শনিবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

উনিশে মে,এগারো শহীদ ও অন্যদেশের শ্রদ্ধাঞ্জলি


--বেজে উঠেছে পাঞ্চজন্যের শঙ্খনাদ । আয় গো তোরা বেরিয়ে আয় । হাতে হাতে ধর গো ; সংগ্রাম আসন্ন ...

এই ডাক ভাষাজননীর ।

এই ডাক বরাক-কুশিয়ারার ।

এই ডাকে সাড়া দিয়ে দলে দলে ঘর ছেডে বের হয়ে এলো একদার অবিভক্ত কাছাড়ের দামাল ছেলে মেয়েরা ।ভাষার অধিকার । মাতৃভাষা , মুখের ভাষা কেড়ে নিতে ফরমানের বিরুদ্ধে এইবার লড়াই হবে জীবন বাজি রেখে । বরাকবঙ্গের যন্ত্রণার , লডাই-এর খবর রাখে কয়জন । ঈশানকোণে বার বার মেঘে জমে উঠে সিঁদুর চোখের রক্ত রাঙানো ভয় নিয়ে । গর্জন তর্জন আগ্রাসন আর পদে পদে অপমানের তীক্ষ্ণ শলাকার খোঁচা – এই তো নিত্যদিনের প্রাপ্তি । শান্ত ঈশানকোণে যে বাতাস ছিল রমনীয় হেমন্তের , যে জীবন ছিল কুশিয়ারার মতোই স্নিগ্ধশীল বহমান , বিগত কয়েক বছর ধরেই আগুন জ্বলছে ধিকিধিকি । সেই আগুনের পারা দিনকে দিন বাড়ছে হাওয়ার স্পর্শে দ্বিগুণ বেগে ।

এই আগুন একদিনে জ্বলে নি , রাবণের চিতার মতো এই আগুন নিভবে কী কোনদিন ? উনিশের মে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক মহাসংগ্রাম আর ত্যাগের ইতিহাস । মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় গোটা বরাক উপত্যকায় যে দৃপ্ত উত্থান লক্ষ করা গিয়েছিল সেটা আজও এখানে এক বিরল উদাহরণ । প্রবল প্রতিরোধ, প্রতিবাদ ও সংগ্রামের মাধ্যমে এখানকার জনগণ তাদের ভাষিক-সাংস্কৃতিক পরিচয়টি অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছেন । উনিশে মে-র এগারো শহিদের আত্মাহুতির ঘটনা বরাক উপত্যকা ও পশ্চিমবঙ্গের লেখক-কবি-শিল্পী-সাংবাদিক সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে প্রচণ্ডরকম নাড়া দিয়েছিল ।

উগ্র জাতীয়তাবাদ ও পর ভাষা-কৃষ্টির প্রতি অশ্রদ্ধা ,ভীতি ভাষা বৈষম্যের নিয়ে আসামকে উত্তপ্ত করেছে বারবার । আগুনেরউৎসের দিকে যদি মুখ ফেরানো যায় , তবে শুরুটা শুরু হয়েছিল নিঃসন্দেহে ব্রিটিশের দুমুখো নীতি থেকে । বরাকের ভাষা বিশেষজ্ঞদেরও মতামত তাই । ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমল থেকেই শাসন ব্যবস্থার সুবিধার জন্যই হোক , কিম্বা ইংরেজ নীতির ফলেইহোক প্রাশাসনিক সুবিধার কথা বলে এক একটি শাসন বিভাগ গড়ে তোলা হয় । ১৮২৬ সালে আসামে ব্রিটিশ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় । সেই সময় আসাম ছিল বঙ্গের অধীন । বঙ্গের শাসন কর্তাই ছিল আসামের শাসন কর্তা । আসামের শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত ছিল একজন কমিশনারের উপর । তবে বাংলার ছোটলাট স্যর ক্যাম্পবেল অনুভব করেন এতদুর থেকে প্রদেশগুলো ঠিক মতো চালানো মুশকিল । প্রতিটি প্রদেশের প্রশাসনিক বিভাগ স্বতন্ত্র হওয়ার প্রযোজন । তারই আগ্রহে১৮৭৪ সালে ৬-ই ফেব্রুয়ারি গঠিত হলো আসাম প্রদেশের জন্য স্বতন্ত্র শাসক একজন চিপ কমিশনার । সেই বছরেই শ্রীহট্ট জেলাকে যুক্ত করা হয় নব গঠিত শ্রীহট্ট জেলার সঙ্গে । সেই সময় কাছাড় ছিল ইন্দো –মঙ্গোলীয় রাজাদের স্বাধীন রাজ্য । সুজিত চৌধুরীরবয়ানে একবার বিষয়টি দেখা যাক ,

