার সময় হাত নেড়ে বিদায় দিচ্ছে।

বাসটাও নতুন প্রাণ পেয়ে স্পীড বাড়িয়ে দিয়েছে।নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুনরায় একবার দীঘলি পুকুরের চারপাশে পাক মারার চেষ্টা করছে।বাসটা কটন কলেজ মেয়েদের হোস্টেলের সামনে গিয়ে উপস্থিত হয়েছে।অভ্যাশবশত সব ছেলেরাই চিৎকার করে উঠল,হোস্টেলে কোনো জনপ্রাণী নেই জেনেও যে যতটা পারল মাথাটা বের করে তাকাল,কোথাও ভুলবশত থেকে গেল নাকি?

‘এই এখানে এভাবে ঘুরতে থাকার কোনো মানে নেই,চল,আজ অনেক পার্টি রয়েছে,ভালো জায়গা পাওয়া যাবে না।’

‘পাব,পাব একটু অপেক্ষা কর,হ্যান্ডিকের মেয়েদের একটু দেখে নিই।’

‘রাখ,রাখ সেই পুরোনো মেয়েদের আর কত দেখবি,তোর কিছু আছে নাকি?’

বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মন্তব্যে বাসটা ভরে উঠল।সামনের সিটে সুপার,তার সঙ্গের দুই একজন প্রফেসর নির্বিকারভাবে বসে রয়েছেন,যেন পেছনের এই গণ্ডগোল কিছুই জানেন না।

‘এই রমেন এভাবে কেন চেঁচামিচি করছিস,স্যাররা রয়ছেন দেখতে পাচ্ছিস না?’সবার উদ্দেশ্যে রমেনকে আমি বললাম।

‘এই যে এর কথা শোন,স্যারদের আমরা ভালো ছেলে হয়ে থাকব বলে এনেছি নাকি বুদ্ধু,আমাদের সাতখুন মাফের সার্টিফিকেট ওটা,পিকনিক ইজ পিকনিক মাইণ্ড ইট মাই বয়।’

আমি আর কথা বাড়ালাম না।তার কথা শুনে যারা সামনে ছিল তারা দাঁত বের করে হাসল।এর থেকে যদি বেশি কথা বলতে যাই তার মুখে লাগাম টানা মুশকিল হবে,কে জানে সে হয়তো কোন পিকনিকে কোথাকার প্রফেসর গিয়ে সারাদিনের জন্য কোন ছাত্রীর সঙ্গে নাই হয়ে গিয়েছিল,সে কথা সে প্রত্যক্ষদর্শীর মতো বলে যাবে।

আমাদের বাস অবশেষে গুয়াহাটি শহর ছেড়ে পশ্চিমদিকে রওয়ানা হল।এদিকের রাস্তাঘাট আমি চিনি না,জীবনে কোনোদিন আসিনি।সাড়ে দশটার সময় বাসটা গিয়ে পাহাড়ের নিকট নদীর পাশে দাঁড়াল। এখানেই ‘কুলসি’নদী।ডিসেম্বরের রোদটা সরাসরি লাগছে যদিও নদীর দিক থেকে আসা ঠাণ্ডা বাতাস এবং পাহাড়ের নির্জন পরিবেশ আমাদের প্রত্যেককে গরম কাপড় পরে নিতে বাধ্য করেছে।

আমাদের আগে সিজি হোস্টেলের মেয়েরা এসেছে।দুই তিনটি পার্টি আমাদের আগেই পৌছে গেছে।ধীরে ধীরে আরও পার্টি এল,প্রায় বারো থেকে চৌদ্দটা পার্টি।মাইক,মাইক।চিৎকার-চেঁচামিচি।একটা উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ।নভেম্বর মাস শুরু হওয়ার পর থেকে গুয়াহাটি থেকে কত পার্টি যে পিকনিক খেতে এসেছে তার ঠিক নেই।প্রত্যেক রবিবার আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থাকি হোস্টেলের সামনে দিয়ে যাওয়া পিকনিক পার্টিগুলিকে বিদায় দেবার জন্য। ছেলে-মেয়ে,যুবক-বৃ্দ্ধ যাদেরই পিকনিক পার্টি হোক না কেন কটনের হোস্টেলের সামনে দিয়ে একটা পাক না মেরে যেতে পারে না,এটা একটা গুয়াহাটির পিকনিকের ট্রাডিশন।

অবশ্য আজ এতগুলি পার্টি এক জায়গায় সমবেত হওয়ার অন্য একটি কারণ আছে।সিজি হোস্টেলের কথা শুনে যাদের অন্য জায়গায় যাওয়ার কথা ছিল তারা সব আগের প্রোগ্রাম কেন্সেল করে ‘কুলসি’র দিকে গাড়ি রওয়ানা করে দিয়েছে।আমাদের উদ্দেশ্য ও একই।

