রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

কংগ্রেসের পালে নতুন হাওয়া প্রিয়াঙ্কা

নির্বাচনের মুখে প্রিয়ংকা ভদ্র কংগ্রেসের বড় চমক । পরিবার তন্ত্র থেকে এখনো বের হতে পারে নি কংগ্রেস । ইন্দিরা গান্ধীর মুখের আদল নিয়ে জন্মানো প্রিয়ংকা কী ইন্দিরার উত্তরসূরি হয়ে উঠতে পারবে ?

উজ্জীবিত কংগ্রেস

প্রতীক্ষা ছিল বহু বছরের৷ কংগ্রেসের কর্মীদেরও বহুদিনের দাবি— প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দিন৷ অবেশেষে সেই পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর কন্যা৷ সরকারিভাবে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিয়ে সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন তিনি৷ সারা দেশে কংগ্রেস কর্মীরা হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্তে উল্লসিত৷ একই মত বিভিন্ন রাজ্যের নেতৃত্বের৷ পশ্চিমবঙ্গও ব্যতিক্রম নয়৷

ডয়চে ভেলেকে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি, বর্তমান সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘কংগ্রেস কর্মীরা অনেকদিন ধরেই প্রিয়াঙ্কাকে চাইছিলেন৷ তাঁর আসাতে কংগ্রেস কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন, অনেক বেশি কাজ করতে পারবেন৷ এতে কংগ্রেসের ভালোই হবে৷''

প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চেহারার মিল রয়েছে৷ ভোটের আগে তিনি কি সামলাতে পারবেন গুরু দায়িত্ব? এই প্রশ্নে রাজনৈতিক মহলে দোলাচল থাকলেও কংগ্রেস দারুণ আশাবাদী৷ পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণা দেবনাথ বলেন, ‘‘পরিবারের রক্ত ওঁর মধ্যে আছে৷ রয়েছে অভিজ্ঞতাও৷ প্রিয়াঙ্কা ভালো কাজ করবে৷ এজন্য কংগ্রেসের ভোটও বাড়বে৷ কংগ্রেস কর্মীরাও খুব উজ্জীবিত৷'' নারী হিসেবে প্রিয়াঙ্কার রাজনীতিতে আগমন ইতিবাচক বলেই মনে করেন নেত্রী কৃষ্ণা৷ তাঁর মন্তব্য, ‘‘পুরুষশাসিত সমাজে মহিলারা পিছিয়ে৷ আমাদের দলে মহিলারা আছেন৷ তবে উনি এলে দলে অনেক সংখ্যালঘু, দলিত, মহিলারা এগিয়ে আসবে৷''

অন্যরা কী ভাবছেন?

তবে নারী বলে প্রিয়াঙ্কার রাজনীতিতে আগমন যে বাড়তি কিছু, এমনটা মনে করছে না তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব৷ নাট্যব্যক্তিত্ব ও তৃণমূল সাংসদ অর্পিতা ঘোষ বলেন, ‘‘এই আসাটা সহজাত৷ তবে একজন রাজনীতিতে এসেছেন, তিনি ইন্দিরা গান্ধীর নাতনি, এটুকুই! এটা নিয়ে আলোচনারও কিছু নেই৷ আজকাল প্রচুর মহিলা রাজনীতিতে আসেন৷ যেখানে মহিলাদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে তিনি এসেছেন৷ এটা ভালই তো!'' তৃণমূলের সর্বময় কর্তৃত্ব একজন মহিলার হাতে থাকলেও তৃণমূল বিধায়ক পরশ দত্ত প্রিয়াঙ্কার জন্য কোনো বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাতে রাজি নন৷ এতে কংগ্রেসের রাজনৈতিক লাভ হবে বলেও তিনি মনে করেন না৷ পরশ বলেন, ‘‘কংগ্রেসের নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই৷ তবে কিছু লোক উজ্জীবিত হবে৷ ভোটবাক্সের ফল শুধু রায়বেরেলিতেই পাল্টাবে৷ অন্য কোথাও কিছু হবে না৷''

সিপিএম নেতা ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য অবশ্য তরুণ প্রজন্ম হিসেবে প্রিয়াঙ্কার আগমনকে স্বাগতই জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘রাজনীতি করার অধিকার সকলের আছে৷ একজন অল্পবয়স্ক মেয়ে রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়েছে, আমাদের ওয়েলকাম করা উচিত৷ অনেক সময় দেখা যায়, অনেক ছেলেপুলে কিছু রাজনীতি না করে শুধু রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর অমুক বলে উপরে উঠে যায়৷ হঠাৎ করে এমপি, এমএলএ হয়ে যাওয়ার থেকে অল্পবয়সিদের রাজনীতি করাটা ভালো৷ তবে প্রিয়াঙ্কার আগমনে কংগ্রেসের পালে বাড়তি হাওয়া লাগবে কিনা সেটা পরের কথা৷''

জনতা কী ভাবছে?

প্রিয়াঙ্কার আগমনে তাঁর দলের পালে কতটা হাওয়া লাগতে পারে, তা বোঝার জন্য ডয়চে ভেলে কথা বলেছে নতুন ভোটারদের সঙ্গেও৷ তাঁদের একজন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী উষসী পাল ব্যাপারটাকে একেবারেই গুরুত্ব দিতে নারাজ৷ তিনি বলেন, ‘‘কে কোথায় কী হল, তাতে আমাদের কিছু এসে যায় না৷ আমাদের এত ইস্যু রয়েছে, এসব নিয়ে ভাবার সময় নেই৷ আসল হল নীতি, কে নেতা সেটা বড় নয়৷''একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বাংলার শস্যভাণ্ডার বর্ধমানের কৃষিজীবী নকুল মাজি৷ তাঁর বক্তব্য, ‘‘আলুর ফলন ভাল হওয়া সত্ত্বেও এবার আমরা দাম পাচ্ছি না৷ সেটা আমাদের চিন্তা৷ কে নেতা হল তাতে আমাদের কী আসে-যায়?'' ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একটি বেসরকারি কারখানার শ্রমিক তাপস গুছাইত অবশ্য ইন্দিরা পরম্পরায় গুরুত্ব দিলেন৷ তাঁর মতে, ‘‘ইন্দিরা গান্ধীর মতো জোরালো নেতৃত্ব আমাদের দরকার৷ তবে প্রিয়ঙ্কা সেই জায়গা নিতে পারবেন কি না, এখনই বলা মুশকিল৷''