  • - “ ডিমাছা রাজাদের হাতে যে অংশটা ছিল, তার অংশ বিশেষের নাম দেওয়া হয়েছিল কাছাড় জেলা , সেই কাছাড় জেলার পার্বত্য অংশ আজ চলে গেছে উত্তর কাছাড় পার্বত্য জেলায় , সমতল অংশও দ্বিধাবিভক্ত , একটা নাম কাছাড় , একটা হাইলাকান্দি । এই দুটোর সঙ্গে করিমগঞ্জ জেলাকে জুড়লে যে মানচিত্রটি হয় , তারই আজকের নাম বরাক উপত্যকা । এই করিমগঞ্জ জেলা আবার বিভাগ পূর্ব শ্রীহট্ট জেলারই একটা অংশ মাত্র । নিকট অতীতের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় ১৭৬৫ শ্রীহট্ট জেলা যায় ব্রিটিশের দখলে , আর ডিমাছা কাছাড়ীদের রাজ্য যায় ১৮৩২ সালে।কাছাড়ী রাজাদের রাজ্য ছিল বলে তার নাম দেওয়া হয় কাছাড় জেলা । শ্রীহট্ট জেলা তো বরাবরই ছিল মোগলদের সুত্রে বাংলার অংশ , আর ব্রিটিশ অধিকারে যাওয়ার পর কাছাড় জেলাও হয়ে পড়ল ব্রিটিশদের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অংশ । ১৮৭৪ সালে যখন স্বতন্ত্র আসাম প্রদেশ গঠিত হল , তখন নতুন ঐ প্রদেশের রাজস্ব ঘাটতি মেটানোর জন্য শ্রীহট্ট ও কাছাড় দুটো জেলাকেই জুড়ে দেওয়া হল আসামের সঙ্গে”। *১
  • ” বৃটিশ রাজশক্তি এই অঞ্চল ভূমি জয় করে নেবার পর ক্রমে শাসনশৃঙ্খলা প্রবর্তনে যে রাজনৈতিক বিন্যাস গড়ে তুলেছিল তাতে এই বঙ্গীয় অঞ্চলকে সামিল করে এই সর্ব প্রথম আসামের নামে এক জোড়াতালি দেওয়া প্রদেশ সৃষ্টি হল । এর আগে আসাম নামে কোন রাজ্য ছিল না । ... এই জবরদস্তিমূলক অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে অঞ্চল ভূমির মানুষ সেদিন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ জানিয়েছিল । নবগঠিত আসাম প্রদেশ শাসন কার্য্যের সুবিধার জন্য ১৯০৫ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত ঢাকা ডিভিশনের অন্তর্গত ছিল । এই বিশাল প্রদেশটিকে ভাগ করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম সমন্বিত অংশকে আলাদা করে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লর্ড কার্জন’’ ।*২
  • -’’১৮৭৩ সালের ৯-ই এপ্রিল প্রাথমিক । মধ্য ও নিম্ব মধ্য বিদ্যালয়ে অসমিয়া ভাষা ব্যবহারের আদেশ জারি করা হয় এবং ওই বছর ২৫-ই জুলাই আইন আদালতের ভাষা রূপে অসমিয়া ভাষা স্বীকৃতি লাভ করে । ১৮৩৬ ্থেকে ১৮৭৩ সাল পর্যন্ত আসামে অসমিয়া ভাষা যে উপেক্ষিত হয় তার মূলে রয়েছে শাসক ইংরাজের অদূরদর্শিতা ও অবিবেচনা প্রসূত ভাষা নীতি । ... প্রথমত এর ফলে বাংলা ভাষা ও বাঙ্গালির প্রতি ভীতি-মিশ্র দৃঢ় তরঅসহিষ্ণুতা অসইয়া জনগণের মধ্যে সঞ্চারিত হয় । ... দ্বিতীয়ত বংগদেশের শিক্কিত বাঙালির মধ্যেএই ধারনা বদ্ধমূল হয় যে অসমিয়া প্রকৃত পক্ষে বাংলারই একটি উপভাষা । এই ধারনা দৃঢ় তরহয় বিশেষ করে যখন হলিরাম ঢেকিয়াল ফুকন বাংলা ভাষায় ‘আসাম রুরঞ্জি’ রচনা করেন এবং আসামা’সমাচার দর্পণ’ প্রভৃতি বংলা সাময়িক পত্রিকার গ্রাহক সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়’’ ।*৩