ড্রাইভার জেনে শুনেই গার্লস হোস্টেলের পিকনিক পার্টির কাছে গাড়িটা দাঁড় করিয়েছে। ইতিমধ্যে দুই তিনটে পার্টি নিজের নিজের জায়গায় মেয়েদের ঘিরে নিয়েছে।আমাদের এখানে জায়গা কম।সেইজন্যই হয়তো কেউ একজন বলে উঠল –‘আমাদের একটু আগে যাওয়াই ভালো হবে নাকি,এখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে।’

তার কথা শুনে রমেন দপ করে উঠল।‘এই মেয়েদের না দেখলে কে কাজ করবে’,তোকে তাহলে শেষপর্যন্ত ভাত খাবার জন্য মাইকে চিৎকার করে ডেকে আনতে হবে।’

রমেনের স্বভাব জানে,সেজন্য রমেনের হয়েই কথা বলল।সুপার ও হ্যাঁ না কিছুই বললেন না। রমেনের কথায় সুপারের মৌনং সম্মতি লক্ষণম বলে মেনে নিয়ে জিনিসপত্র গাড়ি থেকে নামানোর জন্য সবাই তাড়া লাগাল। সুপারও জানে রমেনের কথা সত্যি,মেয়েদের কাছ থেকে পিকনিক পার্টি দূরে নিয়ে গেলে নিজের জায়গায় পরে খুঁজলেও কাউকে পাওয়া যাবে না। একটু অসুবিধা হলেও এখানেই ভালো।

চা খাওয়ার পরেই ছেলেরা দল বেধে এদিকে ওদিকে গেল। মেয়েরাও তার মাঝখানে প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়াচ্ছে। মেয়েদের একবার দেখে কেউ চিনতে পারবে না।কুন্তলা কথা না পর্যন্ত আমিই তাকে চিনতে পারছিলাম না। দুই একজন ছাড়া প্রত্যেকেই গায়ে লেপ্টে থাকা সেলোয়ার কামিজ পরেছে।মাথায় ফোটোতে দেখা ইটালিয়ান মেয়েদের মতো কাপড় দিয়ে গাল মুখ ঢেকে নিয়েছে।

‘বাঃ ড্রেসটা সুন্দর তো।’আমি কুন্তলাকে বললাম।

আমাদের পিকনিক,এক্সকারসন ইত্যাদির জন্য ড্রেস রেডিই থাকে ,না হলে কতক্ষণ আর মেখেলা তুলে নিয়ে চলব,তারমধ্যে তোমাদের ছেলেদের যা উৎপাত।’

আমি তাকে খ্যাপানোর জন্য রবি ঠাকুরের কবিতার আবৃত্তির সুরে বললাম—‘হে নতুন,তুমি কেবল ফুটে থাকা পুঞ্জ পুঞ্জ রূপে।’

‘রটন’

‘কী?’

‘তোমার এই কবিতা।এজন্যই তোমার সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে না। কেউ নেই যদি আমিই ঠিক করে দিই।’

‘তাই নাকি?আছে সেরকম…’

আমার কথা শুনে সে চিৎকার করে উঠলঃএই যে …

‘ব্যস ব্যস হবে,আমি নিজেই খুঁজে নিতে পারব।’

কুন্তলাকে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আমি পালালাম। মেয়েটি খুব ফ্রেঙ্ক,সেইজন্য ভালো লাগে।উৎপাত করার ক্ষেত্রে এক নাম্বার।আর কিছুক্ষণ পেলে কী যে করত তার ঠিক নেই।কুন্তলার সঙ্গে কথা বলতে দেখে রমেনরা আমাকে ছেড়ে অনেকদূর এগিয়ে গেল।সেইজন্য আমি একটু একা হয়ে গেলাম।একা হয়ে আমার বেশ ভালোই লাগল।কারণ তার যে পার্টি কোথায় গিয়ে কী করবে তার কোনো ঠিক নেই।আমার পক্ষে ওদের সঙ্গে যাওয়াটা অনেকটা ক্ষমতার অতিরিক্ত পাথর তোলার মতোই হবে।

মেয়েদের কাছ থেকে একটু অবসর পাওয়ার জন্য,একই সঙ্গে ছেলেদের অর্থহীন ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকার জন্য,রমেন আমার হাতে দিয়ে যাওয়া ক্যামেরাটা গলায় ঝুলিয়ে পাহাড়ের ওপাশে যাবার জন্য পাশের রাস্তাটা দিয়ে একা একা এগিয়ে গেলাম।

হঠাৎ দেখি মন্দিরা কাকতি ওপাশ থেকে একা একা আসছে। আসার গতি থেকে মনে হল সে যেন আমার সঙ্গে দেখা করার জন্যই আসছে।তাই আমি একটু দাঁড়ালাম।

‘এই যে বরুয়া,ক্যামেরা বুকে ঝুলিয়ে একা দেখছি?’

