মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

আইন-ই-আকবরি, হুমায়ুন নামা, তুজুক-ই-জাহাঙ্গিরিতে, - নেই বাবরি মসজিদের উল্লেখ

সুপ্রিম কোর্টে চলছে অযোধ্যা মামলার শুনানি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আশাতে শুনানি চলছে প্রতিদিন । সেই শুনানিতে হিন্দুরা দাবি করলেন যে বাবর কোনোদিন অযোধ্যাতেই আসেননি। সুতরাং তাঁর মসজিদ বানানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

বুধবার প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে রাম জন্মভূমি পুনরুদ্ধার সমিতির তরফে আইনজীবী পিএন মিশ্র বলেন, সম্ভবত কোনোদিন অযোধ্যাতেই আসেননি বাবর।

প্রসঙ্গক্রমে তিনটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেন আইনজীবী মিশ্র। আবুল ফজলের লেখা আইন-ই-আকবরি, হুমায়ুন নামা ও তুজুক-ই-জাহাঙ্গিরি। সেখান থেকেই তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে যুক্তি দেন তিনি। বলেন, কোথাও লেখা নেই যে বাবর এরকম একটি মসজিদ তৈরি করেছিলেন।

এমনকি ঔরঙ্গজেবের একজন অন্যতম কমান্ডার ছিলেন ইতালিয় নিকোলাও মানুচি। তাঁর লেখাতেও বাবরের তৈরি কোনও নির্মাণের কথা পাওয়া যায় না। মীর বকির কথাও উল্লেখ নেই বলে জানান তিনি। মীর বকির এই মসজিদ তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়।

ওই আইনজীবী আরও বলেন যে সম্ভবত, ঔরঙ্গজেবের আমলে ওই এলাকায় কোনও নির্মাণ ভাঙা হয়েছিল, হতে পারে সেটা একটা মন্দির। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের দাবি কার্যত যুক্তিহীন বলে মনে করেন তিনি। এমনকি বাবরি মসজিদের মসজিদসুলভ কোনও বৈশিষ্ট্য ছিল না বলেও মনে করেন তিনি। শুরু থেকেই হিন্দুরা রাম জন্মভূমিতে রামের পুজো করতেন বলে দাবি তাঁর।

অযোধ্যা মামলায় মধ্যস্থতাকারী দিয়েও কোনও সমাধান মেলেনি। কোনও লাভ হয়নি দীর্ঘদিনের বিতর্কিত এই মামলায়। এরপরই পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সিদ্ধান্ত নেয় যে, এবার প্রত্যেকদিনের শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।

৬ অগস্ট থেকে রামজন্মভূমি- বাবরি মসজিদ মামলার প্রাত্যহিক শুনানি শুরু হয়েছে। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ জানিয়েছেন, প্রত্যেকদিন চলবে এই মামলার শুনানি। গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন এই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি এসএ বোবদে, ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ ও এস আব্দুল নাজির। ১৭ নভেম্বর এই মামলায় শীর্ষ আদালত একটি সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।