অর্থাৎ উনিশের ভাষা আন্দোলনের গোড়া পত্তনেরকর্মবীজটিপুঁতে গিয়েছিল মহামান্য শ্বেতাঙ্গ কর্তাগণ । চিপ কমিশনার নিয়োগ হলেও আসাম ছিল বঙ্গের অধীন ।তাই নবাগত ইংরেজ শাসকেরাআসামে ব্রিটিশ অধিকার প্রতিষ্ঠা করে ১৮৩৬ সালে আদালতের ও প্রশাসনের ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষা চালু করেন । শুরু হয় বাংলা পঠন পাঠন , তৈরি হয় স্কুল । প্রচুর বংগভাষীকে বঙ্গদেশ থেকে এনে নিয়োগ করা হয় প্রশাসনিক কাজে । বিষবৃক্ষটির বীজ পোঁতা হয় ব্রহ্মপুত্রের তীরঘেষে । বঙ্গ ভেঙে আসাম সৃষ্টি , আবার আসাম ভেঙে অধুনা বাংলাদেশের অঙ্গ করে দেওয়া হয় শ্রীহট্টভুমিকে । সব-ই রাজার খেলা , ভুক্তভোগী সাধারণ প্রজা ।

বরাকের বিখ্যাত কবি অনুরূপা বিশ্বাস বলছেন,

এর বিরুদ্ধে বিখ্যাত বঙ্গ ভঙ্গ আন্দোলন হয় , এই ইতিহাস সকলের জানা । জানা নেই আসামের বাঙালি বিদ্বেষের বীজটি ইংরেজের পোঁতা ।

স্বাধীনতা এলো দেশ ভাগ করে । বাঙালি দুটুকরো হয়ে আপন ভূমিতে পরবাসী হয়ে গেল । মানচিত্র হীন বাঙালি চিরদিনের শরণার্থীর টীকা লটকে নিল কপালে । এর পর থেকে বাঙালি ছিন্নমূল শেকড়হীন স্বভূমিতে পরগাছা । অপমান ও লাঞ্চনা সম্বল করে নিরন্তর আত্ম রক্ষার লড়াই-এরকাহিনী । উদ্ধাস্তু ও বিদেশি এই শব্দ দুটির সমগ্র বাঙালি জাতিকেই যেন তাড়া করে বেড়ায় । শুধু বাঙালি হওয়ার জন্য কম অপমান তো বাঙালি খেলো না । আসামে বাঙালি হয়ে গেল বাঙ্গাল , বহিরাগত , বিদেশি । এই তকমা যাবে না সহস্র ধৌতে ।