‘একা না গিয়ে কাকে বুকে নিয়ে বেড়াব,সেদিক থেকে ক্যামেরাটাই ভালো বলে বুকে বেঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছি।‘

‘কেন?’

‘কারণ ক্যামেরাটাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করা যেতে পারে।কারণ সে যা দেখে তাই স্মৃতিতে গেঁথে নেয়,কিন্তু আমরা যা দেখি তাকেই সেভাবে ধরে রাখতে পারিনা।’

‘তাই নাকি, আপনি আমার সঙ্গে একটু যেতে পারবেন?’

‘আপনার সঙ্গে? কোথায়?’

‘আপানাদের ছেলেদের কাছ থেকে তো রেহাই নেই,ঐ যে ইন্সপেকশন বাংলোটাতে যাই চলুন।আমার সঙ্গের প্রত্যেকেই চলে গেছে,আমি পেছনে পড়ে রয়েছি,তাছাড়া ছেলেদের যে উৎপাত যাওয়া সম্ভব নয়।’

‘সেখানে কেন?ছেলেদের উৎপাতে যাওয়া সম্ভব নয় বলে আমাকেই আবার সঙ্গে যাবার জন্য অনুরোধ করছেন কেন? আমি কি ছেলে নই?

‘ছেলে হলেও আপনাদের সঙ্গে যাওয়া যেতে পারে,ওখানে কেন যেতে চাইছি বুঝতেই পারছেন।আপনাদের মতো এবং এতগুলি ছেলের সামনে মুখ হাত ধুয়ে স্নো-পাউডার মেখে ফ্রেশ হওয়া সম্ভব নয় বলে পারমিশন নিয়ে বাংলোর একটা ঘর আমরা এসেই ব্যবহার করছি,একটু খালি এগিয়ে দিন….’।’

মন্দিরা কাকতির সঙ্গে আমার লক্ষ্যস্থল বাদ দিয়ে পাহাড়টার ওপর দিকে এগিয়ে গেলাম। মন্দিরা আমাদের ক্লাসেরই,তারমধ্যে সে আবার কুন্তলার এই বছরের রুমমেট।তাই আমার সঙ্গে বিশেষ নিকট সম্পর্ক না থাকলেও একটা স্বাভাবিক আত্মীয়তা রয়েছে।

সেইজন্য মন্দিরার কথাগুলি সহজভাবে নিলাম।কার ও সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আমার সঙ্গে যাওয়াটা বড় কথা নয়।তাছাড়া অনেক মেয়েরাই প্রফেসরদের সামনেই অনেকের সঙ্গে হেসে-খেলে বেড়াচ্ছে।পিকনিকে এই সমস্ত কথা সবাই সহজভাবে নেয়,কেউ বেশি গুরুত্ব দেয় না।ছেলে মেয়েরা এক সঙ্গে পিকনিকে গেলে যদিও অনেকে আপত্তি করে,আলাদা এসে এভাবে একত্র হয়ে গেলে কারও আপত্তি থাকে না।আমাদের সামাজিক ব্যবস্থাটা সত্যিই বড় অদ্ভুত।আপনি যখনই কোনো কো-এডুকেশন কলেজে ভর্তি হবেন-কী দেখতে পাবেন?ক্লাসে মেয়েরা একদিকে আর ছেলেরা অন্যদিকে বসেছে,মরে গেলেও একই বেঞ্চে বসার সাহস আমাদের কখনও হবে না,কিন্তু সেই মেয়েদের পাশে নিয়ে আমরা তিন ঘণ্টা সময় সিনেমাহলের অন্ধকারে বসে থাকতে পারি,তখন আমাদের সাহস কোথা থেকে আসে সে কথা আমি কিছুতেই বুঝতে পারি না।

কথা বলতে বলতে আমরা এগিয়ে গেলাম।ইন্সপেকশন বাংলোটা ফরেষ্ট ডিপার্টমেন্টের।মাঝে মধ্যে অফিসাররা এলে খুব সম্ভবত থাকে।আমরা গিয়ে দেখি বিরাট বাংলোটাতে কোনো মানুষ জন নেই। সেজন্য আমরা ভেতরে না ঢুকে মন্দিরা কাকতিকে জিজ্ঞেস করলাম-‘কাকতি এখন পারবেন তো?’

