বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯

আসমা অধরার কবিতারা

১৪ মে কবি আসমা অধরার জন্মদিনে অন্যদেশ পরিবারের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।



ঘুঙুর


ও তুলসী!
সারিয়ে দাও পৃথিবীর প্রাচীনতম অসুখ। স্থূল কায়া ধীরে কৃশ হয়ে যায়—বেদ থেকে ভেদ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমিক নগণ্যতায়।

হে দ্রব!
এই যে বিশুষ্ক শর্বরী, শরব্য আশ্রয়ে ঘনীভূত হ’য়ো আরো। সুচারু শঙ্খিনী হস্তে বর্ষাও প্রাঞ্জলের অম্লফোঁটা, কণ্ঠ থেকে কাঠিন্য অবধি তীব্র ব্যথা।

আহা শমন!
আনো সেই কাঙ্ক্ষিত বার্তা। শব্দশাস্ত্র নিশ্চুপ হেতু স্বরলিপির বন্ধ্যা আচরণ, রজস্বলা করো তারে। অ থেকে অন্তর-ব্যাপী তাপিত আত্মার শ্রান্তিরে।

রে কালান্তক,
এই যে কুবের প্রণোদনা—বিফল আহাজারি তবু নিষঙ্গ ছোটে না! মুক্ত করো নীলকণ্ঠী তমিস্রায় পতিত—সেই নিবেদনার্হ ন্যস্ত সত্তারে।


সম্পর্কিত অধ্যায় বিশেষ


নাল:
কবেকার হ্রেষা আজ টগবগ করে ছুঁয়ে যায়
নালের প্রতিধ্বনির তুলে, নির্জন উপকূল মুখরিত।

শঙ্খ:
উপকূল মুখরিত গর্জনেরা মন্থনে সন্নিবেশিত
যেথায়, কান পেতে শোনো কী বলে শঙ্খ নির্জন
রাতে।

মোম:
নির্জন রাতে কোথাও এক বিন্দু আলোর চিহ্ন
নেই, অমাবশ্যা ঘিরে ধরে নিভে যাওয়া মোম।

মৃত্যু:
নিভে যাওয়া মোম আর মৃত্যুর সাদৃশ্য খুঁজি, নিকষ
আঁধার আর সেই মাটির ঘর ওতপ্রোত জড়িত
বাহুল্যবর্জিত ধ্যানে।


কুহক প্রপাত ঘোর


স্বর্ণমৃগ, দেখেছ কি নিরালা জানলার পাশে রাঁধাচূড়োর যত রঙ ঝরে যায় পত্রবৎ, যেন সোনারোদেও মধ্যযাম! আলোয়ান জড়িয়ে ধেয়ে আসে কালকেতু, আসে ফসফরাসের রাত; যেনবা ঝনঝনিয়ে গড়িয়ে গেল কয়েনসমগ্রে জমে থাকা একরোখা ঐকতান।

কেবল যামিনী জানে বুঝি গোপন জটিল যতন, কিন্নরে বাজে রোদনের মতো কেটে যাওয়া সুর। তখনই রক্তিম আঁখি, রক্তাভ পোখরাজ পাখা মেলে উড়ে যায় মৌনবিতান। সেখানে লিখাছিল যত চিৎকার, মৌন গজল, সানাইয়ের সুর; মোৎজার্ট, বিথোফেন, সিম্ফোনি ও অন্ধ গায়কের গেয়ে উঠা আধখানা গান।

তবু লুণ্ঠন শেষে ঈশ্বরঘরে এসে নিশ্চিন্ত ঘুমোয় ‘কু’খ্যাত ডাকাত; শিথানপৈথানে জ্বলে থাকা চোরাচোখ, পিঙ্গলে মেখে আড়াআড়ি দুই হাত! ঘুমোয় ঘোর অঘোরমৃতের ন্যায়, তীব্র শ্লেষে হেসে ওঠে বন্দি, পাশ ফিরে শোয় অপঘাত; সেই দেশে কারা ও রক্ষকের পক্ষাঘাতেই পদপাত।

আহা মৃগ, ছুটছ মায়া হরিণীর পিছু? ওই দ্যাখো, দ্যাখো চেয়ে, ওই ভেঙে ভেঙে ঝরে পড়ে শিউলির ঘ্রাণ। কামিনীও মেলে ধরে মুদে আসা চোখ, কেতকীরে কয় কানে কানে, ক্যামোফ্ল্যাজে হারিয়ে গেল ইটিটকারীর জাতকূলমান।