আসামে বৃটিশ অধিকার প্রতিষ্ঠার পর ১৮৩৬ সালে আদালতে বাংলা ভাষা চালু করা হয় । প্রশাসনিক কাম কাজের সুবিধার জন্য বংগদেশ থেকে অফিসার কেরানি নিয়ে আসা হয় । স্থানীয় দিগকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য বাংলা মাধ্যাম স্কুল খুলেন ইংরেজ প্রশাসন । ইংরেজের এই অদূরদর্শিতাই অসমিয়া সমাজের মনে বাঙালি ও বঙ্গ ভাষার প্রতি বিদ্বেষ ও ভয়ের সৃষ্টি করে ।

সেই সময় গুণাভিরাম বরুয়ার মতো চিন্তাবিদরা অসমিয়া ভাষা প্রবর্তনের জন্য সচেষ্ট হন ।তাঁদের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয় গুলিতে অসমিয়া পঠন-পাঠান শুরু হয় ।

এখানে বরাকের চিন্তাবিদ –অধ্যাপক জন্মজিত বাবুর মন্তব্য তুলে ধরা যাক ,

সেই সময়ই গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মন্তব্য করেন , ‘আসাম ও উড়িষ্যায় বাংলা যদি লিখন-পঠনের ভাষা হয় , তবে তাহা যেমন বাংলা সাহিত্যের পক্ষে শুভজনক হইবে , তেমনি সেই দেশের পক্ষেও । কিন্তু ইংরেজের কৃত্রিম উৎসাহেবাংলার দুই উপকণ্ঠবিভাগের একদল শিক্ষিত যুবক বাংলা প্রচলনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ – ধব্জা তুলিয়া স্থানীয় ভাষার জউ কীর্তন করিতেছেন’’ ।

জ্বলে উঠলোঅসমীয়া জাতীয়তাবাদী চেতনা । তীব্র বাঙালি বিদ্বেষ এই জাতীয়তাবাদের প্রেক্ষাপট । রাজ্যে বাঙালি ও বাংলা ভাষার আধিপত্যের জন্যে অসমীয়া ভাষীর অন্তরে তীব্র বাঙালি বিদ্বেষ গোপন ছিল না । ১৮৭৩ সালে কামরূপ , দরং , নওগাঁ, শিবসাগর ও লক্ষীম্পুর জেলায় বিদ্যালয় গুলো ও আদালতে অসমীয়া ভাষা সরকারী ভাষা রূপে প্রতিষ্ঠা লাভ করে । স্বাধীনতার পর থেকেই আসামে বাঙালিকে বিদেশী , বহিরাগত রূপে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টায় আসামের বুদ্ধিজীবিদের দ্বারা সমর্থিত হয় । উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকেই সুপরিকল্পিত ভাবে আসামের বাঙালিদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুৎসা , প্রচার , দাঙ্গা ও উচ্ছেদ ইত্যাদি ঘটনা গঠতে থাকে । ১৯৫০ সালে গোয়ালপারায় শুরু হয় ‘বাঙ্গালখেদা’ আন্দোলন । অসমীয়া ভাষাকে মাতৃভাষা রূপে গ্রহণ করার জন্য নির্বিচারে বাঙালি নিধন শুরু হয়েছিল । বিদ্যালয়গুলিকে অসমীয়া মাধ্যমে পরিনত করার হিড়িক চলে । সরকারী স্তরে বাংলা ভাষা বিরোধিতা ও অসমিয়াকরণের নীতি বরাকের বাঙালির জীবনে গভীর প্রভাব পড়ে ।

১৯৬০ সালের ২রা ও ৩রা জুলাই শিলচর শহরে’নিখিল আসাম বাংলা ভাষা সন্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয় । এই সন্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় আসামের ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠনেরবিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করে হোক । কিন্তু কাছাড়ের ও বাংলাভাষীর দাবী নস্যাৎ করে আসাম বিধান সভায় ভাষা বিল গৃহীত হয়ে যায় । আসামে সরকারী ভাষা রূপে একমাত্র অসমীয়া গৃহীত হয় ।আসাম সরকার কাছাড়ের বাঙালি , মনিপুরী ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মানুষের অপর জোর করে অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেয় । সেই সংগে চলে বঙ্গভাষী জনগণের উপর অকথ্য অত্যাচার ও হত্যা । মুখের ভাষা বাংলা হওয়ার জন্য ব্রহ্মপুত্র ভ্যালিতে বাঙালি নির্যাতন চরম রূপ ধারণ করে ।