‘আসুন না,ওরা কেউ তো নেই দেখছি,কোথায় গিয়ে মরেছে কে জানে।’

আমি ধীরে ধীরে মন্দিরা কাকতির সঙ্গে বারান্দাটা পার হয়ে একটা রুমের সামনে গিয়ে পৌছালাম।

‘আচ্ছা কাকতি এখন…

‘প্লিজ…’

হঠাৎ আমি থেমে গেলাম,আমি অনুভব করলাম ইতিমধ্যে ডান হাতটা মন্দিরা কাকতির উত্তপ্ত হাতের স্পর্শে কেঁপে উঠছে।

আমাকে এমন একটি পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে হবে বলে ভাবিনি।তাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আমি মন্দিরার দিকে ঘুরে তাকালাম।আমি অনুভব করলাম,আমার সামনে একটি মেয়ে,সে মন্দিরা নয়,যে একটু আগে ছেলেদের ভয়ে আমাকে সঙ্গী করেছিল।

এ যেন আমার ক্লাসফ্রেন্ড,কুন্তলার রুমমেট মন্দিরা কাকতি নয় যাকে আমি এতদিন কুন্তলার মতোই দেখে আসছি।

এ যেন অন্য একটি মেয়ে,এক আদিম নারী।চোখে কামনার ক্রূরতা,মুখে কীরকম এক কামনার ভাষাহীন অস্পষ্টতা।হাজার বছর আগে ভোল্গার পারে দাঁড়িয়ে থাকা সৃষ্টির আদিম নারী,যার সর্পিল দৃষ্টির প্রখরতায় আমি যেন ধীরে ধীরে পুড়ে ছাই হয়ে গেছি।

সেই প্রখরতার দিকে তাকাতে না পেরে আমি ধীরে ধীরে মুখটা ঘুরিয়ে নিলাম। তবু মনের ভাব গোপন রাখার চেষ্টা করে আমি বললাম—‘আচ্ছা,আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন,আমি পরে এসে নিয়ে যাব।’

মন্দিরাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে হাতটা এক প্রকার টেনে নিয়ে কীভাবে পাহাড়টার নিচে এসে পৌছালাম বলতে পারি না।অনুভব করছিলাম আমার যেন খুব ক্লান্তি লাগছে আর সেই ক্লান্তিতে আমি যেন হাঁপাচ্ছি।

মন্দিরাকে নিয়ে আসার আর কোনো দরকার নেই।আমি জানি সে এখন একাই আসতে পারবে।বার বার মন্দিরার ব্যাপারটা একটা অ্যাকসিডেন্ট বলে ভাবার চেষ্টা করলাম যদিও আমি পুরোপুরি সহজ হতে পারলাম না।

আমি আবার পাহাড়টার ডানদিকে একা যেতে আরম্ভ করলাম।ক্যামেরাটা বুকে আছে যদিও ফোটো তোলার মতো আমি কিছুই খুঁজে পেলাম না।আমি ধীরে ধীরে অনুভব করছি ক্যামেরা যা দেখে তাকে বুকের মধ্যে ধরে রাখাটা যেন একটা বিরাট প্রহসন।এটা আমদের কেবল ফাঁকি দেয়,ছবিটা তুলে ধরতে পারে না।

ছেলেমেয়েদের মাঝখান থেকে ধীরে ধীরে আমি সরে এসেছি।এই দিকে বিশেষ কিছু নেই,একটা নির্জন পরিবেশ।হঠাৎ দেখি অম্লান দত্ত কিছুটা যেন উত্তেজিত হয়ে পাহাড়টার কাছের পাথরটার পাশ দিয়ে বেরিয়ে আসছে,আমাকে দেখে যেন ভূত দেখেছে বলে মনে হল…

‘ও,আ-প-নি…’

‘কী খবর,এদিকে কোথায়?’কোথা থেকে এলেন।

‘আমি মানে...’

অম্লান দত্তের কথা শেষ হতে পেল না,দেখি সেই একই দিক থেকে আকাশী মহন্ত আসছে।এবার আমি কিছুটা অবাক হলাম।

‘এই যে বরুয়া,আপনি’আকাশী মহন্ত স্বাভাবিক সুরে বললেন।

‘দুজনে কোথা থেকে এলেন? ’দুজনের উদ্দেশেই আমি জিজ্ঞেস করলাম।অম্লান দত্ত কোনো জবাব দিতে না পেরে মাথা নিচু করলেন।

আকাশী মহন্ত বললেন—

‘আমরা দুজনেই একটু বেড়িয়ে এলাম-

‘তারপর অম্লান দত্তের দিকে তাকিয়ে বললেন,ডোন্ট টেক ইট সিরিয়াসলি অম্লান,তোমরা ছেলেরা সাধারণত এই ধরনের ভুল কর,একটু খোলামেলা ভাবে মিশি বলে এই ভুলটা তুমি বলেই নয়,অনেকেই করেছে। তারা পরে আমি বিট্রে করেছি,অমুক করেছি তমুক করেছি বলে বেড়ায়,তাই অনেকের চোখেই আমি খারাপ মেয়ে,তবে তোমাদের মতো আমি চুরি করে প্রেম করতে জানি না,ট্রাই টু বিহেভ মী এজ ইউর ফ্রেণ্ড,আমি তখন সুখী হব,আচ্ছা বরুয়া,আসছি।’

কথা বলতে বলতে আকাশী মহন্ত চলে গেল। অম্লান দত্ত লজ্জা আর অপমানে নিস্তব্ধ হয়ে রয়েছে।মাথা তুলে তাকাতে পারছে না।পরিস্থিতিটা আমি হালকা করে দিতে বললাম—‘এসব কথা বাদ দিন দত্ত। যৌবনে এইসমস্ত দুর্ঘটনা ঘটেই থাকে,আমরাই বা কত ভালো। আকাশীকে কে না জানে,সেএসব অ্যাক্টিং করে দেখালেই বা কী হবে।ভয় নেই ,আমি কাউকে বলব না।’

‘না,না বরুয়া,আপনার ভুল হয়েছে,আকাশী যা বলেছে সেটাই সত্যি…’

‘সত্যি হোক বা না হোক সেসব বাদ…’

‘না বরুয়া,একটা বিরাট ভুল করলাম।আমাদের দুজনের মধ্যে একটা স্বাভাবিক বন্ধুত্ব কিছুদিন থেকে গড়ে উঠছিল,কিন্তু তাকে আমি একটা বিরাট ভুল অর্থে গ্রহণ করেছিলাম। আমি আসলে আকাশী গার্লস হোস্টেলের পিকনিকের সঙ্গে আসবে বলে শুনেই আপনাদের সঙ্গে পিকনিকে এলাম।…আকাশী আমার কথাতেই আমার সঙ্গে বেড়াতে এসেছিল।আমরা দুজনে ঐ পাথরটার ওপারে গিয়ে বসেছিলাম…’

এতটুকু বলে অম্লান দত্ত কিছুক্ষণের জন্য থামলেন।আমি কৌ্তূহলের সঙ্গে অম্লান দত্তের দিকে মুখটা তুলে তাকালাম।

‘বাট আই কমিটেড এ গ্রেট মিস্টেক,আমরা শুনে আসা আকাশী ভেবেই আমার তাকে এভাবে অপমান করা উচিত হয়নি।যদিও সে তখন আমার ব্যবহারে একটা বাঘিনীর মতোই আমার ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।তবু এই মুহূর্তে তাঁর ব্যবহারটা লক্ষ্য করুন।আমরা মেয়েদের বাহ্যিক রূপটাকে সত্যি বলে ধরে নিয়ে কখনও কখনও বিরাট ভুল করে ফেলি…’

আমার মনটা ভরে উঠল আকাশী মহন্ত নামে রহস্য ঘিরে থাকা মেয়েটির কথা শুনে।ঠিক সকাল ছয়টার সময় আমার পাশের জানালা খুলে দিলে দেওয়ালের ওপারের দোতালা ঘরের বারান্দায় যে মেয়েটিকে এতদিন ধরে দেখে আসছি সেই মেয়েটিই আকাশী মহন্ত। প্রতিদিন একই পোজে দাঁত ব্রাশ করতে করতে দোতালার বারান্দা থেকে আমাদের হোস্টেলের দিকে তাকিয়ে থাকে। আকাশী আমাদেরই কলেজের।আকাশীদের বাড়ি আমাদের হোস্টেলের গায়ে লাগানো।একটা মাত্র দেওয়াল আর মিউনিসিপ্যালিটির একটা ছোট রাস্তা কিছুটা পার্থক্য করেছে।

যদিও আকাশীদের ঘর হোস্টেলের এত কাছে তবু হোস্টেলের কোনো ছেলের সঙ্গে আকাশী,আকাশীর বোন-দিদি,কার ও কোনোরকম সম্বন্ধ গড়ে উঠতে আমি এতদিন দেখিনি।

তবু কিম্বদন্তীর মতো ছেলেদের মুখে মুখে চলে আসা অনেক গল্পই আমি শুনেছি।আবশ্যকের চেয়ে মুখে বেশি রঙ মাখা,চালচলনে একটা হরিণী চপলতা থাকা আকাশী,আকাশীর দিদি-বোন,অনেকের মতে একেকজন কালনাগিনী।কতজনকে যে ঘায়েল করেছে তার কোনো ঠিক নেই।