পাল্টা গণ আন্দোলন শুরু হয় কাছাড় জেলায়স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে । এই আন্দোলনে প্রতিবাদমুখর হয়ে ঊঠে বরাকের মানুষ । ১৯৬০ ইংরেজিতে ব্রহ্মপুত্র ভ্যালির হোজাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় ‘নিখিল আসাম বঙ্গ ভাষাভাষী’ নামক সন্মেলন । হোজাই সন্মেলনে শিলচরের শ্রীমতী জ্যোৎস্না চন্দকে সভানেত্রী করে একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয় । নভেম্বর মাসে শিলচরে অনুষ্ঠিত হয় জাজমোহন নাথের সভাপতিত্বে‘কাছাড় যুগী সন্মিলনী’র বার্ষিক অধিবেশন । ওখানেও সরকারি বিলের বিরোধিতা ওআন্দোলনের সমর্থনে প্রস্তাব পাশ হয় ।১৯৬১ সালের ৫-ই ফেব্রুয়ারি করিমগঞ্জ শহরে অনুষ্ঠিত হয় ,’কাছাড় জেলা জনসন্মেলন’ । সমগ্র কাছাড় জেলা থেকে প্রায় চারশ প্রতিনিধি এতে যোগদান করেন । এই সম্মেলনে বাংলাভাষার স্বীকৃতির দাবীতে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । এই সন্মেলনেই শিলচর , হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জের প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘সংগ্রাম পরিষদ’ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় । এর পর হাইলাকান্দিতে ৮-ই ফেব্রুয়ারি কার্য সমিতিগঠন করা হয় । গণ সংগ্রাম পরিষদের তিন জেলার তিন সম্পাদক যথাক্রমে শিলচরের পরিতোষ পালচৌধুরী , করিমগঞ্জের নৃপতিরঞ্জন চৌধুরী ও হাইলাকান্দিরহরিদাস দেব ।

আন্দোলনে যোগ দান করেন বরাকেরযুব সমাজ , ছাত্র ছাত্রী ও অগুনতি সাধারণ মানুষ ।শ শ মানুষ বের হয়ে এলো মাতৃভাষার জন্য বলিপ্রদত্ত হতে ।

তারপর তো রক্তক্ষয়ী ইতিহাস ।‘ওই ওঠেছে শঙ্খ বেজে , খুললো দুয়ার মন্দিরে যে

লগন বেয়ে যায় পাছে তাই কোথা পুজার অর্ঘ’।

আত্মদানের উত্স ধারায় মঙ্গল ঘট ভরে উঠলো এগারোটি তাজা রক্তে ।

উনিশে মে রয়ে যায় বরাকবাসীর চেতনায়১৯৬১ সালের রক্তঝরা স্মৃতিকথায় । উনিশে মে নিজেই এক ইতিহাস । আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত স্তম্ভ।


তথ্যসূত্র ঃ

*১ বরাক উপত্যকার বাঙালি ঃ অস্তিত্ব ও অবয়বের সঙ্কট ,- সুজিত চৌধুরী , পৃ- ১৩৯( ভারতে বাংলা ভাষা সংগ্রাম একটি মূল্যায়ন প্রচেষ্টা , সম্পাদনা দিলীপকান্তি লস্কর )

*২ মানব দিগন্তের কাঁটা কম্পাস , - অনুরূপা বিশ্বাস , পৃ – ১৮,(ভারতেবাংলা ভাষা সংগ্রাম একটি মূল্যায়ন প্রচেষ্টা , সম্পাদনা দিলীপকান্তি লস্কর )

*৩ শ্রী হট্ট কাছাড়ের ভাষা, সাহিত্য ও সমাজ , জন্মজিত রায় , পৃ - ৩৯