আমাকে যখন সুপার প্রথম এই সিটটা অ্যালট করেছিল,সেদিন সমগ্র হোস্টেলে একটা সেনসেশন ক্রিয়েট করেছিল। সবারই এক কথা-দেখ বাবা,একেবারে সাপের গর্তে।

কথাটা সত্যি না মিথ্যা কিছুই জানি না।আমার সিটের আগের কেউ নাকি পাশ করে বেরিয়ে যেতে পারেনি—এরকম একটা রেকর্ড আমাদের কলেজে আছে।

আকাশী মহন্তের সঙ্গে কলেজেই আমার পরিচয়। কথা-বার্তা সেভাবে নেই যদিও সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালা খুলে দিলেই আকাশী মহন্তকে রুমের তিনটি প্রাণীর পরে চতুর্থ প্রাণী হিসেবে এতদিন ধরে দেখে আসছি। সেই আকাশী মহন্তের আজকের রূপ দেখে আমি সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম।অনেক স্থানীয় মেয়ে গার্লস হোস্টেলের সঙ্গে গেস্ট হিসেবে পিকনিক খেতে আসার মতো আকাশী মহন্ত ও এসেছে।

কিম্বদন্তীর মতোই গল্প শুনে শুনে এই আকাশীর বিষয়ে আমিও বহু কথা বলতে পারি।কিন্তু সেই আকাশীর এই নতুন রূপটা আমার কাছে একেবারে অপরিচিত,সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। আকাশী মহন্তের সঙ্গে আমার সম্পর্ক মাত্র একটিই,সেটা রমেনের মাধ্যমে।আমাদের হোস্টেলের কমন রুমটা আমাদের রুম থেকে অনেক দূরে।সেইজন্য কমনরুমে থাকা রেডিয়োটার গান শোনার জন্য আমাদের অনেক দূরে যেতে হয়।

একদিন রমেন অনেক এক্সপেরিমেন্ট করে একটা নতুন উপায় বের করল।আমাদের যখন গান শুনতে ইচ্ছা করে,রমেন তখন চিৎকার করে কারও একজনের নাম ধরে ডাকে,এই যে অমুক গানটা শোনা,পড়ে পড়ে বিরক্ত লাগছে।

এইভাবে দুই তিনবার চিৎকার করার পরে আকাশীদের ঘরে জোরে রেডিওটা বেজে উঠে।এভাবেই অনেকদিন ধরে চলছে। এর বেশি এগোয়নি,সেইজন্য অন্য রুমের কেউ অধিক আগ্রহের সঙ্গে এর পরেরটুকু জানতে চাইলে আমি কেবল বলে রাখি,এখানেই কাহিনির শুরু,এখানেই কাহিনির শেষ।’

জীবনে কত মেয়ের সঙ্গে আজ পর্যন্ত দেখা হল-দীপা,করবী,কুন্তলা,মন্দিরা,ট্রেনে দেখা হওয়া রৌশনা,পূরবী এবং আরও কত।তবু আজ আকাশীর সঙ্গে দেখা হয়ে আমি যেন একটা নতুন সত্যকে আবিষ্কার করলাম। মেয়েদের একটু বেশি পরিমাণে হাসি ঠাট্টা করা,বেশি উৎপাত সমাজের চোখে হয়তো অনেক বড় কিছু,কিন্তু আমরা ছেলেরা এই ধরনের উৎপাত দৈনিক করে থাকি যদিও সবার চোখেই এটা তখন নির্দোষ মজা হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে।

মন্দিরার কথা যদি আমি কুন্তলাকে গিয়ে বলি সে আমার কথা বিশ্বাসই করবে না। আবেগহীন,আবশ্যকের চেয়ে বেশি কথা না বলা,ছেলে দেখলে একা যেতে পারবে না। মন্দিরা কাকতি ভালো মেয়ে,কিন্তু আকাশী,যাকে নিয়ে হয়তো হাজার কিম্বদন্তী সৃষ্টি হয়েছে,তার কথা যদি আমি আজ হোস্টেলে বলি সবাই বলবে,’রেখে দে বরুয়া,এইসব মেয়েরা কখন কোথায় কীভাবে অভিনয় করে কে বুঝতে পারবে?’

আমি এসে আবার রমেনদের সঙ্গে জুটে গেলাম।এবার ক্যামেরার সৎ ব্যবহার হয়েছে।দুই একটি মেয়ের ছবিও ওরা চুপিচুপি তুলেছে। মেয়েরা ছবি তুলছে জানতে পেরেও না দেখার ভান করেছিল।হঠাৎ দেখি অন্য কলেজের কিছু ছেলে আমাদের কলেজের কয়েকটি মেয়েকে পথ আগলে উৎপাত করছে।তা দেখে আমি বললাম—এই যে রমেন ওদের দেখেছিস,আমাদের মেয়েদের উপর কীভাবে উৎপাত করছে।‘

‘দুই তিনটা চড় লাগিয়ে দে গিয়ে’সে গম্ভীরভাবে বলল –‘আমাকে কেন বলছিস।’

তার কথা শুনে আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না,এরকম মনে হল তাকে যেন আমি না বলার মতো কিছু বলেছি।অবশ্য সে আমাকে বেশি সময় বিমূঢ় হয়ে থাকতে না দিয়ে হো হো করে হেসে বলল—‘তোদের মতো কিছু মূর্খ আছে বলেই এভাবে এদের উৎপাত করার সুযোগ পায়।মেয়েরাই বা অন্য কলেজের ছেলেদের মধ্যে কেন ঢুকতে গিয়েছিল।মেয়েরা ভাবে আমাদের কলেজের ছেলেরা তো আছেই,তাই ভয় কীসের।ইচ্ছেমতো যাকে খুশি নাচানো যেতে পারে।বেশি উৎপাত করলে আমাদের কলেজের কোনো একজন ছেলেকে বলে দিলেই হল,নিজেদের যখন গার্জেন ভাবে ‘কটন কলেজের মেয়েরা বিপন্ন’বলে ঝাঁপিয়ে পড়বে।ফলে মারপিট বুঝেছিস মূর্খ।আমরা মারপিট করে হাসপাতালে যাব আর ওরা তখন স্ফুর্তি করে কাকে কোথায় আজ নাচাল তার কথা বলে হোস্টেল মাথায় তুলবে।‘

রমেনের কথার প্রতিবাদ করার মতো আমি কোনো ভাষা খুঁজে পেলাম না।সে কোনো মিথ্যা কথা বলছে না।গতবার এরকমই কিছু একটা মারপিট ‘লোকেল’ছেলেদের সঙ্গে হোস্টেলের ছেলেদের হয়েছিল।তার রি-অ্যাকশন হিসেবে আজ কিছুদিন আগে কোনো একটি সিনেমাহলে মারপিট হওয়ায় কয়েকটি ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল।

তারপর সেই কয়েকটি ছেলের কোন মেয়েটি কতবার খবর করেছে?

একটা সাময়িক উত্তেজনায় আমরা ছেলেরা কিছু একটা করে ফেলি,আগেপিছে ভাবার আর আমাদের সময় থাকে না।কিন্তু তা থেকে কার কতটুকু লাভ হয়?রমেন বেশি কথা বললেও কথাগুলির মধ্যে সত্যতা রয়েছে।

দিনের কিছু টুকরো টুকরো স্মৃতি ,ব্যস্ততাপূর্ণ দিনের ক্লান্তি নিয়ে ধীরে ধীরে বাসগুলি ফিরে এল।গার্লস হোস্টেলের মেয়েদের যাওয়াটা একটু তাড়াতাড়ি হওয়ায় সেখানে এবং ভাঙ্গা সভায় উলু দেবার জন্য অপেক্ষা করার আবশ্যকতা কেউ অনুভব করল না।

যাবার সময় যত হুলুস্থুল,চিৎকার চেঁচামিচি করেছিল,ফেরার সময় মাঝেমধ্যে সেই ধরনের চিৎকার চেঁচামিচি করে এসেছে যদিও তাতে যেন বিশেষ কোনো সজীবতা নেই।দিবাকর সারাটা রাস্তা বমি করেছে।সঙ্গী পেয়ে কোথাও বেশি করে মদ খেয়েছে।পিকনিকে কিছু মানুষ এইসব নিয়ে যায়,তাছাড়া পিকনিক স্পটে যোগান দেবার মতো মানুষও অনেক রয়েছে।গুয়াহাটি ড্রাই হয়েছে যদিও মদের ঘাটি রাস্তায়-ঘাটে,যেখানে সেখানে হয়েছে।তাছাড়া অনেক হোটেলের মধ্য দিয়ে এই ব্যবসা গোপনে গোপনে নিয়মিত চলে আসছে,সে খবর সবাই জানে যদিও যাদের এই সমস্ত খবর রাখা উচিত তারা আশ্চর্যভাবে নীরব হয়ে থাকে।রমেন দিবাকরকে পাশে বসিয়ে এনেছে যদিও মাঝে মধ্যে চিৎকার করেছে—এরা সব দেশী মদ খাবে,হজম করতে না পেরে সারা রাস্তা উৎপাত করবে।‘

‘এবারের মতো ক্ষমা করে দে ভাই,কানে ধরছি,আর এভাবে খাব না।’

‘তোকে আমি ক্ষমা করলে কী হবে,এখন চুপচাপ থাক।’ সে চুপ করল।বাসটা গোঁ গোঁ করে যেতে থাকল।

সারাদিনের ক্লান্তি হোস্টেলে পৌছানোর পরেই টের পাওয়া গেল।প্রত্যেক রবিবার সন্ধ্যেবেলা আমি মায়ের কাছে চিঠি লিখি।আজ আর লিখতে ইচ্ছা করল না।তাছাড়া কী লিখব?

পিকনিকে গিয়ে সারাদিন স্ফুর্তি করলাম বলে লিখতে হবে।মা আমার চিঠি থেকে আজ পিকনিকে যাব বলে জানতে পেরে লিখেছিল –‘মাঝে মধ্যে এই ধরনের স্ফুর্তি,আনন্দ সবারই করা উচিত।তোমাদের বয়সে এসব না করলে পরবর্তী জীবনে কিছুই করতে পারবে না…’

কিন্তু মা তো জানে না আমি মাত্র একটা দিন স্ফুর্তি করার জন্য পনেরো টাকা খরচ করে ফেললাম।এই মাসের মেস ডিউজ ৭২ টাকা,৬০ টাকার সঙ্গে ১২ টাকা পিকনিকের জন্য।এটা কম্পালসরি,যাই বা না যাই দিতেই হবে।যদি মেস কমিটি কম্পালসরি করে না দেয় আমার মতোই অনেকের ১২ টাকা দেবার সামর্থ্য নেই,ফলে অনেকেই অজুহাত দেখিয়ে যাবে না।সেটা মেস কমিটি জানে।কিন্তু সবল প্রতিবাদ এর বিপক্ষে কেউ করবে না,কারণ কে এগিয়ে গিয়ে আমার পয়সা নেই বলবে?

আমাদের মতো সমাজের জন্য সমস্যা একটাই,আমাদের দরিদ্রতাকে আমরা মুখ খুলে বলতে পারি না।

ছাত্রের দ্বারা নির্বাচিত মেস ‘কমিটি’টার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে যদি দাঁড়াই তাহলে সুপারের ভাষায় ‘পলিটিক্স’করা হবে।

যদি খোলাখুলিভাবে বলে দিই,সত্যিই আমার পয়সা নেই,দুধ বিক্রি করা পয়সা,সোয়েটার বুনে,তাঁত বুনে মায়ের রোজগার করা পয়সা দিয়ে পড়তে এসেছি,এই সমস্ত আমোদ প্রমোদে যোগ দেবার আমার যোগ্যতা নেই,তখন আমার কথা কেউ শুনবে না।বরং সেই মুহূর্ত থেকে কেউ আমার সঙ্গে মেলামেশা করবে না।

আর যদি এখন আমি বারোর সঙ্গে আরও তিন মোট পনেরো টাকা খরচ করে পিকনিক খেয়ে এসেছি বলি মা তখন কী ভাববে?মা হয়তো ভাবতে পারে তাঁদের দুঃখ আমি একেবারেই বুঝি না,কষ্ট করে পাঠানো পয়সগুলি ধনীর ঘরের ছেলের মতো বে-হিসেবি ধরণে খরচ করে উড়িয়েছি।মায়ের এই যুক্তি খণ্ডন করার মতো হয়তো তখন কোনো যুক্তি খুঁজে পাব না।আমি জানি মা কোনোদিনই আমাকে এভাবে পয়সা খরচ করছিস কেন বলবে না কিন্তু মায়ের অন্তর কি একে সহজভাবে নিতে পারবে?

আমি এসব প্রশ্নের কোনো উত্তরই খুঁজে পেলাম না।আমার সামনে মন্দিরা,আকাশী,রমেন এবং কারও স্মৃতি নেই।দিনের আনন্দ-স্ফুর্তি আমার কাছে একটা প্রহসন বলে মনে হচ্ছে।আমার সামনে ভেসে উঠছে মায়ের করুণ মুখটা,প্রতিটি মুহূর্তেই আমার জন্য চিন্তা করা মায়ের করুণ মুখটা আমার দিনটির সমস্ত কথা ভুলিয়ে দিয়েছে।

শরীরের ক্লান্তির চেয়ে মানসিক ক্লান্তিটাই আমাকে বেশি দুর্বল করে ফেলল।বিছানায় পড়ে আস্তে করে আমি সূইচটা অফ করে দিলাম।রমেনরা ভাত খাবার জন্য বলতে আসায় আমার উঠতে ইচ্ছা করল না।‘খুব ক্লান্ত লাগছে খাব না বলে শুয়ে রইলাম।

চলবে ...